ঢাকাMonday , 13 April 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সাংগ্রাই উৎসবে মেতেছে পাহাড়

Link Copied!

Boisak-Boronবান্দরবান প্রতিনিধি: পাহাড়, হ্রদ, ঝিরি, ঝর্ণা আর অরণ্যের শহর বান্দরবানে শুরু হয়েছে বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণে পাহাড়িদের প্রাণের উৎসব সাংগ্রাই। এ উৎসবে নতুন আমেজ ও অনুভূতির সৃষ্টি হয় পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসীদের প্রাণে। পুরাতন বছরকে বিদায় এবং নতুন বছরকে বরণের মাধ্যমে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।
বান্দরবানে এই উৎসবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সংগঠন, প্রতিষ্ঠান, সম্প্রদায় ও সর্বস্তরের জনগণ নানা অনুষ্ঠানের উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে। যা ক্ষুদ্র নৃ-জনগোষ্ঠীর সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চায় এনে দেয় নতুন মাত্রা।
চাকমাদের ভাষায় এ উৎসবকে বিজু, ত্রিপুরাদের ভাষায় বৈসুক, মার্মাদের ভাষায় সাংগ্রাই, তঞ্চঙ্গ্যাদের ভাষায় বিষু নামে আখ্যায়িত করা হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ১১টি জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রধান তিন সম্প্রদায়ের প্রাণের এই উৎসবের নামের আদ্যাক্ষর নিয়ে এই মহান উৎসবকে অনেকেই ‘বৈসাবি’ নামে অভিহিত করে থাকে। তবে প্রতিটি সম্প্রদায়ই নিজ নিজ নামে অভিহিত করে নিজ উৎসবকে। বৈসাবি উৎসবের ‘সা’ আদ্যাক্ষরটি পাহাড়ের অন্যতম নৃ-গোষ্ঠী মারমাদের ‘সাংগ্রাই’ উৎসব থেকে নেয়া। মার্মাদের অন্যতম প্রধান সামাজিক উৎসব হলো সাংগ্রাই। মার্মারা সাধারণত চন্দ্রমাস অনুসারে এ দিনটি পালন করে থাকে। সাংগ্রাই উৎসব উদযাপনের সময় মার্মা তরুণ-তরুণীরা পিঠা তৈরি করার জন্য চালের গুঁড়া প্রস্তুত করে। এসময় পানিখেলা বা ‘জলকেলি’ হয়। এই খেলায় এক জায়গায় পানি ভর্তি রেখে তরুণ-তরুণীরা একে অন্যের দিকে পানি ছুড়ে মারে। স্নিগ্ধতা, ভালোবাসা আর শ্রদ্ধায় ভিজিয়ে দেয় পরস্পরকে।
এ ছাড়া এ দিনে মার্মারা বৌদ্ধমন্দিরে গিয়ে ধর্মীয় বাণী শ্রবণ করে। গিলার বিচি দিয়ে ‘গিলাখেলা’ এসময় মারমাদের একটি প্রিয় খেলায় পরিণত হয়। তা ছাড়া গ্রাম্য ছেলেমেয়েরা গুদু (হাডুডু) খেলায় মেতে ওঠে আর আকাশ প্রদীপ জ্বালিয়ে মহানন্দে বাজি ফাটায়।
প্রতিবছরই ঘুরে ফিরে আসে বিজু, বিষু, বিহু, সাংগ্রাই উৎসব। পাহাড়ে ছড়িয়ে পড়ে প্রাণের আবেশ। নব-আনন্দে জাগে পাহাড়ের প্রাণ। পার্বত্যাঞ্চল জুড়ে শুরু হয় এক মহামিলনের মেলা। আর তাই বৈসাবি উৎসব হয়ে ওঠে পাহাড়ের প্রাণের উৎসব। মার্মা, চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা, বম, খিয়াং, লুসাই, পাংখোয়া, ম্রো, খুমি, চাক ও ত্রিপুরা এ ১১ টি ক্ষুদ্র নৃ-জনগোষ্ঠী তাদের ভাষা-সংস্কৃতি ও অবস্থানকে বৈচিত্রময় করে তুলতে প্রতি বছর চৈত্রের শেষ দিন থেকে সাংগ্রাই উৎসব পালন করে থাকে।আজ ১৩ই এপ্রিল থেকে র‌্যালী, পান্তা ইলিশ, বর্ষ বরণের গান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পাহাড়ীদের জলকেলীসহ শুরু হয়েছে নানা আয়োজন। চলবে ১৬ই এপ্রিল পর্যন্ত।