মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা শহরে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণের পর ফের চারটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। মাত্র আধাঘণ্টার ব্যবধানে মোট ছয়টি ককটেল বিস্ফোরণে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। রোববার বিকেল ৩টার দিকে গাংনী উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে বিকট শব্দে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এতে আশপাশের ব্যবসায়ী, পথচারী ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে গাংনী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিস্ফোরিত ককটেলের স্প্লিন্টার উদ্ধার করে। এ ঘটনার পরও এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছিল। এর প্রায় আধাঘণ্টা পর বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটের দিকে গাংনীর বাঁশবাড়িয়া আনসার-ভিডিপি ক্লাবের টিনের চালে পরপর আরও চারটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পরপরই পুলিশ ও র্যাবের সদস্যরা ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলেন। সেখান থেকেও বিস্ফোরিত ককটেলের স্প্লিন্টার উদ্ধার করা হয়। বিস্ফোরণের ঘটনাস্থলের পাশেই তখন বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র্যালি ও সমাবেশের প্রস্তুতি চলছিল। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করতেই পরিকল্পিতভাবে দুর্বৃত্তরা এসব ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। গাংনী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল বলেন, উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজনে ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করতেই একটি মহল এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। গাংনী পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এডাম সুমন বলেন, তিনি দলীয় কার্যালয়ের ভেতর থেকে বের হওয়ার সময় পরপর দুটি ককটেল বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এতে মুহূর্তেই শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। র্যালি ও আলোচনা সভা পণ্ড করতেই একটি কুচক্রী মহল এ ঘটনা ঘটাতে পারে বলে অভিযোগ করেন তিনি। গাংনী থানার তদন্ত কর্মকর্তা শিমুল কুমার দাস জানান, ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরিত ককটেলের স্প্লিন্টার সংগ্রহ করা হয়েছে। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা শনাক্ত করতে ইতোমধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। এদিকে, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর নির্ধারিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গাংনী শহরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

