রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর সেকশনে অবস্থিত ‘গরীবে নেওয়াজ বহুমুখী সমবায় সমিতি লিঃ’-এর বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি, জালিয়াতি ও সদস্যদের সম্পত্তি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে সমিতির সঙ্গে যুক্ত ৬৪টি পরিবার তাদের বসতভিটা ও জমির মালিকানা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, সমিতির মাধ্যমে জমি ক্রয়, বরাদ্দ ও মালিকানা সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার সময় তাদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হলেও পরবর্তীতে জমির কাগজপত্র, মালিকানা ও দখল নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এতে অনেক পরিবার তাদের দীর্ঘদিনের বসতভিটা হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, সমিতির আর্থিক লেনদেন ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে। সদস্যদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের হিসাব, জমি ক্রয়-বিক্রয় এবং সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এসব বিষয়ে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
কাগজপত্র নিয়ে প্রশ্ন
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বছরের পর বছর অর্থ পরিশোধ করার পরও অনেক সদস্য তাদের জমির পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভুল কাগজপত্র হাতে পাননি। কোথাও জমির পরিমাণ, কোথাও মালিকানা এবং কোথাও দখল নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে বলে তারা জানান।
তাদের আরও অভিযোগ, সমিতির কিছু সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম সদস্যদের অগোচরে পরিচালিত হয়েছে। ফলে বর্তমানে জমির প্রকৃত মালিকানা, সমিতির সম্পদের পরিমাণ এবং সদস্যদের পাওনা-দেনার হিসাব নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।
৬৪ পরিবারের উদ্বেগ
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছেন। তাদের অভিযোগ, নিজেদের সঞ্চয় ও কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে জমি বা আবাসনের আশায় সমিতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে জমি হারানোর আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করা এবং তাদের সম্পত্তি ও অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। তদন্তের দাবি ভুক্তভোগী পরিবারগুলো সমিতির আর্থিক লেনদেন, জমি ক্রয়-বিক্রয়, সদস্যদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ, সম্পত্তির বর্তমান অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা সমবায় অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেছেন, তদন্তের মাধ্যমে অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং ক্ষতিগ্রস্ত সদস্যদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হোক। এদিকে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে সমিতির বর্তমান ও সাবেক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়া জরুরি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে। ৬৪ পরিবারের দাবি—তাদের ভিটেমাটি ও কষ্টার্জিত অর্থ রক্ষায় দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

