নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ডিসিসি দক্ষিণের মেয়র পদপ্রার্থী মির্জা আব্বাসসহ যেসব প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে তাদের কেউই ছাড় পাচ্ছেন না। তাদেরকে গ্রেপ্তারে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলামের বক্তব্যে অন্তত তাই বেরিয়ে এসেছে। যদিও তিনি কারো নাম ধরে কোনো বক্তব্য দেননি। শনিবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী যেসব প্রার্থীর নামে ফৌজদারি মামলা রয়েছে তাদের কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।’
তিনি জানিয়েছেন, ডিসিসি উত্তর ও দক্ষিণের নির্বাচনে মোট ৭ মেয়র প্রার্থী এবং ২৫০ জন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। তাদেরকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
বিএনপি নেতা ও মেয়রপ্রার্থী মির্জা আব্বাসের নামে বর্তমানে ৩৭টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২২টি মামলাই হয়েছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের দুই মেয়াদে।
এছাড়া তার নামে আগে থেকেই ছিল ২৪টি মামলা। সেগুলো থেকে তিনি অব্যাহতি বা খালাস পেয়েছেন।
মামলার ভয়ে তিনি প্রকাশ্যে না এসে তার আত্মীয়-স্বজন ও সমর্থকদের দিয়ে মনোনয়নপত্র নিয়েছেন এবং দাখিল করেছেন। তার প্রার্থিতা বৈধ বিবেচিত হওয়ারপর থেকে তার হয়ে মাঠে নেমে প্রচারণা চালাচ্ছেন তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাস।
এদিকে, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে গণসংযোগ করার সুযোগ করে দিতে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় আগাম জামিনের দাবি জানিয়েছে বিএনপি।
শনিবার দুপুর ১২টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান দলটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন।
আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ‘নির্বাচনকালে যাতে প্রার্থীরা জনসংযোগ করতে পারেন, প্রার্থীদের মধ্যে যাতে গ্রেপ্তারের ভয় না থাকে সেই বিবেচনা থেকে প্রার্থীদের আগাম জামিন দিতে হবে।’
নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের স্বাভাবিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে, প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা চালাতে দিতে হবে এবং নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। অন্যথায় নির্বাচন জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি মনে করে, নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ, প্রতিযোগিতামূলক ও উৎসবমুখর। কিন্তু ক্ষমতাসীনরা সেটা হতে দেবে না। কারণ আওয়ামী লীগ জনগণের মুখোমুখি হতে ভয় পায়।’
সরকার বিএনপির প্রার্থীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখার চক্রান্ত করছে বলেও তিনি দাবি করেন।

