ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: শৈলকুপা উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের ৫০টি গ্রাম পাঁচ দিন ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। বিদ্যুৎ না থাকায় রাত জেগে লেখাপড়া করতে পারছেন না তারা। তবে এসব এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে আরও ১০ দিন লাগবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার ভোররাতে কালবৈশাখী ঝড়ে ওই তিনটি ইউনিয়নের ৫০ গ্রাম লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। এরপর থেকেই এসব এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুতের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার রবিউল হক জানান, ঝড়ে পুরো বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ২০টি খুঁটি ভেঙে গেছে। এলাকায় বিদ্যুৎকর্মীরা কাজ করছেন। শেষ হতে আরও ১০ দিন সময় লাগবে।
বিদ্যুৎ না থাকায় সমস্যায় পড়েছে ওই এলাকার হাজার হাজার মানুষ। বেশি সমস্যায় পড়েছে শিশু ও বৃদ্ধরা। বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন তারা। মোবাইলে চার্জ দিতে না পারায় কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না গ্রাহকরা।
কাঁচেরকোল ইউনিয়নের উত্তর মির্জাপুর গ্রামের সাবেক মেম্বর লিটন মুন্সী জানান, সোমবার থেকে বিদ্যুৎ নেই। ফ্রিজে যেসব খাবার ছিল তাও নষ্ট হয়ে গেছে। মোবাইলে পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে চার্জ দিয়ে নিয়ে এসেছেন। আরও ১০ দিন যদি বিদ্যুৎ না আসে তাহলে খুব সমস্যায় পড়তে হবে তাদের।
সারুটিয়া ইউনিয়নের কাতলাগাড়ী গ্রামের কৃষক রোকন উদ্দিন জানান, বিদ্যুতের কারণে দুই দিন জমিতে সেচ দিতে পারছেন না তিনি। এভাবে যদি আরও ক’দিন যায় তাহলে ফসলের বেহাল দশা হবে। ফলন নিয়েও চিন্তিত তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিজয় কৃষ্ণ হালদার জানান, এ মুহূর্তে ইরি-বোরো চাষে সেচ খুব জরুরী। এখন ধান গাছে ফুল আসার সময়। বিদ্যুতের অভাবে সেচ পাম্পগুলো বন্ধ থাকলে ক্ষতি হবে বলে আশাঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

