মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামে বিএনপির এক কর্মীর বাড়ির গেটে হাতবোমা সদৃশ একটি বস্তু রেখে পালিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একই গ্রামে এর আগেও একাধিকবার বোমা উদ্ধার ও হামলার ঘটনা ঘটায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রোববার দিবাগত রাতে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলা চলাকালে সাহারবাটি গ্রামের বাজারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, খেলা দেখায় ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে ৩ জন মুখোশধারী ব্যক্তি বিএনপি কর্মী বরকত আলীর বাড়ির গেটের সামনে লাল কসটেপে মোড়ানো একটি পলিথিনের প্যাকেট রেখে পালানোর চেষ্টা করে। বরকত আলী সাহারবাটি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাজারের নাইটগার্ড সন্দেহজনক ৩ ব্যক্তির গতিবিধি লক্ষ্য করলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে পলিথিনের ভেতরে লাল টেপে মোড়ানো হাতবোমা সদৃশ বস্তু দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা গাংনী থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে গাংনী থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তুটি উদ্ধার করে। নিরাপত্তার স্বার্থে সেটি প্রথমে পানি ভর্তি বালতিতে সংরক্ষণ করা হয় এবং পরে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সাবেক ছাত্রনেতা আসমাউল হুসমা বলেন, “গ্রামের অধিকাংশ মানুষ তখন বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা দেখতে ব্যস্ত ছিলেন। সেই সুযোগে দুর্বৃত্তরা বরকত আলীর বাড়ির সামনে বোমাটি রেখে যায়। নাইটগার্ড দেখে ফেলায় তারা দ্রুত পালিয়ে যায়।” গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মূর্শেদ বলেন, “স্থানীয়দের সংবাদ পেয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে হাতবোমা সদৃশ বস্তুটি উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।” তিনি আরও জানান, সম্প্রতি গাংনী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে যেসব বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে, সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নিরাপদে নিষ্ক্রিয় (ডিসপোজ) করার জন্য খুলনা বোমা ডিসপোজাল ইউনিটকে অনুরোধ করা হয়েছে। সোমবার সকালে ইউনিটটির একটি বিশেষজ্ঞ দল মেহেরপুরে এসে মোট সাতটি বোমা সদৃশ বস্তু নিষ্ক্রিয় করবে। পরীক্ষার পর তারা একটি কারিগরি প্রতিবেদনও দেবে, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। স্থানীয়রা জানান, সাহারবাটি গ্রামে সম্প্রতি কয়েক দফায় বোমা উদ্ধার ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর আগে বরকত আলীর কয়েক বিঘা জমির লাউক্ষেত কেটে নষ্ট করে দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে তার কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়। এ ছাড়া বরকত আলীর নিকট আত্মীয় ও সাহারবাটি ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মুকুল হোসেনের ওপর সম্প্রতি গুলি ও বোমা হামলার ঘটনাও ঘটে। গুরুতর আহত মুকুল হোসেন বর্তমানে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একের পর এক বোমা হামলা, বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে সংঘটিত সহিংস ঘটনায় মেহেরপুর, বিশেষ করে গাংনী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জনমনে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে। স্থানীয়রা দ্রুত এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত এবং আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ বলছে, পূর্ববর্তী কয়েকটি বোমা হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর সঙ্গে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত কি না, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

