ঢাকাSaturday , 18 July 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ নেই, চিকিৎসক সংকট; বেহাল দশা ঈদগাঁও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে

Link Copied!

নানা সীমাবদ্ধতা, তীব্র চিকিৎসক সংকট, নিরাপত্তা ও আবাসন সমস্যার মধ্য দিয়ে কোনো রকমে জোড়াতালি দিয়ে চলছে ঈদগাঁও ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের আলাদা কোনো অর্থনৈতিক কোড না থাকায় বেতন-ভাতার অভাব এবং পর্যাপ্ত বসার জায়গা না থাকার কারণে মেডিকেল অফিসাররা অন্যত্র বদলী হয়ে চলে যাচ্ছেন। ফলে এই কেন্দ্রে প্রতিদিন আসা বিপুল সংখ্যক রোগীকে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এমনকি এখানে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষার (ডায়াগনস্টিক) সুযোগ না থাকায় রোগীরা বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতালের দিকে ঝুঁকছেন।

নতুন ভবনের তোড়জোড়, পুরনো ভবন অপসারণ

​অবশ্য চিকিৎসাসেবার মান বাড়াতে ও অবকাঠামোগত সংকট দূর করতে ইতিমধ্যে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ঈদগাঁও উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিত্যক্ত তিনটি পুরনো ভবন ভেঙে ফেলা হয়েছে। সেখানে ৫ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে বলে জানা গেছে।

​এক ভবনে তিন প্রতিষ্ঠানের হিড়িক

​বর্তমানে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ থেকে স্বাস্থ্য বিভাগকে হস্তান্তর করা একটি মাত্র দুই তলা বিশিষ্ট ভবনে গাদাগাদি করে চলছে তিনটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। এই ভবনেই চলছে জালালাবাদ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র এবং ঈদগাঁও ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সেবা। পাশাপাশি নতুনভাবে একই ভবনে অনুমোদন দেয়া হয়েছে সদ্য ঘোষিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম পরিচালনারও।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, ​”নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়েই আমাদের কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। কেন্দ্রে প্রতিদিন রোগীর চাপ খুব বেশি, কিন্তু সে তুলনায় পর্যাপ্ত অফিস করার ব্যবস্থা বা সুযোগ-সুবিধা নেই।”

​চিকিৎসক ও জনবল সংকট

​হাসপাতালটিতে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের ৮ জন মেডিকেল অফিসার নিয়োগ দেয়া হলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৩ জন (যার মধ্যে একজন বিডিএস ডাক্তার)। বাকিদের মধ্যে একজনকে জেলা সদর হাসপাতালে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং অন্যরা প্রতিকূল পরিবেশ ও বেতন-ভাতার অভাবে অন্যত্র বদলী হয়ে গেছেন। বর্তমানে ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে জালালাবাদ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্মরত মেডিকেল অফিসার রোখসানা আফাজকে এ উপজেলায় স্বাস্থ্য ও পরিবার- পরিকল্পনা কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

​অরক্ষিত কম্পাউন্ড ও বর্জ্যের স্তূপ

​চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি কেন্দ্রটির ভেতরের পরিবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নাজুক। পুরো কেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য ১০ জন আনসার সদস্য থাকার কথা থাকলেও, আবাসন সংকটের কারণে তাদের নিয়োগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে মাত্র একজন গার্ডের পক্ষে বিশাল এ কম্পাউন্ডের নিরাপত্তা সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। মেইন গেইটের ব্যবস্থা করা হলেও মাঝেমধ্যে দুষ্কৃতকারীরা তার তালা ভেঙে ফেলে কিংবা গাম লাগিয়ে নষ্ট করে দেয়। এছাড়া হাসপাতালের কম্পাউন্ডের ভেতরেই রয়েছে বড় বড় দুটি ময়লার স্তূপ, যা পরিবেশকে দিন দিন আরো অস্বাস্থ্যকর করে তুলছে।

ঈদগাঁও উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার- পরিকল্পনা কর্মকর্তা রোখসানা আফাজ জানান, তিনি অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকায় সীমিত সাধ্যের মধ্য দিয়ে তাকে কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে।
তিনি এ কেন্দ্রে যোগদানের পর মেইন গেট স্থাপন করে কার্যক্রমে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন।
তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক চিঠি চালাচালি অব্যাহত রাখবেন বলে জানান।
একটি ভবনে তিনটি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আবাসনের ব্যবস্থা না থাকায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা রক্ষী নিয়োগ করা যাচ্ছে না।
জনগণের সেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এ উপ-কেন্দ্রের উন্নয়নে তিনি যথাযথ আন্তরিকতার সাথে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করবেন।

কক্সবাজার সদর উপজেলার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা টিটু চন্দ্র শীল বলেন, ঈদগাঁও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নতুন ভবনের জন্য সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ৫ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে। টেন্ডারের মাধ্যমে পরিত্যক্ত তিনটি পুরনো ভবন ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে। স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধানে নতুন টেন্ডার আহবানের মাধ্যমে নয়া ভবনের নির্মাণ কার্যক্রম শুরু করা হবে।
তার মতে, বিশ্ব ব্যাংকের ‘ইন্টারন্যাশনাল সাপোর্ট অরগানাইজেশন প্রকল্প সরকারের অনুমতিক্রমে নতুন ভবনের নির্মাণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে। তবে বাজেটের সমুদয় টাকা বাংলাদেশ সরকারের তহবিল (জিওবি) থেকে মঞ্জুর করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।সিভিল সার্জন এসব কিছুর ব্যবস্থাপনা করছেন।

ইতোপূর্বে ঈদগাঁও উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা এ কর্মকর্তা আরো জানান, নতুন ভবনটির নির্মাণ কার্যক্রম শেষ হলে বিধিমতে সেখানে কনসালটেন্ট, মেডিকেল অফিসার নিয়োগ সহ ডেলিভারি, গর্ভবতী, মা ও শিশুর সেবা এবং বহির্বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তবে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র ৫০ শয্যার বা বিশেষায়িত হাসপাতাল না হওয়ায় এতে রোগী ভর্তি করা যাবে না। তবে আগ্রহীরা বহির্বিভাগ থেকে সেবা নিতে পারবেন।

নিয়োগকৃত মেডিকেল অফিসাররা অন্যত্র চলে যাচ্ছেন-এ বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, জীবনের প্রথম সরকারি চাকরিতে বেতন- ভাতা না পেলে মনে কষ্ট তো লাগবে।
তবে এ উপজেলায় অর্থনৈতিক বেতন কোড চালু হলে নতুনভাবে পুনরায় জনবল নিয়োগ দেয়া হবে। তিনি এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা অনেক আগেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর পৌঁছানো হয়েছে বলে জানান।

পুরনো ভবন গুলো ভেঙ্গে ফেলা এবং নতুন ভবন নির্মাণ প্রসঙ্গে কক্সবাজার জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার মোহাম্মদ ছাবের বলেন, পরিত্যক্ত তিনটি ভবন ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে। ঈদগাঁও ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে।
স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এসব বিষয় দেখভাল করছে।
তিনি জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অর্থায়নে এবং স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধানে নতুন ভবন নির্মাণ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে। জেলা সিভিল সার্জন অফিস, ঈদগাঁও ও কক্সবাজার সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার- পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় নতুন ভবনটি বুঝে নেবে।

তবে ভবন নির্মাণে অর্থায়ন, বাস্তবায়ন কার্যক্রম তত্ত্বাবধান, টেন্ডার আহ্বানসহ বিধি মোতাবেক অন্যান্য কার্যক্রমের ব্যাপারে পরবর্তীতে আস্তে আস্তে জানা যাবে বলে উত্তর দেন তিনি।