ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের মাইজবাগ পাছপাড়া গ্রামে জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠে এসেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. হাসিম উদ্দিন ঈশ্বরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুলাই বিরোধপূর্ণ জমির বিষয়টি মীমাংসার লক্ষ্যে উপজেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি ও মাইজবাগ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নিজাম উদ্দিনের উদ্যোগে একটি গ্রাম্য সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। তবে সালিশের নিষ্পত্তির আগেই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভুক্তভোগীর বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় ঘরের টিনের বেড়া, দরজা-জানালা, খাট, আলমারি, স্যুটকেস, টেলিভিশন, ফ্রিজ, হাড়ি-পাতিলসহ বিভিন্ন গৃহস্থালি সামগ্রী ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা। হামলার ঘটনায় নারীসহ ৭ থেকে ৮ জন আহত হন। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে গুরুতর আহত দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা ঘরে থাকা জমি বন্ধক বাবদ সংরক্ষিত ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং তার ছোট ভাই মো. মোশারফের ঘর নির্মাণের জন্য রাখা আরও ২ লাখ টাকা নিয়ে যায়। সব মিলিয়ে ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা লুটের অভিযোগ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী মো. হাসিম উদ্দিন বলেন, “আমার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। অন্যদিকে অভিযুক্তদের দাবি, তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। তাদের ভাষ্য, বাড়িঘর তারা নিজেরাই ভাঙচুর করেছে। আমাদের বিরুদ্ধে আনা এ অভিযোগ সত্য নয়। এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম বলেন, ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

