ঢাকাMonday , 6 July 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পাহাড় ধ্বসে শিশুসহ ৯ জনের মৃত্যু, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

Link Copied!

কয়েকদিনের প্রচন্ড তাপদাহের পর গত চব্বিশ ঘন্টার টানা ভারী বর্ষণে পর্যটন নগরী কক্সবাজার শহরের ১২নং ওয়ার্ডের সত্তের ঘোনা ১জন ও উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৮ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গতকাল রবিবার দিবাগত রাত থেকে আজ ভোর পর্যন্ত কয়েক দফা পাহাড়ধসের এসব ঘটনা ঘটে। এতে আরো অন্তত কয়েকজন আহত হয়েছে। সূত্রে জানা যায়, রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে। ভারী বৃষ্টির মধ্যে পাহাড়ধসে আশ্রিত রোহিঙ্গা মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের বসতঘর মাটিচাপা পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই কামাল হোসাইন, তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম এবং ৪ বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাস নিহত হন। উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং আহত অবস্থায় আরো দুজনকে উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে রাত ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে পাহাড় থেকে নেমে আসা মাটির নিচে চাপা পড়ে ৭ বছর বয়সী রোহিঙ্গা শিশু একরামের মৃত্যু হয়। নিহত একরাম ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ রশিদের ছেলে। ক্যাম্পের মাঝি এনায়েত উল্লাহ জানান, স্থানীয় রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন। সর্বশেষ রাত ৩টার দিকে বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে আরেকটি পাহাড়ধসে নারী ও শিশুসহ চারজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এ ঘটনায় একজন আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে। নিহতরা হলেন আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে উম্মে হাবিবা ও তার বোন তানজিনা আক্তার, এবং মোহাম্মদ রশিদের দুই ছেলে মোহাম্মদ রিহান ও হারুনুর রশিদ। এদিকে টানা বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের শঙ্কা বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। কক্সবাজার সদর ও উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) বলেন, ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থানকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে। সবাইকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।’ অন্যদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, কক্সবাজারে গত ২৪ ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। কক্সবাজারের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান বলেন, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আগামী আরো দুই দিন ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়ধসের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী সবাইকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এদিকে টানা বৃষ্টিতে শহরের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে কোমর পানিতে নিমজ্জিত। ফলে জন ও যান চলাচলে জন দুর্ভোগ চরমে। এছাগা ২দিনের টানা বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন স্থানের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।