ঢাকাSunday , 5 July 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মেহেরপুর বিআরটিএতে সহকারী পরিচালক না থাকায় দুই কর্মচারীর দৌরাত্ম্যে চরমে

Link Copied!

মেহেরপুর বিআরটিএ অফিস এখন দুর্নীতির পাহাড়। দীর্ঘদিন যাবৎ অফিসটিতে সহকারী পরিচালক না থাকায় অফিসের দুই ব্যক্তির দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে সেবা প্রত্যাশিরা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, লাইসেন্সে লাখো টাকার ঘুষ বাণিজ্য চলছে অফিসটিতে। এছাড়া ছোট কাজেও ছুটতে হচ্ছে কুষ্টিয়ায়, এতে বেড়েছে ভোগান্তি। মেহেরপুর বিআরটিএ অফিসে দীর্ঘদিন ধরে সহকারী পরিচালক (এডি) পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক স্থবিরতার সুযোগে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। সেবাপ্রত্যাশীদের দাবি, কার্যত মোটরযান পরিদর্শক সাইদুর রহমান এবং কার্যনির্বাহী সহকারী (চুক্তিভিত্তিক) শাহনুর হোসেন স্বাধীনকে কেন্দ্র করেই অফিসের অধিকাংশ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষকে প্রতিটি ধাপে ভোগান্তি, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন, ফিঙ্গারপ্রিন্ট, মালিকানা হস্তান্তর, ফিটনেস, রেজিস্ট্রেশনসহ প্রায় প্রতিটি সেবাতেই ঘুষ ছাড়া কাজ এগোয় না। এমনকি ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়ার ক্ষেত্রেও জনপ্রতি ২০০ টাকা করে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে আবেদনকারীদের কাছ থেকে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি করা হয়। দাবি অনুযায়ী অর্থ না দিলে বছরের পর বছর বিভিন্ন অজুহাতে ফাইল ঝুলিয়ে রাখা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন একাধিক সেবাপ্রত্যাশী। আরও গুরুতর অভিযোগ হলো, নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করেও অর্থের বিনিময়ে লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়ার অনিয়ম চলছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, পরীক্ষা ছাড়াই রাতের আঁধারে লাইসেন্স অনুমোদনের মতো ঘটনাও ঘটছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে ২০২৪ সালের শেষ দিকে মেহেরপুর বিআরটিএ অফিসকে চুয়াডাঙ্গা সার্কেল থেকে কুষ্টিয়া সার্কেলের সঙ্গে সংযুক্ত করার পর সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। আগে চুয়াডাঙ্গা সার্কেলের সহকারী পরিচালক সপ্তাহে অন্তত দুই দিন মেহেরপুরে দায়িত্ব পালন করতেন। বর্তমানে কুষ্টিয়া বিআরটিএ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সপ্তাহে মাত্র একদিন অফিস করেন। অনেক সময় সেদিনও অনলাইন সভা বা সরকারি ব্যস্ততার কারণে উপস্থিত থাকতে পারেন না। ফলে অধিকাংশ প্রশাসনিক কাজের জন্য ৫৮ কিলোমিটার দূরের কুষ্টিয়ায় যেতে বাধ্য হচ্ছেন সেবাপ্রত্যাশীরা। মেহেরপুর থেকে কুষ্টিয়ার দূরত্ব প্রায় ৫৮ কিলোমিটার, যেখানে চুয়াডাঙ্গার দূরত্ব মাত্র ৩৮ কিলোমিটার। ফলে অতিরিক্ত সময়, যাতায়াত ব্যয় এবং কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। মেহেরপুর বিআরটিএ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮২ সাল থেকে এ জেলায় ৩৬ হাজার ৪৬৩টি মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের নিবন্ধন হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই সরকার প্রায় ৯৬ লাখ ৮৩ হাজার ৪৯৮ টাকা রাজস্ব পেয়েছে। ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত শুধু মোটরসাইকেল নিবন্ধন হয়েছে ১৭ হাজার ৫৬৩টি। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি হিসাবে নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা সীমিত হলেও জেলার সড়কে প্রতিদিন শত শত বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল করছে, যেগুলোর একটি অংশের নিবন্ধন ও বৈধ কাগজপত্র নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এসব অনিয়ম সড়ক নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে বলে দাবি তাদের। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, অফিস থেকে পাওয়া মোটরসাইকেল নিজের নামে হস্তান্তরের জন্য তাকে কুষ্টিয়ায় যেতে হচ্ছে। আগে চুয়াডাঙ্গার মাধ্যমে সহজেই কাজ সম্পন্ন করা গেলেও এখন একই কাজ করতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে। সেবাপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, সহকারী পরিচালক না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে। এই সুযোগে দালালচক্রও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। দ্রুত কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, স্বতন্ত্র জেলা হিসেবে মেহেরপুর বিআরটিএ অফিসে অবিলম্বে স্থায়ী সহকারী পরিচালকসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিতে হবে। একই সঙ্গে অফিসে ওঠা ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা। তবে এ প্রতিবেদনে উল্লিখিত ঘুষ, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে মোটরযান পরিদর্শক সাইদুর রহমান, কার্যনির্বাহী সহকারী শাহনুর হোসেন স্বাধীন এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।