নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশ মোতায়েন থাকায় গ্রেপ্তার আতঙ্কে রয়েছে নেতাকর্মীরা। বুধবার সকাল থেকেই বিএনপির কার্যালয়ের আশপাশে পুলিশকে দায়িত্বপালন করতে দেখা যায়। ওই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী সন্দেহভাজনদের তল্লাশিও করা হচ্ছে। ফলে গ্রেপ্তারের ভয়ে কার্যালয়ের আশপাশে ভিড়ছেন না বিএনপি নেতাকর্মীরা। আগে থেকে যারা কার্যালয়ে অবস্থান করছেন তারাই এখন দলের কাণ্ডারী।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সারাদেশে জামায়াতের ডাকা হরতালকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টের মতো নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামেন সতর্ক অবস্থায় রয়েছে পুলিশ। যদিও যুদ্ধাপরাধী কামারুজ্জামানের রায়ের বিরুদ্ধে দেয়া জামায়াতের এ হরতালে জোটের প্রধান দল বিএনপির কোনো সমর্থন নেই বলে জানিয়েছে দলটির সংশ্লিষ্ট সূত্র।
কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান করা বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক আব্দুল লতিফ জনি বলেছেন, ‘গত দুই-তিনদিন ধরেই কার্যালয়ের সমানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ইতোমধ্যে আমাদের ১২ থেকে ১৩ নেতাকর্মীকে তারা আটক করেও নিয়ে গেছে। সে কারণে দলীয় নেতাকর্মীরা গ্রেপ্তার আতঙ্কে রয়েছে।’
পল্টন থানার ওসি গোলাম মোর্শেদ আলম বলেন, ‘বিএনপি কার্যালয়ে নিরাপত্তা দেয়া আমাদের দায়িত্ব। এটার অংশ হিসেবেই প্রতিনিয়ত আমরা নিরাপত্তা দিয়ে আসছি। আজ আলাদাভাবে কোনো পরিকল্পনা করা হয়নি।’
মতিঝিল জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এটি পুলিশের রুটিন ওয়ার্ক। আগে থেকেই কার্যালয় এবং আশপাশ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার রয়েছে, কাউকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে নয়।’
এদিকে গত ৫ জানুয়ারি ২০ দলের ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’কে সামনে রেখে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। গত ৩ জানুয়ারি নয়াপল্টন কার্যালয় থেকে কর্মচারীদের বের করে দিয়ে সেখানে পুলিশ তালা ঝুলিয়ে দেয়। গত শুক্রবার দুপুরে কার্যালয়ের সামনে থাকা পুলিশ সদস্যদের সরিয়ে নেয়া হয়।
এরপর গত শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ৩ মাস বন্ধ রাখার পর দলের সহ-দপ্তর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীনের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা নয়াপল্টন কার্যালয়ের কলাপসিবল গেটের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।

