চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: নগরীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা চালুর দাবিতে চট্টগ্রাম ব্যাটারিচালিত রিকশা চালক-মালিক শ্রমিক লীগের ব্যানারে মানববন্ধন করেছেন চালক-মালিকরা।
বুধবার সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্ত্বরে এ মানববন্ধনে অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধন থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নগরীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা চালুর দাবি জানান চালক-মালিকরা। অন্যথায় লাগাতার হরতালসহ কঠোর আন্দোলনেরও হুশিয়ারি দেয়া হয়।
মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় শ্রমিক লীগের চট্টগ্রাম মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রশাসনের কাছে ব্যাটারি রিকশা চালক মালিকদের যৌক্তিক দাবিগুলো তুলে ধরা হলেও তাদের হৃদয়ে বিন্দুমাত্র সহানুভূতি উদয় হয়নি। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যদি ব্যাটারি রিকশা চালুর ব্যবস্থা না করে লাগাতার হরতাল কর্মসূচি পালন করবে চালকরা।’
তিনি আরো বলেন, ‘প্রায় একমাস ধরে ব্যাটারি রিকশা না চলায় চালকরা তাদের ছেলে-মেয়েদের জন্য খাবার জোগাড় করতে পারছে না। রিকশায় মটর লাগানোর ফলে অতীতে যে অমানবিক পরিশ্রম করতে হতো তা অনেক কমে গেছে। নগরীর প্রায় ৫০ হাজার রিকশা চালকদের বেকার রেখে দেশের উন্নয়ন করা সম্ভব নয়।’
চট্টগ্রাম ব্যাটারিচালিত রিকশা চালক-মালিক লীগের সভাপতি স্বপন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. সোহাগ, সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব ধরসহ শ্রমিক নেতারা।
এদিকে বুধবার দুপুর ১২ টার দিকে ব্যাটারি চালিত রিক্সা চলাচলের দাবিতে সিএমপি কমিশনারকে স্মারকলিপি দেয় চট্টগ্রাম রিক্সা ও ব্যাটারী চালিত রিক্সা চালক-মালিক সংগ্রাম পরিষদ।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত এবং হাইকোর্ট হইতে রিটের সময় বৃদ্ধি না করা পর্যন্ত ব্যাটারি চালিত রিক্সা চলাচলের দাবিতে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে ব্যাটারি চালিত রিকশার সুবিধা সম্পর্কে তুলে ধরা হয় এবং বর্তমানে ব্যাটারী চালিত রিকশা বন্ধ করে দেওয়ায় কমপক্ষে ৮০ হাজার পরিবার অর্থাৎ ২ হইতে ৩ লক্ষ মানুষ অনাহারে অর্ধাহারে দিনাপতিপাত করছে বলে উল্লেখ করা হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়- ব্যাটারি চালিত রিকশা প্রতিবন্ধী এবং ৬০ বৎসরের উর্ধ্বে লোকেরা সহজেই চালাতে পারে। ব্যাটারি চালিত রিকশা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক প্রতিবন্ধি সহ বহু রিকশা চালক সর্বশান্ত হয়ে পড়ছে। অপরদিকে সিএনজি অটো রিকশার ভাড়া দ্বিগুণ বেড়ে যাওয়াতে যাত্রী সাধারণ ভোগান্তিতে পড়েছে।
পুলিশ কমিশনার আব্দুল জলিল মণ্ডল স্মারকলিপি গ্রহণ করে মানবিক কারণে ব্যাটারি চালিত রিকশার ব্যাপারে বিবেচনা করবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেন।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন- সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগ মহানগর শাখার সভাপতি জনাব ওসমান গনি, মহানগর জাতীয় শ্রমিক লীগের ভারপ্রাপ্ত সবাপতি হাবিবুর রহমান, সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি আব্দুল কাদের মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক জি.এম. মুসা, চট্টগ্রাম জেলা ডিজিটাল ব্যাটারী চালিত রিক্সা মালিক সমবায় সমিতির লিঃ এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ মনির হোসেন এবং সংগ্রাম পরিষদের মোঃ হান্নান, খোরশেদ আলম, মোঃ জসিম, মোঃ ফারুক প্রমুখ।
প্রসঙ্গত গত বছরের ৩ জুলাই ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের রায় দেয় উচ্চ আদালত। এরপর ৩১ অগাস্ট থেকে নগরীতে ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে নগর পুলিশ। এরপর তারা উচ্চ আদালতে রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন করলে আদালত ছয়মাসের জন্য রায় স্থগিত করে। গত ১৯ মার্চ নগর পুলিশের এক সভায় রিক্সা থেকে ব্যাটারি খুলে ফেলতে চালক ও মালিকদের তিনদিন সময় বেধে দেওয়া হয়। এরপর ২৩ মার্চ থেকে ব্যাটারি চালিত রিকশা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয় পুলিশ।

