
জাতীয় কৃষি প্রযুক্তি মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বিজয় ভট্টাচার্য ও আমন্ত্রিত অন্যান্য অতিথিবৃন্দ
নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘প্রযুক্তি দিয়ে করবো কৃষি, সুখে থাকবো দিবানিশি’-এ স্লোগান সামনে রেখে বাংলাদেশের কৃষির আধুনিকায়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কৃষি বিষয়ক প্রযুক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে ফার্মগেটস্থ আ. কা. মু গিয়াসউদ্দিন মিলকী অডিটরিয়াম চত্বরে আজ মঙ্গলবার শেষ হলো ৩ দিনব্যাপী জাতীয় কৃষি প্রযুক্তি মেলা।
কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস)’র পরিচালক মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও উপকরণ) বিজয় ভট্টাচার্য। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)’র মহাপরিচালক এ জেড এম মমতাজুল করিম, কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. আবদুর রৌফ ও যুগ্ম প্রধান (পরিকল্পনা উইং) মো. মঞ্জুরুল আনোয়ার।
বিজয় ভট্টাচার্য বলেন, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা যেকোনো তথ্য সহজে পেতে পারি। আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে ই-মিডিয়ার উপর। কৃষকের অধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও আইসিটির কাজ করতে হবে। জনবহুল এ দেশের খাদ্যের যোগান নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি, মেধা, উদ্ভাবনী, সরকারের সহায়তা, বেসরকারি উদ্যোগ ও বাণিজ্যিক কৃষির সমন্বয় খুবই জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মো. আবদুর রৌফ বলেন, আমাদের কৃষকরা যথেষ্ট জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান। তারা সহজে প্রযুক্তি গ্রহণ করতে চায়। তবে যে প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষক বেশি লাভবান হবে, সেটাই কৃষক করবে। এক্ষেত্রে কৃষকের উপযোগী করে তথ্য প্রেরণ করতে হবে।
মো. মঞ্জুরুল আনোয়ার বলেন, কৃষিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রচলন করতে হলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করতে হবে। কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্রের মাধ্যমে কৃষকের দোরগোড়ায় সহজে পৌঁছানো সম্ভব।
এ জেড এম মমতাজুল করিম বলেন, যে দেশ এক সময় খাদ্য সংকটের দেশ ছিলো, সেই দেশ বর্তমানে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে চাল, আলুসহ বিভিন্ন শাকসবজি রপ্তানি করছে। এটা সম্ভব হয়েছে নতুন নতুন কৃষি প্রযুক্তির প্রয়োগ ও বাস্তবায়নের ফলে। এ সময় তিনি কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, প্রতিকূলতা সহনশীল জাত উদ্ভাবন এবং আধুনিক প্রযুক্তি কৃষকের দোরগৌড়ায় পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, কৃষিতে তথ্য প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য এই মেলার আয়োজন একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এ সময় তিনি বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে উদ্ভাবিত প্রযুক্তিগুলো কৃষি তথ্য সার্ভিসের মাধ্যমে প্রচারের জন্য আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিএই’র উপ-পরিচালক (আইসিটি ব্যবস্থাপনা) ড. অনিল কুমার দাশ। স্বাগত বক্তব্য দেন কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্রের মাধ্যমে ডিজিটাল কৃষি তথ্যের প্রচলন ও গ্রামীণ জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক ড. রাধেশ্যাম সরকার। মেলায় সরকারি-বেসরকারি ২৬টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট যথাক্রমে ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অর্জন করে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সিজিআইএআর, এসিআই ও প্র্যাকটিক্যাল এ্যাকশন যথাক্রমে ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অর্জন করে।

