ঢাকাWednesday , 17 June 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মণিরামপুরে দুই কৃর্তী শিক্ষার্থী গণিত কুইজে দেশসেরা

Link Copied!

গণিত কুইজ প্রতিযোগীতায় দেশসেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে মণিরামপুর উপজেলার দুই কৃতী শিক্ষার্থী। তারা হলো জালঝাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্র কান্তি হালদার এবং মণিরামপুর প্রভাতী বিদ্যাপীঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুরাইয়া ইয়াসমিন।
মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকার মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ দেশসেরা এই দুই শিক্ষার্থীর গলায় পদক পরিয়ে দেন। এ সময় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহিনা ফেরদৌসী। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব সাখাওয়াত হোসেন।
জানা যায়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আয়োজনে দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক, কাবিং ও বিষয়ভিত্তিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এর অংশ হিসেবে গণিত কুইজ প্রতিযোগিতা উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় এবং জাতীয় পর্যায়ে সম্পন্ন হয়। উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের সব বাধা পেরিয়ে খুলনা বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করে জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেয় অরিত্র ও সুরাইয়া। সেখানে অসাধারণ মেধার স্বাক্ষর রেখে তারা যথাক্রমে বালক ও বালিকা বিভাগে দেশের সেরা হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছে।
অরিত্র কান্তি হালদার মণিরামপুর উপজেলার জালঝাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তার বাবা পলাশ কান্তি হালদার কেশবপুর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং মা বিথিকা সরকার জালঝাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা।
অন্যদিকে, সুরাইয়া ইয়াসমিন মণিরামপুর প্রভাতী বিদ্যাপীঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তার বাবা আবু সাঈদ দুর্গাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং মা রুবিনা খাতুন তেতুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা বলে জানাযায়।
তাদের এ গৌর অর্জনে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সম্রাট হোসেন বলেন, “অরিত্র ও সুরাইয়ার এই অর্জন প্রমাণ করেছে যে, মেধা ও সুযোগের সঠিক সমন্বয় ঘটলে গ্রামের শিক্ষার্থীরাও জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে পারে। তাদের এই সাফল্য মণিরামপুরের হাজারো শিক্ষার্থীর জন্য অনুপ্রেরণার বাতিঘর হয়ে থাকবে।”
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু মুত্তালিব আলম বলেন, “জাতীয় পর্যায়ে একসঙ্গে বালক ও বালিকা বিভাগে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন মণিরামপুরের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এই অসাধারণ অর্জন সম্ভব হয়েছে।”
মণিরামপুর প্রভাতী বিদ্যাপীঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জি.এম. মাকসুদুর রহমান বলেন, “সুরাইয়ার সাফল্যে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল চিন্তা ও গণিতভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করে আসছেন।”
এর পাশাপাশি গর্বিত অভিভাবকদের অনুভূতিও ছিল আবেগঘন। তারা বলেন, “সন্তানের এমন অর্জন একজন মা-বাবার জন্য পরম আনন্দের। আমরা সবসময় তাদের স্বপ্ন দেখতে উৎসাহ দিয়েছি। আজকের এই সাফল্য আমাদের ত্যাগ ও তাদের কঠোর পরিশ্রমের সার্থকতা।”
অপরদিকে দেশসেরা অরিত্র কান্তি হালদার বলেন, “গণিত আমার খুব প্রিয় বিষয়। নিয়মিত অনুশীলন এবং শিক্ষক-অভিভাবকদের সহযোগিতার কারণেই আমি এই সাফল্য পেয়েছি।” সুরাইয়া ইয়াসমিন বলেন, “জাতীয় পর্যায়ে প্রথম হতে পেরে আমি খুব আনন্দিত। এই অর্জনের পেছনে আমার শিক্ষক, বাবা-মা এবং বিদ্যালয়ের অবদান সবচেয়ে বেশি।”
এদিকে দুই শিক্ষার্থীর এই গৌরব অর্জনের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন মণিরামপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এস. এম. মজনুর রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।