সুন্দরবনে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা চলাকালে মধু আহরণ করে ফেরার পথে ১১০০ কেজি মধুসহ ১১ জন মৌয়ালকে আটক করেছে বনবিভাগ। শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা রেঞ্জের টেংরাখালী বন টহল ফাঁড়ির সদস্যরা সুন্দরবনের গহীন এলাকা থেকে দুটি নৌকাসহ তাদের আটক করে। বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আটককৃত মৌয়ালরা নিষিদ্ধ সময়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করে মধু সংগ্রহ করছিলেন। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে প্রায় ১১০০ কেজি মধু জব্দ করা হয়। পরে আটককৃতদের বিরুদ্ধে বন আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করে সাতক্ষীরা আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আটক হওয়া মৌয়ালদের অভিযোগ, বনবিভাগের এক দালাল পরিচয়ধারী জালাল মোল্লার মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে চুক্তি করে তারা সুন্দরবনে প্রবেশ করেছিলেন। গত ১ জুন থেকে সুন্দরবনে সকল ধরনের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও ওই চুক্তির ভিত্তিতেই তারা মধু সংগ্রহের জন্য বনে যান। নির্ধারিত সময় শেষে ফিরতে না পারার পরে ১২ জুন ফেরার পথে বনবিভাগের সদস্যদের হাতে আটক হন। আটককৃত কয়েকজন মৌয়াল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “টাকা দিয়ে বনে যাওয়ার পরেও যদি বনবিভাগ আমাদের আটক করে, তাহলে সেই চুক্তির মূল্য কী? এখন আমাদের জেল-জরিমানা গুনতে হচ্ছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত চাই।” আটককৃতরা হলেন, শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর সোরা গ্রামের আমজাত হোসেন, কামরুল শেখ, আল-আমিন, আছান হাবিব, রাব্বানী, হায়াত আলী গাজী, মোবারক শেখ, বাবলু রহমান, মনিরুল খাঁ, আবিয়ার মালী ও কবিরুল ইসলাম। নিষেধাজ্ঞার সময় বন বিভাগের চোখ ফাঁকি দিয়ে মৌয়ালরা কিভাবে সুন্দরবনে প্রবেশ করেছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাতক্ষীরা রেঞ্জের সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলতে চাইলে ও এবিষয়ে কোন বন কর্মকর্তারা কথা না বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পশ্চিম বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. মশিউর রহমানের সাথে যোগাযোগের জন্য তার মুঠো ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি কল রিসিভ করেনি।

