ঢাকাFriday , 12 June 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বামনী নদীতে ক্লোজার বাঁধ নির্মাণে পাউবোর সফলতা

Link Copied!

স্বল্প সময়ের মধ্যে একটি ক্লোজার বাঁধ নির্মাণ করে নোয়াখালী অঞ্চলে ব্যাপক সারা ফেলেছে পাউবো। এ কারণে প্রশংসায় ভাসছে পাউবোর প্রকৌশলী এবং সংশ্লিষ্টরা। এই বাঁধ নির্মাণের ফলে ঐ অঞ্চলের মানুষের মাঝে ব্যাপক আশার সঞ্চার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন তারা। মাত্র ৫০ দিনে নোয়াখালীর বামনী নদীতে ক্লোজার বাঁধ নির্মাণে সফলতা পাওয়ার দাবি করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। এর মধ্য দিয়ে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট উপজেলার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, লবণাক্ততা এবং নিষ্কাশন সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। শিগগিরই পুরো কাজ শেষ করার আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ‘নোয়াখালী জেলার বামনী নদী অববাহিকার বন্যা ব্যবস্থাপনা এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় ক্লোজার বাঁধ নির্মাণ করছে পাউবো। এর ফলে ওই অঞ্চলের প্রায় ৯ লাখ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন এবং প্রায় ২৮০ কোটি টাকার সম্পদ সুরক্ষিত হবে।
পাউবো সূত্র জানায়, নোয়াখালীতে পলি জমার কারণে নদী ভরাট হয় এবং অববাহিকাগুলোতে জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততার সৃষ্টি হয়। এর আগে বামনী নদীতে একটি ১৯-ভেন্ট বিশিষ্ট রেগুলেটর নির্মাণ করা হয়। তবে ক্লোজার বাঁধ না থাকায় জোয়ারের পানির প্রবেশ বন্ধ করা যায়নি। ফলে তুলনামূলক উঁচু জোয়ারে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি প্লাবিত হতো এবং লবণাক্ততা বৃদ্ধি পেত। প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য জলাবদ্ধতা দূর করার পাশাপাশি লবণাক্ত পানির প্রবেশ রোধ, বন্যা ব্যবস্থাপনা ও সেচসুবিধার উন্নয়ন, কৃষিজমি ও মৎস্য উৎপাদন সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় অবকাঠামো রক্ষা। পুরো প্রকল্পের কাজ ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং অংশ হলো ক্লোজার বাঁধ নির্মাণ। ক্লোজার বাঁধটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৪১৫ মিটার এবং গভীরতা ১০ মিটার। গত ১০ মার্চ পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু যৌথভাবে এ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সূত্র জানায়, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কয়েক দিনের মধ্যেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড (পিডিএল)’ ও পাউবো যৌথভাবে ক্লোজার নির্মাণের কাজ শুরু করে। প্রতিকূল আবহাওয়া, ভারী বর্ষণ ও তীব্র জোয়ারের চাপ সত্ত্বেও দিন-রাত কাজ চালিয়ে যাওয়া হয়। কাজ শুরুর মাত্র ৫০ দিনের মধ্যে ক্লোজার বাঁধের মূল নির্মাণকাজ প্রায় সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, চ্যালেঞ্জিং এই কর্মযজ্ঞে আরএফএল জিও টেক্সটাইল সহযোগিতা করেছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনীয় জিও ব্যাগ, জিওটিউব ও জিও টেক্সটাইল শিট নিরবচ্ছিন্নভাবে সরবরাহ করে কাজে গতিশীলতা বজায় রেখেছে। পিডিএল, আরএফএল, পাউবোর প্রকৌশলী ও শ্রমিকেরা যৌথভাবে এ লক্ষ্য অর্জনে কাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দা কামরুজ্জামন বলেন, এই নদীর ভাঙনে তাঁরা বাড়িঘর, কৃষিজমিসহ অনেক কিছু হারিয়েছেন। ক্লোজার (বাঁধ) নির্মাণ করার ফলে সবার মনে আশার আলো জেগে উঠেছে। জোয়ারের পানি ও ভাঙনের আতঙ্কে আর তাদের দিন কাটতে হবে না।ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পিডিএল এর প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘কাজটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল। এরপরও মানুষের কষ্টের বিষয়টি বিবেচনা করে প্রতিকূল আবহাওয়া ও তীব্র জোয়ার-ভাটার মধ্যেও মাত্র তিন মাসে ক্লোজার বাঁধের মূল নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার পর্যায়ে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ করার লক্ষ্যে কাজ চলমান রয়েছে। পাউবো নোয়াখালী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী রেফাত জামিল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘টেন্ডার প্রক্রিয়া ও অন্য কারণে প্রকল্পের কিছুটা বিলম্ব হলেও জনস্বার্থে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ এগিয়ে নিচ্ছি।’ পাউবো ফেনী সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ দৈনিক পাঞ্জেরী বলেন, এই ক্লোজার বাঁধ নির্মাণটি অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল। রোদ বৃষ্টি জোয়ার ভাটা সব কিছু সামনে রেখেই কাজটি করা সম্ভব হয়েছে। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে আন্তরিকতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই কাজ করেছেন। ঈদ-উল-আযহার সময়ে শ্রমিরা ছুটিতে না গিয়েও এই চ্যালেঞ্জিং কাজটি করেছেন তারা।