নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জে ফের অপহরণের পর এক ব্যবসায়ীকে হত্যা করা হয়েছে।
সোমবার সকালে সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর ইউনিয়নের বেহাকৈর এলাকার একটি ডোবা থেকে ওই অপহৃত ব্যবসায়ীর হাত পা বাঁধা মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গত ১ এপ্রিল ব্যবসায়ী ইকবাল খাঁনকে অপহরণ করা হয়। তিনি উপজেলার কাঁচপুর বেহাকৈর গ্রামের খাঁন বাহাদুরের ছেলে
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম জানান, সকালে খবর পেয়ে অপহৃত ব্যবসায়ী ইকবালের হাত-পা বাঁধা মৃতদেহ উদ্ধার কাজ শুরু করে পুলিশ। বেলা সাড়ে ১১টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উদ্ধার কাজ চলছিল।
জানা গেছে, ইকবাল কাঁচপুর সোনাপুর এলাকার হাজী তমিজউদ্দিন মিয়ার মার্কেটের একটি দোকান ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্টেশনারির ব্যবসা করে আসছে।
বুধবার দুপুরে ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন তার বাড়ি থেকে খাবার খেয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কাঁচপুর সোনাপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। রাতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকেই অপহরণ করা হয় ব্যবসায়ী ইকবালকে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকেলে অপহৃত ব্যবসায়ী ইকবাল খাঁনের স্ত্রী কহিনুর আক্তার বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে ব্যবসায়ী ইকবাল খাঁনের স্ত্রী কোহিনুর আক্তার উল্লেখ করেন, ইকবাল খাঁনকে পরিকল্পিতভাবে একটি চক্র অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। অপহরণের পর বুধবার মধ্যরাতে ইকবাল খাঁন তার মোবাইলে ফোন করে বন্দর উপজেলার মদনপুর এলাকায় অবস্থান করছে বলে উল্লেখ করলেও পরে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।
পরে বৃহস্পতিবার সকালে তিনি স্বামীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখেন অজ্ঞাত দুই যুবক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে রাত যাপন করেছিলেন। এসময় অজ্ঞাত ওই দুই যুবকের কাছে তার স্বামীর সন্ধান জানতে চাওয়া হলে তারা দৌড়ে পালিয়ে যায়। সন্দেহ করা যাচ্ছে যে, ওই দুই যুবক এ অপহরণে সঙ্গে জড়িত রয়েছে।
এর আগে উল্লেখ্য, গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণের দুদিন পর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তাদের লাশ উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর র্যাব-১১ এর তৎকালীন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মাহমুদ ও মেজর আরিফ হোসেন ও নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এমএম রানাকে ২৮ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রত্যাহার করা হয়। গত ৩০ এপ্রিল তিন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেয়া হয়।
সাত খুনের মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনের দেয়া ৬ কোটি টাকার বিনিময়ে র্যাবের ওই তিন কর্মকর্তাসহ অন্যরা সাতজনকে হত্যা করেছেন, এমন অভিযোগ করেন নিহত নজরুল ইসলামের পরিবার।
নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম ও তার বাবা (নজরুলের শ্বশুর) শহীদুল ইসলাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে র্যাবের বিরুদ্ধে পরে লিখিত অভিযোগ দেন। এরপর নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনায় ওই তিন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের আদেশ দেন হাইকোর্ট।

