ঢাকাSunday , 5 April 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জাতীয় কৃষি প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন
কৃষকের দোরগোড়ায় নতুন প্রযুক্তি পৌঁছে দেয়ার তাগিদ কৃষিমন্ত্রীর

Link Copied!

জাতীয় কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০১৫ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ

জাতীয় কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০১৫ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক : কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, খাদ্যশক্তি, প্রাণশক্তি, শ্রমশক্তি ও মেধাশক্তির মূল উৎস কৃষি। এ কারণে কৃষির উন্নতিকল্পে চাহিবামাত্র তথ্য সেবাসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ কৃষকের কাছে সরবরাহ করতে হবে। এ ছাড়া কৃষিতে প্রযুক্তির ছোঁয়া এবং যে উৎকর্ষতা লেগেছে কৃষককে তা স্পষ্ট ভাষায় বোঝাতে হবে। আজ রোববার রাজধানীর খামারবাড়িস্থ আ কা মু গিয়াসউদ্দিন মিলকী অডিটরিয়ামে ৩দিনব্যাপী জাতীয় কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০১৫ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
‘প্রযুক্তি দিয়ে করবো কৃষি, সুখে থাকবো দিবানিশি’-এ স্লোগান সামনে নিয়ে কৃষি তথ্য সার্ভিসের উদ্যোগে ও কৃষি মন্ত্রণালয় এবং কৃষির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে এ কৃষি প্রযুক্তি মেলা আগামী মঙ্গলবার শেষ হবে। মেলায় বাংলাদেশের কৃষির আধুনিকায়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কৃষি বিষয়ক প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হচ্ছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও উপকরণ) বিজয় ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. মকবুল হোসেন এমপি ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)’র মহাপরিচালক এ জেড এম মমতাজুল করিম।
অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে, আর  ক্রমাগত কমছে কৃষি জমি। ক্রমহ্রাসমান জমি থেকে ক্রমবর্ধমান জনগণের খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা মেটানোর জন্য প্রয়োজন অল্প সময়ে অধিক পরিমাণ খাদ্য উৎপাদন। এ জন্য উন্নত জাতের ফসল ফলানো, ভালো বীজ, সার, সেচ ও বালাই ব্যবস্থাপনাই যথেষ্ট নয়, এর পাশাপাশি প্রয়োজন লাগসই ও টেকসই কৃষি প্রযুক্তি। এ সময় তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে কৃষি ক্ষেত্রে যেটুকু অর্জন তার সিংহভাগ এসেছে এদেশের কৃষক ও কৃষিজীবীদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় এবং তার সাথে যোগ হয়েছে কৃষিবান্ধব আওয়ামী সরকারের অকুন্ঠ সমর্থন। তিনি বলেন, দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ের সাথে সাথে কৃষি ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গৃহীত হয়েছে নানাবিধ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। কৃষিতে এসেছে নতুন নতুন প্রযুক্তি ও ঘটেছে যান্ত্রিক উৎকর্ষতা।
বিশেষ অতিথি মো. মকবুল হোসেন বলেন, বর্তমান সরকারের কৃষিতে গৃহীত পদক্ষেপের কারণে দেশ শুধু খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণই নয়, বাংলাদেশ এখন খাদ্যে উদ্বৃত্তের দেশে পরিণত হয়েছে। যে দেশ এক সময় খাদ্য সংকটের দেশ ছিলো, সেই দেশ বর্তমানে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে চাল, আলুসহ বিভিন্ন শাকসবজি রপ্তানি করছে। এটা সম্ভব হয়েছে নতুন নতুন কৃষি প্রযুক্তির প্রয়োগ ও বাস্তবায়নের ফলে।
বিশেষ অতিথি এ জেড এম মমতাজুল করিম বলেন, কৃষির উন্নয়নে যুগোপযোগী, সহজলভ্য ও কার্যকরি প্রযুক্তি সম্প্রসারণে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সদা সচেষ্ট। কার্যকরি কৃষি প্রযুক্তি, উচ্চফলনশীল ও প্রতিকুল আবহাওয়া উপযোগী ফসলের জাত প্রচলন, ধান চাষে গুটি ইউরিয়া, বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে ফেরোমন ফাঁদ, ধান চাষে সেচ সাশ্রয়ী এডব্লিউডি প্রযুক্তি, গুণগত মানসম্পন্ন বীজ সংরক্ষণ প্রযুক্তি, উচ্চ মূল্যমানের ফসল চাষাবাদ, গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ, বসতবাড়িতে বছরব্যাপী সবজি চাষ, ওষধি গাছ চাষ, ভার্মি কম্পোস্ট প্রযুক্তি, শস্য গুদাম কার্যক্রম, প্রযুক্তি বিস্তারে দক্ষতামূলক কার্যক্রম, জলবায়ুর অভিযোজনে কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণে ডিএই কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি বিজয় ভট্টাচার্য বলেন, বৈশ্বিক জলবাযু পরিবর্তন এবং ক্রমবর্ধমান জনসংখার খাদ্য চাহিদা মেটাতে খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি আজ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে কৃষিকে রক্ষার জন্য আধুনিক প্রযুক্তির লাগসই ব্যবহার ও কৃষির সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি। জনবহুল এ দেশে খাদ্যের যোগান নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি, মেধা, উদ্ভাবনী, সরকারের সহায়তা, বেসরকারি উদ্যোগ ও বাণিজ্যিক কৃষির সমন্বয় খুবই জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস)’র পরিচালক কৃষিবিদ মিজানুর রহমান। কৃষি তথ্য বিস্তারে ই-কৃষি বিষয়ক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্রের মাধ্যমে ডিজিটাল কৃষি তথ্যের প্রচলন ও গ্রামীণ জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক ড. রাধেশ্যাম সরকার। মেলায় সরকারি-বেসরকারি ২৮টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রণ করছে। মেলা প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে। মেলায় কৃষি বিষয়ক যাবতীয় তথ্য সেবা এখান থেকে পাওয়া যাবে।