ঢাকাSaturday , 9 May 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রশাসনিক জটিলতার পানিতে ভাসছে রাষ্ট্রীয় সম্পদ

Link Copied!

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে দীর্ঘদিন ধরে মজুদ থাকা বিপুল পরিমাণ কয়লা বিক্রি না হওয়ায় বৃষ্টির পানিতে ভেসে গিয়ে কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। খনির খোলা ইয়ার্ডে রাখা কয়লার স্তুপে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় কয়লার গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে উত্তোলিত বিপুল পরিমাণ কয়লা দীর্ঘদিন ধরে খনির সংরক্ষণ ইয়ার্ডে পড়ে রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিক্রি বা সরবরাহ না হওয়ায় খোলা আকাশের নিচে রাখা কয়লার ওপর কয়েক দফা ভারী বৃষ্টিপাত হয়। এতে অনেক কয়লা পানির সঙ্গে ভেসে গিয়ে ড্রেন দিয়ে ক্যানেলে ভেসে চলে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিতে কয়লার স্তুপের নিচে পানি জমে ছোট ছোট স্রোতের সৃষ্টি হয়। এতে কয়লার একটি অংশ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং কালো পানির সঙ্গে মিশে নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া ভেজা কয়লার তাপ উৎপাদন ক্ষমতাও কমে যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, যথাযথ সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও দ্রুত বিক্রির উদ্যোগ না নেওয়ায় সরকারের কোটি কোটি টাকার সম্পদ অপচয়ের মুখে পড়েছে। তারা খনির ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একাধিক শ্রমিক জানান, খনিতে উৎপাদন অব্যাহত থাকলেও মজুদ কয়লার পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু সেই তুলনায় বিক্রি বা সরবরাহ না হওয়ায় খনির ইয়ার্ডে জায়গা সংকটও দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি কর্তৃপক্ষ জানায়, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাহিদা কম থাকায় কিছু কয়লা মজুদ রয়েছে। তবে দ্রুত কয়লা বিক্রি ও সংরক্ষণের উন্নত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বৃষ্টির পানিতে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এদিকে বড়পুকুরিয়া কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র খনির ইয়ার্ডে মজুদ কয়লা নিতে পারছেন না। কারণ ১নং ইউনিটি বছরে ২০-২৫ বার নষ্ট হয়ে পড়ে থাকে এবং মেরামত করে চালু করেন। এদিকে ৩নং ইউনিটটি গত ৩ মাস ধরে মেরামত চলছে। আর ২য় ইউনিটি প্রায় ৮ বছর ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। এ কারণে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে কয়লা নিতে পারছে না তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শাহ আলম জানান, কোল ইয়ার্ডে সাড়ে ৫ লক্ষ টন কয়লা মজুদ রয়েছে। আর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিদিন ৬-৭ শত মেট্রিকটন কয়লা সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে কয়লা মজুদ দিন দিন বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ রক্ষায় আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। অন্যথায় প্রতি বছরই এ ধরনের ক্ষতির ঘটনা ঘটতে পারে।