ঢাকাSunday , 5 April 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কালবৈশাখীর থাবায় ব্যাপক ক্ষতি

Link Copied!

jorকুমিল্লা: জেলার বিভিন্ন স্থানে ঘূর্ণিঝড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটি, জমির ফসল, গাছপালা এবং একটি স্কুল বিধ্বস্ত হয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
শনিবার রাতে মুরাদনগর উপজেলার উত্তর সীমান্তবর্তী এলাকার উপর দিয়ে প্রবল ঝড় বয়ে যায়। হঠাৎ এ ঘূর্ণিঝড়ে আকবপুর ইউনিয়নের বলিঘর হুজুরী শাহ উচ্চ বিদ্যালয়টির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম হাক্কানী জানান, শনিবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ ঝড়ে একটি টিনসেড ঘর বিধ্বস্ত হয়। ঝড়ে বড় কয়েকটি গাছ ভেঙে স্কুলের উপর পড়লে একটি টিনসেড ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়।
স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ডা. কবীর আহাম্মদ খন্দকার বলেন, ‘স্কুলটি রাতে বিধ্বস্ত হওয়াতে স্কুলের টুল-টেবিল দুমড়ে মুচড়ে গেলেও লোকজনের কোনো প্রকার ক্ষতি হয়নি।’
স্থানীয় অভিভাবক মহিউদ্দিন জানান, এ অবস্থায় ঘরটি মেরামত না করা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হবে। তাই বিধ্বস্ত স্কুলটি দ্রুত সংস্কারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের উপযোগী করার আহ্বান জানান তিনি।
এ ব্যাপারে স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ গোলাম কিবরিয়া সরকার বলেন, ‘স্কুলটি যেহেতু এমপিওভুক্ত তাই আমি আশা করবো সরকারিভাবে এটি সংস্কারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেবে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি এটি সংস্কারে প্রতিষ্ঠাতা হিসেব আমিও দৃষ্টি রাখবো।’
Ghurni-Jhoorচাঁপাইনবাবগঞ্জ: কালবৈশাখী ঝড়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আব্দুল্লাহ আল মামুন (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। প্রচণ্ড ঝড়ে দুই শতাধিক গাছ উপড়ে পড়েছে। বন্ধ রয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ। শিলাবৃষ্টির কারণে প্রায় এক কোটি টাকার আমের ক্ষতি হয়েছে।
বিদ্যুৎ বন্ধ সরবরাহ বন্ধ থাকায় পানি টেলিফোনসহ জনগুরুত্বপূর্ণ সেবাও ভেঙে পড়েছে। এতে বেকায়দায় পড়েছে সাধারণ মানুষ।
মৃত আব্দুল্লাহ আল মামুন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার নয়ানশুকা ঘোষপাড়া মহল্লার তৈমুর রহমানের ছেলে।
গত শনিবার সন্ধ্যার আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার রাজারামপুর, রামকুষ্টপুর, কোর্ট এরিয়া, নয়াগোলা, নয়ানশুকা, সদর উপজেলার মহারাজপুর, রানিহাটি, নারায়ণপুর, ইসলামপুর ও দেবীনগর ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়ে দুই শতাধিক গাছ উপড়ে যায়। এ সময় বহু কাঁচা ঘরবাড়ির টিনের চাল উড়ে যায়। বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের লাইনের ওপর ডালপালা ভেঙে পড়ায় রাত থেকে প্রায় এলাকায় বিদ্যুৎ সরবারাহ বন্ধ রয়েছে।
পিডিবির নির্বাহী প্রকোশৗলী জানান, ঝড়ে তার ছিড়ে পড়ায় কিছু এলাকায় চালু থাকলেও বেশীরভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ রয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে আমের ব্যাপক ক্ষতি হলেও ধানসহ অন্যান্য ফসলের তেমন ক্ষতি হয়নি। তবে বাগানের বড় বড় আমগাছ উপড়ে ও ডালপালা ভেঙে পড়ায় এবং ব্যাপক শিলাবৃষ্টির কারণে প্রায় এক কোটি টাকার আমের ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বিকল্পভাবে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা চালু না করায় পৌরবাসীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে, ঝড়ের পর থেকে বিটিসিএলের টেলিফোন সংযোগও অচল হয়ে পড়েছে। রোববার বিকেল পৌনে ৫টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তা চালু হয়নি।
রাজশাহী: মওসুমের প্রথম কালবৈশাখীর আঘাতে রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলা ৩১ হাজার ৯৩৬টি বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। ফসলের ক্ষতি হয়েছে ২ হাজার ৫৩৩ হেক্টর। রাজশাহী জেলা ত্রাস ও পূর্ণবাসন অফিস এ তথ্য জানিয়েছে।
৩১ হাজার ৯৩৬ হাজার বিধ্বস্ত ঘরবাড়ির মধ্যে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে ৬ হাজার ৯০৬টি ও আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে ২৫ হাজার ৩০টি ঘরবাড়ি।
এদিকে ঝড়ে মোট ৫ জন নিহত ও ২৫ জন আহত হয়েছে। ইতিমধ্যে নিহতদের পরিবারকে নগদ ২০ হাজার করে টাকা ও আহতদের প্রত্যেককে ৫ হাজার করে টাকা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার প্রতি ২০ থেকে ৩০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, শনিবার বিকেলের কালবৈশাখীর তান্ডবে রাজশাহী জেলায় মোট ৫ জনের মৃত্যু হয়। এরমধ্যে বাঘায় দুইজন, গোদাগাড়ী, পবা ও পুঠিয়ায় তিনজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া আহত হয় আরো অন্তত ২৫ জন মানুষ।
কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া টর্নেডোর আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়েছে রাজারহাট উপজেলার ৫ গ্রামের ২ শতাধিক কাঁচা বাড়িঘর। আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।
শনিবার রাত ১০টায় আচমকা টর্নেডো আঘাত হানে রাজারহাট উপজেলার বুড়িরহাট, কাশেম বাজার, চায়না বাজার, পশ্চিম দেবোত্তর ও রামহরি গ্রামে। এসব গ্রামের দুই শতাধিক ঘরবাড়ির ও অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পরে। এ সময় আহত হয় অন্তত ২০ জন।
আহতদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে জীবন যাপন করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি সহায়তা পৌঁছেনি। এদিকে প্রচণ্ড ঝড়ে মৌসুমি ফসল ও বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
রাজাহাট উপজেলা কাশেম বাজার গ্রামের রানী বালা জানান, দমকা হাওয়া সব শেষ করে দিল। কোনো রকমে জীবন বাঁচালেও এখন থাকার জায়গা নাই।
রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জানান, ঘড়িয়লডাঙ্গা ইউনিয়নের ৫ গ্রামের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ২টি মন্দিরসহ ২ শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। আমি এলাকা ঘুরে বিষয়টি উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।
সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলায় কালবৈশাখীর ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঝড়ে কাজিপুর উপজেলার খাস রাজবাড়ীতে ৩ জন নিহত ও আহত হয়েছে অন্তত ১৫ জন।
শনিবার রাতে উপজেলার খাস রাজবাড়ীতে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬ কিলোমিটার বেগে বয়ে যায় এ ঝড়। সঙ্গে বজ্রপাত বৃষ্টি ও ঝড়ে কাজিপুর উপজেলার সোনামুখী, সিমুলদাইড়, ঢেকুরিয়া, মাইজবাড়ী, বিলচতল, হরিনাথপুর, স্থলবাড়ী, আজগাছি এলাকায় সম্পূর্ণরূপে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
বিদ্যুতের তার, গাছপালা রাস্তায় পড়ে পথচারীদের চলাচলে বাধার সৃষ্টি হয়েছে। আম, লিচুসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে অনেক স্কুল ও কলেজের টিন উড়ে গেছে।
ঝড়ে উপজেলার খাস রাজবাড়ীতে ৩ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত ১৫জন। তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ও আহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
কাজিপুর উপজেলা চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক বকুল ঝড়ে ৩ জনের নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বগুড়া: শনিবার সন্ধ্যায় কালবৈশাখী ঝড়ে বগুড়া জেলায় আরো ৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১২ জন।
পুলিশ কন্ট্রোলরুম সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে বগুড়া সদরে ৩ জন, সারিয়াকান্দিতে ৩ জন, সোনাতলায় ১ জন, গাবতলীতে ১ জন, কাহালুতে ১ জন, ধুনটে ১ জন ও শাজাহানপুরে ২ জন। নিহত অন্য ৬ জনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
ঝড়ে গাছপালা ভেঙে যাওয়ায় ও বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়ায় শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে জেলার সবখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। অসংখ্য বাড়িঘর ঝড়ে তছনছ ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।