মেহেরপুর শহরের রিকসা চালক গোলাম হোসেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি কালু হোসেন ও তার কথিত পরোকীয় প্রেমিকা বন্যা খাতুনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ৬ মে (বুধবার) সকালের দিকে মেহেরপুর শহরে অভিযান চালিয়ে কালু হোসেন ও বন্যাকে আটক করা হয়। মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবীর এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গ্রেফতারকৃত কালু হোসেন মেহেরপুর শহরের আকুব্বার আলীর ছেলে ও নিহতের খালাত ভাই। মামলার ২ নং আসামি বন্যা খাতুন একই এলাকার রাজু আহমেদের স্ত্রী। এর আগে নিহত গোলাম হোসেনের স্ত্রী আলেয়া খাতুন বাদী হয়ে কালু হোসেন ও বন্যা খাতুনকে আসামি করে মেহেরপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ৬, তারিখ ০৬/০৫/২৬ ইং। স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন আগে গোলাম হোসেন পাখিভ্যান নিয়ে যাওয়ার সময় প্রতিবেশি বন্যা খাতুনের বাড়ির প্রাচিরের কিছু অংশ রিকসায় বেঁধে ভেঙ্গে যায়। এঘটনায় প্রাচিরের ভাঙা অংশ মেরামত করে দেন তারা। তারপরেও প্রতিশোধ নিতে বন্যা খাতুন তার কথিত পরোকীয়া প্রেমিক কালু হোসেনকে খালাত ভাই গোলাম হোসেনের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেই। মামলার বাদী আলেয়া খাতুন ও নিহতের মা নবিছন নেছা অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী বন্যার সাথে কালু হোসেনের পরোকীয় প্রেম চলছিল। আমাদের সাথে প্রাচিরের অংশ ভাঙ্গা নিয়ে কথাকাটাকাটি হয়। সেই কথা কাটাকাটির জের ধরে তার প্রেমিকাকে খুশি করতেই গোলাম হোসেনকে ধারাল দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। তিনি আরও বলেন, আমি আমার স্বামী ও সন্তান নিয়ে ঘটনার সময় দাঁড়িয়ে ছিলাম। আমার সামনেই সে কুপিয়ে হত্যা করে আমার স্বামীকে। আমি এই হত্যাকান্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবীর বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামিদের আজ দুপুরে আদালতে প্রেরণ করা হলে তাদের জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন আদালত। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ৭ টার দিকে গোলাম হোসেনের বাড়িতে দুই নম্বর আসামি বন্যা খাতুনের সাথে গোলাম হোসেনের কথাকাটি চলছিল। এসময় কালু হোসেন ধারালো অস্ত্র দা দিয়ে পেছন থেকে ঘাড়ে ও শরীরের অন্যান্য স্থানে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়। এসময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।

