পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ভাল লাভের স্বপ্ন নিয়ে মেহেরপুর জেলায় কোরবানির পশুর খামারগুলোতে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পশু পাঠানোর লক্ষ্যে দিনরাত গবাদিপশুর যত্ন ও স্বাস্থ্য রক্ষায় নিয়োজিত রয়েছেন তারা। গো-খাদ্যের দাম বাড়ায় পশুর দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি হতে পারে বলে ধারণা করছেন খামারিরা তবে, ভারতের পশু যাতে দেশে না প্রবেশ করে সে দাবি প্রশাসনের কাছে। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ছোট বড় ১ হাজার খামারী রয়েছে। এ বছর মেহেরপুর জেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার ৫৬৯টি পশু। ৫৩ হাজার ৩৪৯ টি পশুর মধ্যে ষাঁড় ৪০ হাজার ৩৪৯, বলদ ৪ হাজার ৮৪৪, গাভি ৮ হাজার ৫০৯। এছাড়া মহিষ ৪৮২ টি, ছাগল ১ লাখ ১৫ হাজার ৬৬৫ টি, ভেড়া ২ হাজার ৭২০ টি। অন্যদিকে, জেলায় কোরবানির চাহিদা রয়েছে ৯০ হাজার ২৩৪টি পশু। সেই হিসেবে প্রায় ৮২ হাজার ৩৩৫টি পশু উদ্বৃত্ত থাকছে, যা জেলার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা, চিটাগাং, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে। ইতোমধ্যে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতারা খামারগুলোতে ভিড় করতে শুরু করেছেন। খামারিরা জানান, প্রাকৃতিক পরিবেশে খৈল, ভূষি ও সবুজ ঘাস খাইয়ে পশু লালন-পালন করা হচ্ছে। যদিও গো-খাদ্যের দাম বেড়েছে, তবুও ভালো দামের আশায় তারা আশাবাদী। খামারগুলোতে দেড় লাখ থেকে শুরু করে ১০-১২ লাখ টাকা মূল্যের গরুও রয়েছে। বাণিজ্যিক খামারের পাশাপাশি গ্রামীণ পরিবারগুলোও পারিবারিকভাবে গরু লালন-পালনে ব্যস্ত সময় পার করছে। জেলার খামারগুলোতে নেপালী, অস্ট্রেলিয়ান, ফিজিয়ান, পাকিস্তানি ও হরিয়ানা জাতের উন্নত গরু দেখা যাচ্ছে। তবে খামারিদের দাবি, ভারত থেকে গরু আমদানি বন্ধ রাখা হলে দেশের উৎপাদিত পশু দিয়েই কোরবানির চাহিদা পূরণ সম্ভব। গাংনী উপজেলার পশ্চিম মালশাদহ গ্রামের খামারী মানজারুল ইসলাম বলেন, জেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণ কোরবানীযোগ্য পশু রয়েছে। যা জেলার চাহিদা মিটিয়ে বাইরের জেলার যোগান দেওয়া সম্ভব। তাই পার্শ্ববর্তি ভারত থেকে চোরাই পথে যেনো গরু না আসতে পারে সেজন্য প্রশাসনকে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, গো-খাদ্যের দাম বেড়েছে আগের তুলনায় অনেক বেশি। তারপরেও আমরা লাভের আশা করছি। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে বসে একে অন্যের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে থাকেন সংসদ সদস্যরা। কিন্তু যারা দেশের উন্নয়নে কাজ করছেন তাদের ভাগ্যের উন্নয়নে কেউ কথা বলেনা। বানিয়ারপুকুর গ্রামের গ্রীণ রেইনবো এগ্রো ফার্মের কেয়ারটেকার জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, প্রাকৃতিক পরিবেশে খৈল, ভূষি ও সবুজ ঘাস খাইয়ে পশু লালন-পালন করা হচ্ছে। যদিও গো-খাদ্যের দাম বেড়েছে, তবুও ভালো দামের আশায় তারা আশাবাদী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতারা খামারগুলোতে ভিড় করতে শুরু করেছেন। আমাদের ফার্মে ৪৫ টি ছোট বড় গরু আছে। যেখানে ২ লাখ থেকে শুরু করে ১০- ১২ লাখ টাকা মূল্যের গরু রয়েছে। ইতোমধ্যে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার ফঁড়িয়া ও ব্যাপারীরা যোগাযোগ করছেন গরু কেনার জন্য। ৫ টি গরু ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। এখানকার গরু মেহেরপুর জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলাতে যাবে। মেহেরপুর জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার তোফাজ্জল হোসেন বলেন, মেহেরপুর প্রাণীসম্পদ ভরপুর একটি জেলা। এ জেলায় প্রায় ৭ লক্ষ গরু ছাগলসহ বিভিন্ন পশু রয়েছে। এখানে ছোট বড় এক হাজার খামারীর পাশাপাশি প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে কোরবানীর ঈদকে কেন্দ্র করে গরু ছাগল পালন করে থাকেন। জেলায় এবছর প্রায় পৌণে ২ লাখ পশু কোরবানী উপযোগী করে প্রস্তুত করেছেন খামারীরা। এর মধ্যে জেলার চাহিদা রয়েছে প্রায় ৯০ হাজার পশু। বাকী ৮০ হাজার পশু ঢাকা চিটাগাংসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাবে। মেহেরপুর একটি সীমান্তবর্তি জেলায়। তাই চোরাকারবারীরা যেনো চোরাই পথে গরু আনতে না পারে সেজন্য প্রশাসনসহ প্রাণী সম্পদ বিভাগ সজাগ রয়েছে। কোনোভাবেই পশু প্রবেশ করতে পারেনা। তিনি আরও বলেন, গো-খাদ্যের দাম কিছুটা বাড়লেও খামারীরা এবছর লাভ করবেন বলে প্রাণী সম্পদ বিভাগ আশা করেন। মেহেরপুর জেলায় কোরবানির চাহিদার প্রায় দ্বিগুণ পশু প্রস্তুত রয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় এখানকার পশু সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

