বাসের চালক ও শ্রমিককে মারধরের প্রতিবাদে মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক মহাসড়কে লোকাল বাস চলাচল অনিদির্ষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে। হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধ হওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে চরম আকারে। গত রবিবার বিকেলে মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি বাজারে অটোর সাথে গোল্ডেন এন্টারপ্রাইজ নামে একটি লোকাল বাসের ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে চালক রানা আহামেদ ও সুপারভাইজার কমল হোসেনকে মারধর করে অটোচালক ও মোটরসাইকেল চালক। এরপর বিকাল ৫টার পর থেকে অটোচালক ও হামলাকারিদের গ্রেফতারের দাবিতে সড়কটিতে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন। সোমবার (৪ মে) সকাল থেকে চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশে মেহেরপুর থেকে ছেড়ে যায়নি কোনো লোকাল বাস। রোববার দিবাগত রাতে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পরও মেলেনি কোনো সমাধান। রাতে শ্রমিকদের সঙ্গে বসে এ পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে বলে জানান শ্রমিক নেতারা। মেহেরপুর জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আহসান হাবীব সোনা জানান, রোববার দুপুরে মেহেরপুর থেকে চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশে ছেড়ে যায় গোল্ডেন এন্টারপ্রাইজ নামের একটি বাস। সদর উপজেলার আমঝুপি এলাকায় পৌঁছালে একই পথে চলাচলরত একটি মোটরসাইকেল ওভারটেক করতে গিয়ে দাক্কা লাগে। এ ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী আমঝুপি এলাকার রাব্বি আহমেদ বাসের চালক সোহেল রানা ও সুপারভাইজার কমল হোসেনকেকে মারধর করেন। এই মারধরের প্রতিবাদে বাস ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। তিনি আরও জানান, শ্রমিকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ায় তারা এ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে বলেও জানান তিনি। মেহেরপুর মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান জানান, প্রশাসনের সঙ্গে বসে আজ এর সুষ্ঠু সমাধান চান তারা। সমাধান না হলে আন্তঃজেলার সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে। তাতেও সমাধান না হলে প্রয়োজনে দূরপাল্লার পরিবহন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রমিকরা।

