ঢাকাFriday , 3 April 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রশ্নবিদ্ধ ইসি, বিএনপির নির্বাচনী ফানুস

Link Copied!

DCC-BNPপাঞ্জেরী ডেস্ক: আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা সরব থাকলেও এখনও চূড়ান্ত হয়নি বিএনপির প্রার্থী (চট্টগ্রাম ছাড়া)। এ নির্বাচনে দলীয় প্রচারণার সুযোগ না থাকায় বিএনপিপন্থি পেশাজীবী সংগঠনের ফোরামে চলবে প্রার্থীদের কার্যক্রম। এমন পরিকল্পনাতেই এগুচ্ছিল দলটি।
এ লক্ষ্যে প্রথমে শতদল নাগরিক কমিটি সামনে এলেও এ নিয়ে পেশাজীবী নেতাদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও আইনজীবী নেতা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন মনে করেন, শতদল নাগরিক কমিটি নির্বাচন পরিচালনার সামর্থ্য রাখে না।
অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার রাষ্ট্র বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. এমাজ উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে ১১টি পেশাজীবী সংগঠন নিয়ে এ কমিটি করা হয়। তারা দ্রুত বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করবেন বলে জানা গেছে।
কিন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে কৌশল ও তৎপরতার দৌড়ে তারা কতোটা প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করতে পারেন সেটি নিয়েই অনেকের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে।
এর মধ্যে সিটি করপোরেশন নির্বাচন মনিটরিং কমিটি গঠনের কথা জানালেন বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহ। কবে নাগাদ এই কমিটি গঠন করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আলাপ না করে এখনই বলতে পারবো না। নিশ্চয়ই হবে, অপেক্ষা করুন। আপনারা জানেন নির্বাচন হলে প্রার্থীরা সবাই মনিটরিং করে, আমরাও করবো। আমরা দলের তরফ থেকে করবো, আমাদের যারা সমর্থক আছে তাদের পক্ষ থেকে মনিটরিং করা হবে। বিভিন্ন এনজিওসহ অনেকেই মনিটরিং করবে।’
এদিকে বিএনপির হয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টু এবং তার ছেলে তাবিথ এম আউয়াল মেয়র পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। ছেলের মনোনয়ন নির্বাচন কমিশনের (ইসির) কাছে বৈধ হলেও মিন্টু তার সমর্থনকারী হিসেবে নির্বাচনী এলাকার বাইরের লোকের নাম উল্লেখ তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এ নিয়ে অবশ্য মিন্টু আবার আবেদনও করেছেন।
এ দিকে মিন্টুর মতো অভিজ্ঞ ব্যক্তির এই অনভিপ্রেত ভুলকে অনেকে দেখছেন বাঁকাভাবে। প্রশ্ন উঠছে, মেয়র প্রার্থী হতে হলে কী করণীয় তা কি মিন্টু জানেন না? অনেকেই অপর ব্যবসায়ী নেতা আনিসুল হকের সঙ্গে মিন্টুর সমীকরণ মেলানোর চেষ্টা করছেন।
এছাড়া মিন্টু যদি ভুলই করবেন তাহলে তার ছেলেকে কেন প্রার্থী করা হলো? ছেলের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই বাবার মতো পুরোদস্তুর একজন ব্যবসায়ী, এমনকি ব্যবসায়ী হিসেবেও বাবার মতো পরিচিতি নেই তার। সিটি নির্বাচনের মাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন তিনি।
এদিকে মিন্টুর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার পর বিএনিপর অন্যতম মিত্র বিকল্প ধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহি বি চৌধুরীকে সমর্থন দেয়া নিয়ে এক পক্ষের জল্পনা চলছে।
দক্ষিণে মেয়র পদে রয়েছেন বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। অবিভক্ত ঢাকার মেয়র এবং সাবেক মন্ত্রী হিসেবে একাংশ ঢাকার মেয়র পদ আব্বাসের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ সে প্রশ্নও মানুষের মুখে মুখে। এখান থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু। তবে সাজাপ্রাপ্ত আসামি হওয়ায় তার প্রার্থিতাও বাতিল করেছে কমিশন। তিনি অবশ্য এর বিরুদ্ধে আবেদন করেছেন।
ঢাকার এই অংশ থেকে মেয়র পদে আরো রয়েছে বিএনপির কেন্দ্রীয় অর্থনীতি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সালাম। আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন এবং বিএনপিপন্থি পেশাজীবী সংগঠন শিক্ষক কর্মচারি ঐক্যজোটের নেতা অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া।
বিএনপির প্রার্থীদের সবারই ব্যক্তিগত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে তবে তারা রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। অপরপক্ষে আব্দুল আউয়াল মিন্টু পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী।
আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতারা তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই নানাভাবে প্রচার প্রচারণায় আছেন। তাদের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠেছে। অপরদিকে অনুকূল পরিবেশ না থাকায় এখনও প্রকাশ্যে প্রচারণা চালাতে পারছে না বিএনপির প্রার্থীরা।
অন্য প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘন ও নিজেদের প্রার্থীদের প্রকাশ্যের প্রচারণার সুযোগ করে দিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে বারবার অনুযোগ করে আসছে বিএনপি। কিন্তু তাতে মোটেও কর্ণপাত করছে না নির্বাচন পরিচালনাকারী সাংবিধানিক এ প্রতিষ্ঠান। এ কারণে নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিএনপি ও তার সমমনা দলগুলো।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার বিএনপির পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ নির্বাচনের পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। একই সঙ্গে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা, দলীয় কার্যক্রমে বাধা এবং সারা দেশে দলীয় কার্যালয়ে তালা বিএনপির সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতিকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া অন্য দলগুলোর প্রার্থী চূড়ান্ত হলেও বিএনপি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে চূড়ান্ত কোনো প্রার্থী এখনো ঘোষণা করেনি। যেখানে ২৮ এপ্রিল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি নেতাদের যারা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন তারা কেউ কারাগারে কেউ আত্মগোপনে। প্রকাশ্যে আসার মতো সুযোগ পাবেন কি না তাও অনিশ্চিত। কারণ তাদের সবার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারে।
নির্বাচন নিয়ে দলের ভেতরেও যে সমন্বয়হীনতা রয়েছে তা নেতানেত্রীদের বক্তব্যে অনেকটা স্পষ্ট। মেয়র ও কাউন্সিলর পদে কাকে কাকে সমর্থন দেয়া হবে, শরিকদের ভূমিকা কী হবে, বিজয় নিশ্চিত করতে কী ধরনের কৌশল অবলম্বন করা হবে, নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনে বাধ্য করতে বিভিন্ন পর্যবেক্ষক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়গুলো এখনো স্পষ্ট নয়।
যেমন নির্বাচন মনিটরিং কমিটি সম্পর্কে হান্নান শাহর বক্তব্যে প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির সহ-সভাপতি বেগম সেলিমা রহমান বলেন, ‘এটা তো আমি ভালোভাবে বলতে পারবো না। যেহেতু হান্নান শাহ সাহেব উনি স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য, উনারাই বেশি ভালো জানেন। আমি কিছুই জানি না। কমিটি নিশ্চয়ই হবে। কারা কী, কবে নাগাদ কিচ্ছু বলতে পারছি না।’
প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে কি না জানতে চাইলে বলেন, ‘প্রার্থী চূড়ান্তের বিষয় নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।’
বিএনপির এই দোদুল্যমান অবস্থা দেখে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না শেষ পর্যন্ত তারা বিশেষ করে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে কি না। নাকি এ নির্বাচনে অংশগ্রহণের নামে সরকারের পরীক্ষা নিচ্ছে তারা। বিএনপি শেষ পর্যন্ত ক্ষমতাসীন দল ও নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতা প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে অভিযোগে ৫ জানুয়ারির পুনরাবৃত্তি ঘটাবে কি না তা দেখতে হলে আরো অন্তত সপ্তাহখানেক অপেক্ষা করতে হবে।