ঢাকাThursday , 2 April 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নগর সরকার চায় সিপিবি-বাসদ

Link Copied!

cpbনিজস্ব প্রতিবেদক: কার্যকর নগর সরকার প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। দল দুটির মতে, ঢাকার উন্নয়ন কাজে নিয়োজিত সংস্থাগুলোর সমন্বয় ছাড়া ঢাকাকে সকলের বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করার উদ্যোগ এগিয়ে নেয়া যাবে না। এজন্য ঢাকাসহ দেশের সব মহানগরগুলোয় নগর সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
বৃস্পতিবার দুপুরে প্রগতি সম্মেলন কক্ষে সিপিবি ও বাসদ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিপিবি’র কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স এ দাবির কথা তুলে ধরেন।
তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের নানা পদ ব্যবহার করে সিটি নির্বাচনকে প্রভাবিত করা হচ্ছে। নির্বাচনী আচরণবিধি তফসিল ঘোষণার পর কার্যকর করার কথা বলে কোটি কোটি টাকা খরচের বৈধতা দেয়া হয়েছে। ইলেকট্রনিকসহ নানা মাধ্যমে সমসুযোগের নীতিমালা না থাকায় ‘টাকা ও প্রভাব’ খাটিয়ে অনেক প্রাথী প্রচার পাচ্ছে। নির্বাচনকে লুটেরা ধনী ও বুর্জোয়া রাজনৈতিক দলের একক আধিপত্যে পরিণত করা হয়েছে।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
অচল ঢাকাকে সচল করে সকলের জন্য বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তোলার লক্ষে নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ঢাকা উত্তরে আব্দুল্লাহ আল কাফি রতন এবং ঢাকা দক্ষিণে বজলুর রশীদ ফিরোজের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করে সিপিবি ও বাসদ।
লিখিত বক্তব্যে রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে কার্যকর করে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে স্থানীয় সংস্থাগুলোর নির্বাচন নিয়মিত হওয়া জরুরি। তাই দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠেয় সিটি নির্বাচন বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। ঢাকার মানুষ যাতে উৎসব ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে ভোট দিয়ে তাদের প্রার্থী বেছে নিতে পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে এই নির্বাচনও মানুষের আস্থা অর্জনে সক্ষম হবে না।’ এজন্য নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘প্রচলিত নির্বাচন ব্যবস্থায় সার্বজনীন ভোটাধিকারের কথা বলা হলেও ‘ভোট দেয়া ও ভোটে দাঁড়ানোর’ সার্বজনীনতার অনুপস্থিতি সম্পর্কে আমরা দীর্ঘদিন ধরে দেশবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে আসছি। এবার ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীর জামানত বৃদ্ধি, টিআইএন বাধ্যতামূলক করে নির্বাচনকে টাকাওয়ালাদের জন্য আরো সহজ এবং সৎ নিষ্ঠাবান রাজনীতিক, নাগরিক অধিকার আন্দোলনের কর্মী, সাধারণ শ্রমজীবী মানুষদের জন্য কঠিন করে তোলা হয়েছে।’
রুহুল হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখার কথা বলা হলেও আমরা অতীতে এবং বর্তমানেও দেখছি এটি একটি চূড়ান্ত রাজনৈতিক নির্বাচন। নির্দলীয় নির্বাচনের এই তামাশা বন্ধ করতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘সকলের জন্য বাসযোগ্য ঢাকা আন্দোলন’ শক্তিশালী করে নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা না গেলে ঢাকা লুটেরা ধনীদের স্বর্গ ও সাধারণ মানুষের নরক রাজ্যে পরিণত হবে।’ এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে সাধারণ মানুষের ঐক্য গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘নির্বাচন ব্যবস্থাকে টাকার খেলা, সন্ত্রাস- পেশীশক্তি, সাম্প্রদায়িক-আঞ্চলিক প্রচার-প্রচারণা ও প্রশাসনিক কারসাজি মুক্ত না করতে পারলে ‘ন্যূনতম লেভেল- প্লেইং ফিল্ড’ করা যাবে না। শাসক দলগুলোর বুলি আওড়ানো লেভেল প্লেইং ফিল্ড আর বামপন্থিদের লেভেল প্লেইং ফিল্ড এর দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য রয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন, সিপিবি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য শামসুজ্জামান সেলিম, বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা জাহেদুল হক মিলু, সিপিবি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য সাজ্জাদ জহির চন্দন, আহসান হাবিব লাবলু, কেন্দ্রীয় নেতা ডা. সাজেদুল হক রুবেল ও বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুর রাজ্জাক। তারা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও জবাব দেন।