নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপি মনে করে স্বাধীনতার ৪৪ বছর পরও দেশে আজ পরাধীন। গণতন্ত্র, বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য ৭১ সালে যে বুকভরা আশা নিয়ে বাঙালি জাতি যুদ্ধ করেছিল এবং লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিল মহান স্বাধীনতা, সেই স্বাধীনতা আজ শকুনের নখে ক্ষতবিক্ষত।
বুধবার সন্ধ্যায় বরকত উল্লাহ বুলু স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘স্বাধীনতা দিবসে স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্দীপ্ত হয়ে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করতে হবে।’
বিবৃতিতে বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, ‘২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস। এই দিনে তৎকালীন সেনাবাহিনীর মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে স্বাধীনতাযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য জাতিকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। তার সেই ঐতিহাসিক ডাকে সাড়া দিয়ে সমগ্র জাতি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অংশগ্রহণের মাধ্যমে মাতৃভূমিকে রক্ষা করতে প্রাণপণ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।’
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘জাতির সঙ্গে প্রতারণা করে তামাশার নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যারা মানুষের ভোট ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের মাধ্যমে জোরজবরদস্তিমূলকভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করতে পারে তারা ক্ষমতা ধরে রাখা ছাড়া কখনোই জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে পারে না এটাই স্বাভাবিক। নাগরিকের বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণকারী এবং উৎপীড়ক ও লুটেরা আওয়ামী স্বৈরশাসনের কবল থেকে জাতিকে উদ্ধার করতে দেশবাসীকে সাথে নিয়ে ২০ দলীয় জোট যখন আন্দোলন সংগ্রামে বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে উপনীত, ঠিক তখনই মহাচক্রান্তের অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ সরকার আন্দোলন সংগ্রামের গতিধারাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার লক্ষ্যে রাজধানীর বিভক্ত দুই সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ডিঙ্গিয়ে যেদেশে কোনো সংস্থা নির্বাচন কমিশনকে স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় নির্ধারণ করে দিতে পারে সেদেশের নির্বাচন কমিশন কতটুকু স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও ক্ষমতাবান হতে পারে তা বুঝতে মহাজ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন নেই। নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে বিএনপিসহ অন্যান্য দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হলেও নির্বাচনে সুষ্ঠু ও শান্তিময় পরিবেশ নিশ্চিতের কোনো লক্ষণ এখনো পর্যন্ত দৃশ্যমান নয়।’

