আমাদের সমাজে একটি প্রবাদ বাক্য প্রচলিত-ছেলের কামাই, মেয়ের বয়স আর পত্রিকার প্রচার সংখ্যা বলতে নেই। কিন্তু এখন সংবাদপত্রের ক্ষেত্রে ঘটছে সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র। এখানে ঘটা করে পত্রিকার অসত্য প্রচার সংখ্যা জানান দেওয়া হয়। আর এর উপর ভিত্তি করে বিজ্ঞাপনের মনোপলি ব্যবসা করছে একটি চিহ্নিত মহল। একসময় সংবাদপত্রের এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল রাজধানীর মতিঝিল পাড়া। কালক্রমে সেটা চলে যায় তেজগাঁও শিল্প এলাকায়। হালে কারওয়ানবাজার ও বসুন্ধরায় এই খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু পত্রিকা বলতে পাঠক নন্দিত কাগজ আছে হাতেগোনা কয়েকটি মাত্র।
সূত্র নিশ্চিত করেছে রাজধানীর ফকিরাপুল থেকে অসংখ্য পত্রিকা প্রকাশিত হয়। যেগুলোর অফিস নেই বললেই চলে। সেখান থেকে কেবল মাস্ট পাল্টিয়ে একই শিরোনামে নামকাওয়াস্তে অসংখ্য দৈনিক প্রকাশ করা হচ্ছে। যেগুলোর প্রকাশিত সংখ্যা ঘোষিত সংখ্যার সঙ্গে আকাশ-পাতাল ব্যবধান। মূলত মেকআপের সুযোগ থাকা ছাপাখানার মালিকপক্ষের সঙ্গে আঁতাত করে বিজ্ঞাপনের উপর নির্ভর ছিল এসব দৈনিক সেখানে মেকআপ করে এবং কয়েক ডজন ছাপে মাত্র। এভাবে অফিসহীন দৈনিক পত্রিকাগুলো ফকিরাপুলের একশ্রেণীর প্রেস মালিকের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে কোনোরকমে আলোর মুখ দেখছে। নিয়ম অনুযায়ী মালিকের সঙ্গে ভাড়ার চুক্তিপত্র থাকলেও অফিসের ঠিকানা অনেক দৈনিকেরই ঘোষিত স্থানে নেই। ছাপা হয় না ঘোষিত ছাপাখানায়। প্রকাশ্যে এসব পাহাড়সম অনিয়ম চলে আসলেও এ ব্যাপারে দায়িত্বশীলরা তদন্তের নামে ওইসব দৈনিককে নিয়িমত লাখ লাখ প্রকাশনার সার্টিফিকেট বিতরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, অখ্যাত রাজনৈতিক দলগুলোর মতো ঘোষিত নির্দিষ্ট ঠিকানার বদলে যত্রতত্র সাইন বোর্ড ঝুলছে এসব দৈনিকের। এসব দেখেও না দেখার ভান করছে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারের একশ্রেণীর বেতন ভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারী। যে কারণে নিয়মিত প্রকাশিত, পাঠকের হাতে যাওয়া সর্বোপরি সরকারী বিভিন্ন দফতরে পৌঁছে দেওয়া মালিকপক্ষ হতাশ ও ক্ষুব্ধ। অভিজ্ঞ মহলের মতে, যারা সরকারের বিজ্ঞাপন সুবিধা ভোগ করবে, অথচ সাংবাদিক-কর্মচারী রাখবে না, নিয়মিত প্রকাশ করবে না- ফকিরাপুল নির্ভর এসব পত্রিকার প্রকাশনা কি করে টিকে আছে, এই যৌক্তিক প্রশ্ন নীতিবান সাংবাদিক ও সম্পাদকদের। একই প্রশ্ন সচেতন জনগোষ্ঠীর। গণমাধ্যমে চলমান এই নৈরাজ্যের দ্রুত অবসান হবে, এ প্রত্যাশা সাংবাদিক সমাজের। দীর্ঘ দিনের এই নৈরাজ্য বন্ধে সচেতন সাংবাদিকমহল তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টার আশুহস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

