জেলার সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ২৩ নভেম্বর। ঠিক এই গুরুত্বপূর্ণ সময়েই শহরের দুই স্থানে বাণিজ্যিক মেলার আয়োজনকে ঘিরে ক্ষুব্ধ অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকমহল। তাদের অভিযোগ উচ্চশব্দের মাইকিং, অনুষ্ঠান ও রাত পর্যন্ত চলা কোলাহলে পরীক্ষার প্রাক্কালে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। এতে শিশু শিক্ষার পরিবেশ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে সাধারণ পাঠাগার মাঠে বিসিকের নামে একটি বাণিজ্য মেলার কার্যক্রম চলছে। অন্যদিকে, রোড যুবসংসদ মাঠেও চেম্বার অব কমার্সের বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সম্পন্ন। বিকেল গড়াতেই মেলা প্রাঙ্গণে ভিড়, উচ্চশব্দের গান-বাজনা ও মাইকিংয়ে আশপাশের এলাকায় তৈরি হচ্ছে প্রচণ্ড শব্দদূষণ। এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জানান, “গত সপ্তাহজুড়ে প্রেসক্লাবের সামনে চলমান মেলার শব্দে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন শিক্ষার্থীরা ভীষণভাবে বিরক্ত। আশ্চর্যের বিষয়, সাংবাদিক মহল থেকেও এ নিয়ে কোনো প্রতিবাদ বা রিপোর্ট প্রকাশ পায়নি এ যেন জাতির বিবেকহীনতার পরিচয়।” সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা বলেন, “গতকাল পরীক্ষার সময় উচ্চশব্দে গান বাজিয়ে পরীক্ষা ব্যাহত করেছে মেলা কর্তৃপক্ষ। বাধ্য হয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছি।” অভিভাবকদের অভিযোগ আরও কঠোর। তারা বলেন, পরীক্ষার সময় এমন আয়োজন কখনোই ঠাকুরগাঁওয়ে দেখা যায়নি। একজন অভিভাবক বলেন, “যাদের সন্তানরা অন্যত্র পড়ে তারাই এ ধরনের মেলা আয়োজন করছে। আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ যেন তাদের কাছে মূল্যহীন।” শিক্ষাবিদরা মনে করেন, বার্ষিক পরীক্ষার ঠিক আগে বাণিজ্যিক মেলা অনুমোদন দেওয়া শিশুদের শিক্ষার অধিকারের পরিপন্থী। তাদের ভাষায়, “এটি শুধু শব্দদূষণ নয়, এটি শিক্ষার ভিত দুর্বল করে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত।” এদিকে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও দেখা দিয়েছে তীব্র প্রশ্ন। অভিযোগ উঠেছে পরিস্থিতি বিবেচনা না করেই মেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ফলে পরীক্ষার সময়ে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ নষ্ট হওয়ার পুরো দায় প্রশাসনের ওপরই বর্তায় বলে মনে করছেন অভিভাবকরা। অভিভাবক ও শিক্ষামহল জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বলেন, “শিশুদের ভবিষ্যৎ কোনো ক্ষণস্থায়ী বিনোদনের চেয়ে বড়। প্রশাসন যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তবে শিক্ষাবর্ষের ক্ষতির দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে।” শিক্ষাপ্রেমী মহল আশা করছে, প্রশাসন দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেবে এবং ঠাকুরগাঁওয়ের সব শিক্ষার্থী যেন নিরবচ্ছিন্ন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারে তা নিশ্চিত করবে।

