ঢাকাTuesday , 25 November 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পাউবোতে স্বৈরাচারের ভূত!

Link Copied!

জগদ্দল পাথরের মতো জাতির ঘাড়ে চেপে বসা দীর্ঘ ১৬ বছরের স্বৈরাচারের পতন ঘটেছে। ফ্যাসিবাদের জননী পালিয়ে গেছে দেশ ছেড়ে। স্বৈরাচার পালালেও তার দোসররা এখনও বহাল তবিয়তে। বসে আছে প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতিবাজরা। ঘাপটি মেরে নয়, আছে ফুরফুরে মেজাজেও। পানি উন্নয়ন বোর্ডে স্বৈরাচারের সুবিধা ভোগীরা এখনও ছড়ি ঘোরাচ্ছেন দোর্দন্ড প্রতাপের সঙ্গে। তারাই এখন সর্বেসর্বা। ফ্যাসিবাদী আমলে সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও সচিব কবির বিন আনোয়ারের আস্থাভাজন হিসেবে বহুল আলোচিত ও পরিচিত বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী প্রকৌশলীরা এখনও লোভনীয় পদে আসীন। তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি এতটুকুও কমেনি। বরং ক্ষেত্রবিশেষে তারা একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করেছেন। তারা খুবই সংঘবদ্ধ। স্বৈরাচারের ভূত হিসেবে শুধু নয়, হাল আমলে প্রভাবশালী হিসেবে তারা নতুনভাবে আবির্ভূত হয়েছেন। জুলাই-আগস্টের ব্যাপক পরিবর্তনের প্রভাব তাদের টিকিটিও স্পর্শ করতে পারেনি। এতে যারপরনাই হতাশ ও ক্ষুব্ধ ফ্যাসিবাদের কবলে পিষ্ট দীর্ঘ ১৬ বছর বঞ্চিত জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী পাউবোর দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। স্বৈরাচারের দোসরদের কাঁচা পয়সা, একচেটিয়া মনোভাব ও সংঘবদ্ধ প্রভাবের কাছে তারা অসহায়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকা পওর বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এম এল সৈকত, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কোহিনুর আলম ও দেওয়ান আইনুল হক গংরা বাকশালী আমলের মতোই গায়ে হাওয়া লাগিয়ে বেশ আরাম আয়েশেই আছেন। কেউ কেউ আছেন বড় বড় প্রকল্পের লোভনীয় পদে। ধরাকে সরা জ্ঞান করে তারা আগের মতোই দেশের অর্থের শ্রাদ্ধ করছে। এক রকম বিনা বাধায় তারা হরিলুট করছে বললে কমই বলা হবে। এমনটাই অভিমত তাদের সহকর্মীদের। শুধু রাজধানী ঢাকা নয়, সারাদেশের লোভনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ পদে বসে আছেন বিগত দিনের সুবিধাবাদীরা। আর আজও বঞ্চনার কাঁতারে বন্দি ও স্বচ্ছতায় বিশ্বাসী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আর যারা সেই সময় প্রতিমন্ত্রী ও সচিবকে ম্যানেজ করে দুই হাতে কামিয়েছেন এবং তাদের ফরমায়েস খেটে আঙুল ফুলে কলাগাছে রূপান্তরিত হয়েছেন, তারা সেই অর্থ জায়গা মতো ঢেলে এখন বাপাউবোর গুরুত্বপূর্ণ পদপদবি দখলে রেখেছেন।
দৃশ্যত স্বৈরাচারের পতন ঘটেছে এবং ফ্যাসিবা দেশ ছেড়ে পালালেও অবস্থার যে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন ঘটেনি, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) তার জ্বলন্ত উদাহরণ। পাউবোর সৎ, অভিজ্ঞ, দক্ষ ও মেধাবী কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা শতভাগ যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও পিডি, নির্বাহী প্রকৌশলীর মতো পদগুলো থেকে যোজন যোজন দূরে। শুধু কি তাই, স্বৈরাচারের আমলে পিডির দায়িত্বপ্রাপ্তরা এখনও স্বপদে বহাল।
যে চিহ্নিত চক্রটি অবাধে নিয়োগ বাণিজ্য থেকে শুরু করে টেন্ডার বাণিজ্য করেছেন, তারাই আজ পাউবোর হোমরা-চোমরা! নামমাত্র টেন্ডার দিয়ে পরস্পরের যোগসাজশে কাজ না করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ভূরি ভূরি অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে। এসব করে অবৈধভাবে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাটকারীরা কী করে এখনও বহালতবিয়তে। সে প্রশ্ন মন্ত্রণালয়ে সবার মুখে মুখে। গ্রেফতারকৃত পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তারাও কামিয়েছে ঢের। সেই টাকায় তারা এখন বাবুগিরি শুধু নয়, দাদাগিরিও করছেন। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের যোগ্য, সৎ, অভিজ্ঞ, দক্ষ ও মেধাবী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চির বঞ্চনার কাঁতারে শামিল। এতে তাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। যে কোনো সময় এই যৌক্তিক ক্ষোভের বিস্ফোরণও ঘটতে পারে। সরেজমিন পাউবোর বিভিন্ন ডিভিশন এবং জেলা ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি লোভনীয় পদে বসে ছড়ি ঘোরাচ্ছেন স্বৈরাচারের দোসররা। সূত্র জানায়, দুর্নীতিবাজ ও সুযোগ সন্ধানীরা পাউবোর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই নির্বিঘ্নে সব অপকর্ম চালিয়ে আসছেন। এক বুক আশা নিয়ে যারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জীবন বাজি রেখে আওয়ামী পেটুয়া বাহিনীর বুলেট ও রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে রাজপথ কাঁপিয়ে ফ্যাসিবাদকে উৎখাত করেছে, সেই তারা আজ ফ্যাসিবাদের দোসরদের কাছেই অসহায়।