ঢাকাWednesday , 22 October 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জয়পুরহাটে ছেলেকে অপহরণের হুমকি দিয়ে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, আদালতে মামলা

Link Copied!

জয়পুরহাটের কালাইয়ে ছেলেকে অপহরণের হুমকি দিয়ে বাবার কাছে ১৫ লাখ টাকা দাবি করেছিল দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় এক মাস আগে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরামর্শে হুমকিদাতার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন তাঁরা। শেষ পর্যন্ত ৫ লাখ টাকায় রফা হয়।
নির্ধারিত জায়গায় টাকার ‘ডামি’ ব্যাগ রেখে পরিবারটি আড়ালে ছিল। টাকা নিতে সেখানে আসেন এক ব্যক্তি। তাঁকে হাতেনাতে আটক করলে উপস্থিত সবাই হতবাক আটক ব্যক্তি তাঁদের জামাতা! এরপর তাঁকে মারধর করে শ্বশুরবাড়িতে নেওয়া হয়। ১৫ অক্টোবর রাতে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে। ধরা পড়েন জামাতা আটক ওই ব্যক্তির নাম রাসেল আহাম্মেদ (৩২)। তিনি উপজেলার দক্ষিণ পাকুরিয়া গ্রামের মোক্তার আলীর ছেলে। তাঁর শ্বশুরবাড়ি উপজেলার একডালা গ্রামে। আটকের পর রাসেল স্বীকার করেন, শ্যালকের ছেলেকে অপহরণের হুমকি দিয়ে তিনি টাকা আদায়ের চেষ্টা করেছিলেন। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে শ্বশুরবাড়ি থেকে ছাড়া পাওয়ার পর ঘটনাটির মোড় ঘুরে যায়। রাসেল হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে তিনি শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগে আদালতে মামলা করেন। আদালত থানার ওসিকে মামলা রেকর্ড করার নির্দেশ দেন। মামলায় তার শ্বশুর, শ্যালকসহ সাতজনকে আসামি করা হয়। অন্যদিকে শাহিদুল ইসলাম (শ্বশুর) তার বোনজামাই রাসেল আহাম্মেদের বিরুদ্ধে থানায় একটি এজাহার দেন। তবে কালাই থানা–পুলিশ দুজনের কারও মামলা তখন পর্যন্ত নথিভুক্ত করেনি। পেছনের কাহিনি থানা-পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একডালা গ্রামের শাহিদুল ইসলামের হোয়াটসঅ্যাপে অপরিচিত একটি নম্বর থেকে ১৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাঁর সাত বছর বয়সী ছেলে শাহরিয়ারকে অপহরণ করে হত্যা ও লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় শাহিদুল ইসলাম গত ২৭ সেপ্টেম্বর থানায় একটি জিডি করেন। পরে আবারও হুমকি আসে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরামর্শে শাহিদুল হুমকিদাতার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন এবং শেষ পর্যন্ত ৫ লাখ টাকায় রফা হয়। শাহিদুলকে ভাবকী গ্রামের ইটাখোলা নিশ্চিন্তা যাওয়ার রাস্তার তিনমাথা মোড়ে টাকা রাখতে বলা হয়। গত ১৫ অক্টোবর রাতে সেখানে পরিবারের সদস্যরা ‘ডামি’ ব্যাগ রেখে আড়ালে থাকেন। রাত ১০টার দিকে ব্যাগ নিতে এলে তাঁরা রাসেল আহাম্মেদকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। পরে তাকে মারধর করে শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। মারধর, আপস ও পাল্টা মামলা পরদিন স্থানীয় ইউপি সদস্য হাসান আলীর মধ্যস্থতায় রাসেলকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে তিনি জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে আদালতে মামলা করেন। এর আগেই শাহিদুল ইসলাম থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। রাসেল আহাম্মেদ বর্তমানে নিজ বাড়িতে আছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, স্ত্রীর সঙ্গে আমার দ্বন্দ্ব চলছিল। টাকা চাওয়ার নাটক সাজিয়ে মায়ের ওষুধ কিনতে ফেরার সময় আমাকে তুলে এনে মারধর করে হত্যার ভয় দেখানো হয়। এ কারণেই স্বীকারোক্তি দিয়েছিলাম। আমি আদালতে মামলা করেছি, কিন্তু পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে না।” অন্যদিকে শাহিদুল ইসলাম বলেন,হুমকিদাতার সঙ্গে রফাদফা হওয়ার পর আমরা নির্ধারিত স্থানে টাকা রেখে আড়ালে ছিলাম। তখন আমার বোনজামাই রাসেল টাকা নিতে আসে। হাতেনাতে ধরেছি। পরে নিজেরাই আপস করেছি।” রাসেল অবশ্য দাবি করেন,তাঁরা আমার কাছেই টাকা চান, আমি কোনো আপস করিনি। কালাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহিদ হোসেন বলেন, শাহিদুলের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে ১৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল। তখন থানায় জিডি হয়েছিল। নির্ধারিত জায়গায় টাকা নিতে গিয়ে রাসেল আহাম্মেদকে ধরা হয়। তিনি আদালতে মামলা করেছেন, আর শাহিদুল থানায় এজাহার দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশের কপি থানায় এসেছে, দ্রুত মামলাগুলো নথিভুক্ত করা হবে।