ইলিশ প্রজনন মৌসুমে সরকারের জারি করা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরায় সময় ৬টি ফিশিং ট্রলারসহ ১০৪ জন জেলেকে আটক করেছে নৌবাহিনী। সোমবার (২০ অক্টোবর) গভীর সমুদ্র থেকে অভিযান চালিয়ে ৬টি ফিশিং ট্রলারসহ তাদের আটক করা হয়। পরদিন মঙ্গলবার(২১অক্টোবর) বিকেলে আটক জেলেদের মোংলার দিগরাজ নৌঘাঁটিতে আনা হয়। জব্দকৃত নৌকাগুলোতে বিপুল পরিমাণ জাল ও সদ্য আহরিত প্রায় ৪ মেট্রিক টন সামুদ্রিক মাছ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে এসব নৌকা ও জেলেদের মোংলা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর ) জব্দকৃত মাছগুলো বাগেরহাট জেলার ৯৮টি সরকারি-বেসরকারি এতিমখানা ও লীল্লা বোর্ডিংয়ে বিতরণ করা হয়। এসব এতিমখানা বাগেরহাট সদর, মোংলা, রামপাল ও দাকোপ উপজেলায় অবস্থিত। বাংলাদেশের বিদ্যমান মৎস্য আইন অনুযায়ী জব্দকৃত ৬টি ট্রলারের মালিকদের মোট ১৩ লাখ ৪৩ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মাছ বিতরণ কার্যক্রমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজকুমার বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আক্তার সুমি। এসময় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে মোংলা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাহিদ হোসেন বলেন-মাছের প্রজনন মৌসুমে সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ যেন মাছ ধরতে না পারে, সে জন্য নৌবাহিনী ও মৎস্য বিভাগ নিয়মিত যৌথ অভিযান চালাচ্ছে। সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।” তিনি আরও বলেন- সরকারি নির্দেশনা মেনে চললে মাছের উৎপাদন বাড়বে এবং জেলেরা দীর্ঘমেয়াদে আরও লাভবান হবে।” উল্লেখ্য, সামুদ্রিক মাছের প্রজনন সংরক্ষণের স্বার্থে প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বঙ্গোপসাগরে মৎস্য আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার। নিষিদ্ধ সময় জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান ও খাদ্য সহায়তাও প্রদান করা হয়।

