খুচরা সার বিক্রেতাদের লাইসেন্স স্থগিত ও পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে খুচরা সার বিক্রেতা অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কেএসবিএবি) ঠাকুরগাঁও জেলা শাখা। গত বুধবার দুপুরে শহরের চৌরাস্তায় সংগঠনটির ব্যানারে অনুষ্ঠিত হয় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন কেএসবিএবি ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সমন্বয়ক এম.কে.এ হাবীব সরকার ও সহসমন্বয়ক মো. সিরাজুল ইসলাম (সিরাজ)। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি কৃষি উপদেষ্টার এক সংবাদ সম্মেলনে লাইসেন্সধারী খুচরা সার বিক্রেতাদের সনদ স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে এই পেশায় নিয়োজিত হাজারো বিক্রেতার জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। বিক্রেতারা জানান, তাঁরা প্রায় তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে পারিবারিকভাবে সার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। অনেকে ব্যাংক ঋণ ও কিস্তি পরিশোধের মাধ্যমে এই ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছেন। কৃষি মৌসুমে নগদ অর্থের অভাবে চাষিদের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁরা প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত বাকিতে সার সরবরাহ করেন। তাঁদের ভাষায়, “এই পেশা বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাস্তায় নামা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।” স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, যেখানে রাষ্ট্রের দায়িত্ব জনগণের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা, সেখানে উল্টোভাবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কর্মহীন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিক্রেতাদের দাবি, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী জামানত জমা দিয়ে ও আইডি কার্ড নিয়ে তাঁরা তৃণমূলে ন্যায্যমূল্যে সার বিতরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তারা আরও বলেন, “দেশজুড়ে প্রায় ৪৪ হাজার খুচরা বিক্রেতা যদি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পায়, তবে সার সিন্ডিকেট নির্মূল করা সম্ভব হবে।” সংগঠনটি জানায়, খুচরা সার বিক্রেতাদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন হিসেবে ট্রেড অর্গানাইজেশন (টিও) নিবন্ধনের জন্য তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে আসছেন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের পূর্বের নেতিবাচক মতামত পুনর্বিবেচনা করে তাঁদের অনুকূলে টিও নিবন্ধন প্রদান এবং আগামী ২৫ অক্টোবর মধ্যে আইডি কার্ডধারী বিক্রেতাদের কার্যক্রম চালু রাখার দাবি জানানো হয়।

