পাঞ্জেরী ডেস্ক: নিখোঁজ বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন আহমেদকে অনতিবিলম্বে তার পরিবারের কাছে ফেরত দেয়ার কিংবা আদালতে হাজির করার দাবি জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘অন্যথায় ভবিষ্যতে এর জন্য সরকারকে কঠিন পরিণতির সন্মুখীন হতে হবে।’
রোববার বিকেলে মারুফ কামাল খান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেছেন বেগম জিয়া।
বিৃবতিতে বেগম জিয়া আরো বলেছেন, ‘সালাহ উদ্দিন আহমেদের মতো একজন রাজনীতিবিদ এভাবে উধাও হয়ে যাবে আর ক্ষমতাসীনরা সেটা নিয়ে উৎকট রসিকতা করে পার পেয়ে যাবেন এমন মনে করার কোনো কারণ নেই। আমি রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, মানবাধিকার সংগঠন, বিভিন্ন সমাজশক্তি ও সচেতন নাগরিকদের এ ব্যাপারে সোচ্চার হবার আহ্বান জানাই। কেননা দেশে এখন কেউ-ই নিরাপদ নয়। যে কেউ যেকোন সময় গুম কিংবা খুন হয়ে যেতে পারেন।’
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ‘আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সালাহ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার আগে-পরে স্থানীয় তরুণ ও নিরাপত্তাকর্মী এবং বাসার দারোয়ানের সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে। তাদের পরিচালিত অভিযানের অনেক প্রত্যক্ষদর্শী রয়েছেন। কাজেই তাকে গ্রেপ্তারের কথা অস্বীকার করে দায় এড়াবার কোনো সুযোগ নেই। এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ উৎকণ্ঠার বিষয়টাও সরকারের মনে রাখা উচিৎ।’
বেগম জিয়া আরো বলেছেন, ‘বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের নিখোঁজ ও গুম করে ফেলা আওয়ামী সরকারের আমলে এক নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। গ্রেপ্তারের কথা অস্বীকারের পর বিভিন্ন জায়গায় নেতা-কর্মীদের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধারের ঘটনাও প্রায়শই ঘটছে। অনেকের পরিবার লাশটি পর্যন্ত ফেরত পায়নি। বিএনপি নেতা সাবেক এমপি এম ইলিয়াস আলী, লাকসামের সাবেক এমপি সাইফুল ইসলাম হিরু, ঢাকার নির্বাচিত কমিশনার চৌধুরী আলম এবং লাকসাম পৌর বিএনপি সভাপতি হুমায়ুন কবীর পারভেজের মতো অনেককে গ্রেপ্তারের পর তাদেরকে গুম করা হয়েছে। দীর্ঘদিনেও তাদের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। একটি সভ্য দেশে ক্ষমতার দখলদারি টিকিয়ে রাখার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এমন গেস্টোপো বাহিনীর মত ব্যবহার করাকে কোনো মতেই মেনে নেয়া যায় না।’

