ঢাকাSunday , 19 October 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিএনপিকে দুটি বুলেটপ্রুফ গাড়ি কেনার অনুমতি, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের আবেদন বিবেচনায়

Link Copied!

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রচারণার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দলটিকে দুটি বুলেটপ্রুফ গাড়ি কেনার অনুমতি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত জুন মাসে একটি বুলেটপ্রুফ গাড়ি কেনার অনুমতি দেওয়া হয়। চলতি মাসের শুরুতে অনুমোদন মেলে একটি বুলেটপ্রুফ বাস কেনার ক্ষেত্রেও। দলটি এখনো কোন দেশ থেকে ও কোন মডেলের গাড়ি আনবে, তা চূড়ান্ত করেনি। তবে জাপান থেকে গাড়ি আনার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।

বিএনপির চেয়ারপারসনের নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর জানান, নির্বাচনী সময় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান দেশজুড়ে জনসংযোগ করবেন। তিনি বলেন, “এই সময়ে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। তাই বুলেটপ্রুফ গাড়ি কেনা হচ্ছে।”

এদিকে, বুলেটপ্রুফ গাড়ির পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের জন্যও আবেদন করেছে বিএনপি। দলটি একটি শটগান ও দুটি পিস্তলের লাইসেন্স চেয়েছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে বিবেচনাধীন রয়েছে।

বুলেটপ্রুফ গাড়ি আমদানিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি বাধ্যতামূলক। সাধারণত এ অনুমতি দেওয়া হয় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, তিন বাহিনীর প্রধান, বিদেশি দূতাবাস বা জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তাদের জন্য। রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে এ ধরনের অনুমতি খুবই বিরল।

রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিকারকদের সংগঠন বারভিডা জানিয়েছে, সাধারণত জাপান, কানাডা ও জার্মানি থেকেই বুলেটপ্রুফ গাড়ি আনা হয়। বারভিডার সভাপতি আবদুল হক বলেন, “বেসরকারিভাবে বুলেটপ্রুফ গাড়ি আমদানির অনুমতি সচরাচর মেলে না। সরকারই রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এমন অনুমতি দেয়।”
তাঁর মতে, একেকটি বুলেটপ্রুফ গাড়ির মূল দাম প্রায় ২ লাখ ডলার (প্রায় ২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা)। ৮০০ শতাংশ শুল্কসহ আনতে গেলে খরচ দাঁড়াতে পারে প্রায় ২২ কোটি টাকা।

বিএনপির কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত গত জুনে মন্ত্রণালয়ে আবেদন দেন খালেদা জিয়া ও তাঁর পরিবারের সার্বক্ষণিক ব্যবহারের জন্য একটি বুলেটপ্রুফ গাড়ি কেনার অনুমতি চেয়ে। পরে দলটির পক্ষ থেকে আরেকটি বুলেটপ্রুফ বাসের অনুমতিও চাওয়া হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান সারা দেশে প্রচারণায় অংশ নেবেন। পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, আওয়ামী লীগপন্থী বা বিদেশি এজেন্টদের মাধ্যমে তাঁদের ওপর হামলার আশঙ্কা রয়েছে। এসব ঝুঁকি বিবেচনায় বুলেটপ্রুফ গাড়ির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারণা, দলটির কিছু সমর্থক নির্বাচনী অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। ফলে জিয়া পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

২০০৮ সাল থেকে লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমান সম্প্রতি বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তিনি দ্রুতই দেশে ফিরবেন এবং নির্বাচনে অংশ নেবেন।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২০ এপ্রিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তাবিথ আউয়ালের পক্ষে প্রচারণাকালে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। তখন তাঁর গাড়িটি বুলেটপ্রুফ ছিল না।

এসব প্রেক্ষাপটে পুলিশের বিশেষ শাখা এক প্রতিবেদনে জানায়, নির্বাচনী জনসভা, রোডমার্চ বা অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মসূচির সময় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ওপর হামলার আশঙ্কা রয়েছে। বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় তাঁদের ব্যবহারের জন্য বুলেটপ্রুফ গাড়ির অনাপত্তি দেওয়া হয়েছে।