মণিরামপুর উপজেলার দুঃখ দুদর্শনা নামে খ্যাত ভবদহ। প্রতি বছর ভবদহ অঞ্চলে স্থায়ী জলবদ্ধতায় রুপ নেয়। যে কারণে কৃষকের হাজার হাজার একর ফসলি জমি পানিতে ডুবে থাকে। মণিরামপুর, কেশবপুর ও অভয়নগর উপজেলার রাজনৈতিক প্রতিনিধি, এমপি, মন্ত্রী ও চেয়ারম্যানগণ নির্বাচন আসলে আশ্বাস দিয়ে তাদের মেয়াদ উত্তীর্ণ করে। তারপরও যেটুকু কাজ হয় তাও নামকাস্তে। তাই ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতোমধ্যে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে ভবদহ রক্ষা আন্দোলন কমিটি। সেই সকল পদক্ষেপ বাস্তবায়ন ও ৬ দফা দাবিতে রোববার ভবদহ দিবসে মশিয়াহাটি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দাবিগুলো হচ্ছে দ্রুত আমডাঙ্গা খালের জমি অধিগ্রহণ ও সংস্কার কাজ শুরু করা, ৮১ কিলোমিটার নদি খননের কাজ শুরু, বিলে বিলে টিআরএম চালু, ২১ ভেন্টের সকল গেট খুলে দেয়া, ঘের নীতিমালা- ২০১৯ বাস্তবায়ন ও ২০১৬ সালের পাঁচ অক্টোবর নওয়াপাড়ায় পুলিশি হামলার সাথে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা। সংগঠনের আহ্বায়ক রণজিৎ বাওয়ালীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ, যুগ্ম আহবায়ক গাজী আব্দুল হামিদ, সদস্য সচিব চৈতন্য কুমার পাল, ফিলিস্তি সংহতি কমিটি বাংলাদেশেরর আহ্বায়ক ডা. অধ্যাপক হারুন অর রশিদ, সংগঠনের উপদেষ্টা তসলিম-উর-রহমান। সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন ভৈরব নদ সংস্কার আন্দোলনের নেতা জিল্লুর রহমান ভিটু, কপোতাক্ষ নদ বাঁচাও আন্দোলনের নেতা অ্যাড. আমিনুর রহমান হিরু, মুক্তেশ্বরী সংস্কার আন্দোলনের নেতা আলাউদ্দিন, জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্রদের যশোরের সমন্বয়ক রাশেদ খান, রধুনাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান মনোজিত বালা, মাসুদ শেখ, আব্দুল মান্নান মোল্লা, বাপার আবু সাঈদ প্রমুখ। সমাবেশে ২০১৬ সালের পুলিশি হামলায় আহতদেরকে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। এছাড়া মঞ্চে স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন তৃষা চামেলি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শেখর বিশ্বাস ও শিবপদ বিশ্বাস। সমাবেশ শেষে বাউল গান পরিবেশিত হয়। এ সময় বক্তারা বলেন, ভবদহ অঞ্চলের যশোরের মণিরামপুর, অভয়নগর, কেশবপুর, ও সদর (আংশিক) এবং খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা (আংশিক) উপজেলায় প্রতিবছর জলাবদ্ধতার কারণে বাড়ি ঘর, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কবরস্থান, শ্মশান, মসজিদ, মন্দির, খেলার মাঠ, রাস্তা, ঘাট, ফসলী জমি পানিতে ডুবছে। নিত্য সঙ্গী এই স্থায়ী জলাবদ্ধতায় শিশু নারী বৃদ্ধ ডুবে মরছে। রোগ-বালাই এখনারকার মানুষের নিত্য সঙ্গী। মানুষ সৃষ্ট এই জলাবদ্ধতার গ্রাস থেকে বাঁচার জন্য হামলা, নিপীড়ন, হয়রানির শিকার হয়েও নিতান্তই বাঁচার তাগিদে ভুক্তভোগী এলাকার মানুষ লাগাতার সংগ্রাম করে আসছে। বর্তমান সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ভবদহ অঞ্চলের মানুষের নিম্নোক্ত প্রাণের দাবি বাস্তবায়নের জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন পদক্ষেপ ও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে কিন্তু তা এখনও বাস্তবায়ন করা হয়নি। টিআরএম চালু হওয়া বিলের মধ্যে একটি মেশিন রাখতে হবে যা দ্বারা দিনের শেষ পর্যন্ত যাতে পলি পৌঁছাতে পারে। এবং নির্মিত ভেড়ি কাজ শেষে অপসারণ করা হয় এই মর্মে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি ও আইডব্লিউএম যে সকল বিলে জরিপ পরিচালনা করেছেন সেখানে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে সরকারকে জানানো হয়েছে।

