ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে খোকন মিয়া নামে এক রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠে এসেছে। নিহত খোকন মিয়া উপজেলার মগটুলা ইউনিয়নের করমা গ্রামের কছিম উদ্দিনের ছেলে। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।
ঘটনার পর স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ রাত ১টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে খোকন মিয়াকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত খোকন মিয়ার বাবা কছিম উদ্দিন ও গিয়াস উদ্দিন দুই ভাই ছিলেন। গিয়াস উদ্দিনের মৃত্যুর পর তার ছেলেদের সাথে কছিম উদ্দিনের জমি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এই বিরোধের জেরে উভয় পক্ষের মধ্যে ইতোপূর্বেও কয়েক দফা মারামারি ও মামলা হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা বার বার ব্যর্থ হয়। শুক্রবার রাতে পুরনো বিরোধকে কেন্দ্র করে গিয়াস উদ্দিনের ছেলে নজরুল ইসলাম ও পরিবারের অন্যন্যা সদস্যরা মিলে চাচাতো ভাই খোকন মিয়াকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। নিহতের দুই হাত ও দুই পা ভেঙে ফেলা হয় আর মাথায়ও জখম ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহত খোকনের ছেলে বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে আমার বাবাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে নজরুল ও তার ভাইয়েরা। আমরা এর সঠিক বিচার দাবি করছি। এ ঘটনায় জোসনা আক্তার ও সোহাগ নামে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘এটি পূর্ব বিরোধজনিত হত্যাকাণ্ড। ঘটনার পর আহত অবস্থায় খোকন মিয়াকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার হাত-পা ভাঙা ও মাথায় গুরুতর আঘাত ছিল। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

