কুমিল্লায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সর্দারসহ ১৪ ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবিদ্বার পৌর এলাকার ভিংলাবাড়ি মডেল মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। বুধবার (১ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লা পুলিশ সুপার (এসপি) নজির আহমেদ খান এক প্রেসবিফিং-এ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গ্রেফতার কৃতরা হলেন- মুরাদনগর উপজেলার উড়িরচর খা-বাড়ির মৃত: আবুল হাসেমের পুত্র মোঃ মনির হোসেন তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ২১টি মামলা রয়েছে। দেবিদ্বার উপজেলার বরকামতা ইউনিয়নের নবিয়াবাদ গ্রামের মৃত: সোনামিয়ার পুত্র শাহ আলম দুলাল। সে ডাকাত দলের নেতা, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ২৬টি ডাকাতি মামলা রয়েছে। ব্রাহ্মনপাড়া উপজেলার সিদলাই গ্রামের ফরিদ মিয়ার পুত্র মোঃ মামুন মিয়া, একই উপজেলার মোখলেসুর রহমানের পুত্র মাহবুব আলম, কুমিল্লা সদর দক্ষিন উপজেলার বারপাড়া ইউনিয়নের বিজয়পুর গ্রামের ইলিয়াছের পুত্র আলমগীর হোসেন, বুড়িচং উপজেলার জুরাইন মাইকপাড়া গ্রামের মৃত: নসু মিয়ার পুত্র মোঃ আল আমিন, তার বিরুদ্ধে ৭টি ডাকাতি মামলা রয়েছে। বরুরা উপজেলার মহেশপুর কাজী বাড়ির মৃত: আব্দুর রবের পুত্র মোঃ কামাল হোসেন, একই উপজেলার খোশবাশ ইউনিয়নের বাশতলী নোয়াবাড়ি গ্রামের আব্দুল করিমের পুত্র মোঃ খোকন, তার বিরুদ্ধে ৯টি মামলা রয়েছে। একই উপজেলার দক্ষিণ হোসেনপুর গ্রামের মুবিনের পুত্র আল আমিন। চান্দিনা উপজেলার গল্লাই ইউনিয়নের কংগাই গ্রামের তাজুল ইসলামের পুত্র শরীফ মোশারফ শরীফ। একই উপজেলার বারেরা ইউনিয়নের চিলোড়া গ্রামের আব্দুল খালেকের পুত্র মোঃ সুমন, তার বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা রয়েছে। একই উপজেলার চিলোড়া উত্তরপাড়া গ্রামের আব্দুল খালেকের পুত্র মো. সোহেল, তার বিরুদ্ধে ১৫টি ডাকাতি মামলা রয়েছে। বাঙ্গরা বাজার থানার আকবপুর ইউনিয়নের হিরাকাশি গ্রামের কালা মিয়ার পুত্র মোঃ আব্দুল আউয়াল, তার বিরুদ্ধে ১টি মামলা রয়েছে এবং চাদপুর জেলার মতলব উত্তর থানার সন্তোপুর গ্রামের নির্মল বিশ্বাসের পুত্র নিহার বিশ্বাস।
পুলিশ সুপার নজির আহমেদ খান জানান, গত ২৮ সেপ্টেম্বর লালমাই উপজেলায় দুটি ডাকাতির ঘটনা সংঘটিত হয়। এরপর জেলা পুলিশ সমগ্র জেলায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারেন বাঙ্গরা থানা এলাকায় ডাকাত দল সঙ্গবদ্ধভাবে ডাকাতির প্রস্ততি নিচ্ছে। বাঙ্গরা বাজার থানার পুলিশ টহল জোরদার করায় ওই এলাকায় ডাকাতি করতে ব্যর্থ হন তারা। এই নিরাপত্তা জোরদার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গোপন গোয়েন্দা সূত্র এবং পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এর সহযোগীতায়। জেলা পুলিশ সন্ধীগ্ধ স্পটগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করে রাখেন। এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর ভোর রাতে দেবিদ্বার থানা এলাকায় ডাকাতির সিদ্ধান্ত নিলে পুলিশ জানতে পেরে উপজেলার ভিংলা বাড়ি এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন করে। পুলিশের চেকপোস্ট দেখে ডাকাত দল দরজা খুলে ও জানলার গ্লাস ভেঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ধাওয়া করে পুলিশ ডাকাত দলের ১৪ সদস্যকে গ্রেফতার করেন। তাদের কাছ থাকা ৪ জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, একটি স্বর্ণের চেইন, এক জোড়া নুপুর, নগদ ২০ হাজার টাকা এবং একটি হাইএস মাইক্রোবাস (রেজিঃ ঢাকা মেট্রো-চ-৫৩-৭১৯৭) গাড়িও জব্দ করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতের কাজে ব্যবহৃত দেশীয় কিছু অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর লালমাই এলাকায় ৩ টি বরুড়ায় ১ টি ও নবীনগর উপজেলায় ১টি ডাকাতি করেছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুুস্তুতির মামলা দায়ের শেষে আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

