বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন, ঠাকুরগাঁও জেলা ইউনিট সার ব্যবসায়ীরা সার সংকট নিরসন ও কৃষকের ভোগান্তি দূরীকরণের দাবিতে ৯ দফা প্রস্তাব উত্থাপন করে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাবে সংগঠনটির সভাপতি মোদাচ্ছের হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান রাজু স্বাক্ষরিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশের কৃষি উৎপাদন টেকসই করতে হলে সার সরবরাহ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ জরুরি। সার ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, বর্তমান বাজার ব্যবস্থাপনায় ভর্তুকিযুক্ত সার কৃষকের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছায় না, ফলে কৃষক ও ব্যবসায়ী উভয়েই সমস্যায় পড়ছেন।
সার ব্যবসায়ীদের ৯ দফা দাবি-
. সার উৎপাদন ও আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন বাড়াতে হবে।
. সার বিক্রির জন্য ব্যবসায়ীদের পর্যাপ্ত পরিমাণে কোটা নির্ধারণ করতে হবে এবং জেলায় জেলায় সমানভাবে বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে।
. ইউরিয়া সারের দাম ১৯৯০ সালের পর থেকে ধাপে ধাপে বেড়ে বর্তমানে ১০০০ টাকা বস্তা হয়েছে, তবে ব্যবসায়ীদের কমিশন কমে এসেছে। কমিশন বাড়াতে হবে।
. সার পরিবহনে সরকারি খরচ বরাদ্দের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের প্রণোদনা দিতে হবে।
. ২৫ কেজির পরিবর্তে আবার ৫০ কেজি বস্তায় সার সরবরাহ করতে হবে।
. কৃষকের জন্য সার কেনার প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করতে হবে।
. ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) ও ডিএপি সারের মতো কম ব্যবহৃত সারগুলো বাজারে সহজলভ্য করতে হবে।
. সার বিক্রির কমিশন বৃদ্ধি করতে হবে এবং প্রতিটি ইউনিয়নে কো-অপারেটিভ সেন্টার চালু করতে হবে।
. সার সরবরাহ পর্যবেক্ষণে জেলা/উপজেলা পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তার নেতৃত্বে নিয়মিত বৈঠক করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, সার ব্যবসায়ীদের সঠিকভাবে বণ্টন না দিলে কৃষকরা সময়মতো সার না পেয়ে চাষাবাদে ক্ষতির মুখে পড়বেন। এ অবস্থায় কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। সার সংকট নিরসন ও কৃষকের স্বার্থে সরকারকে অবিলম্বে ব্যবসায়ীদের উত্থাপিত দাবিগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন, ঠাকুরগাও এর সভাপতি মো. মোদাচ্ছের হোসেন , সাধারণ সম্পাদক মো. মাহমুদ হাসান রাজু ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলি প্রমূখ।

