জয়পুরহাটে ক্লাসে গানের কলি বলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নর্থ বেঙ্গল মডেল স্কুল অ্যান্ড ক্যাডেট একাডেমির কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধর করেছেন এক শিক্ষক। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের আরও কয়েকজন শিক্ষক এবং পরিচালকের আত্মীয়ও নির্যাতনে অংশ নেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক ওমর ফারুক ওরফে পি.কে এর দিকে। এছাড়া আবাসিক হলে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনে অংশ নেন পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলামের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় আশিকুর, এমদাদ ও বাশার। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা পরিচালকের আত্মীয় হওয়ায় প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি। এ ঘটনায় পুলিশ গিয়ে পরিচালক ও প্রধান শিক্ষককে থানায় নিয়ে যায়। পরে মুচলেকা দিয়ে তারা ছাড়া পান। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রেজাউন জান্নাত রাব্বি বলেন, “সকালে শিক্ষক আসতে দেরি করায় আমি গান গাইছিলাম। হঠাৎ স্যার এসে আমাকে বেদম মারধর করেন।” একই শ্রেণির শিক্ষার্থী আল মোহনাদ সোয়াইব ও আনাম হাসান নবীন জানান, স্যার ক্লাসে ঢুকে ‘হু আর ইউ’ বলেই আমাদের মারতে শুরু করেন। কেন মারা হলো আমরা জানি না। প্রতিষ্ঠানটি এখন আত্মীয় কোটায় চলছে।” অন্য শিক্ষার্থীরা জানান, কথাকাটাকাটির ঘটনা বা বেতন কিছুটা কম দেওয়ার অজুহাতে তাদেরও পেটানো হয়েছে। শিক্ষার্থী সূর্যের অভিভাবক রিভা পারভিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত এসে দেখি বাচ্চাদের মারধর করা হয়েছে। প্রায়ই এভাবে নির্যাতন চলে। আমরা সঠিক তদন্ত ও বিচারের দাবি জানাই।” প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর একজন শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। তবে আবাসিক হলে মারধরের অভিযোগ সঠিক নয়। শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়।” এ বিষয়ে জয়পুরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাশেদুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত শিক্ষককে ঘটনাস্থলে পাওয়া না যাওয়ায় মোবাইল কোর্ট করা যায়নি। তবে প্রতিষ্ঠান প্রধান লিখিতভাবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ওই শিক্ষককে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে। পাশাপাশি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রয়োজনে কমিটির সুপারিশে নিয়মিত মামলা করা হবে।

