ঢাকাWednesday , 24 September 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

টাঙ্গাইলে পত্রিকা বিক্রিতে বাঁধা ও ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ
আওয়ামী দোসর জাফরকে নিয়ে সংবাদ ছিল টক অব দ্যা টাউন

Link Copied!

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর ও দুর্নীতিবাজ সাংবাদিক জাফর আহমেদকে নিয়ে দৈনিক পাঞ্জেরীতে সংবাদ প্রকাশের পর টাঙ্গাইলে ব্যাপক সাড়া ফেলে। বুধবার সংবাদটি ছিল টাঙ্গাইলের টক অব দ্যা টাউন। এদিকে সকালে যথাসময়ে টাঙ্গাইল শহরে পত্রিকা এজেন্টগুলোতে পত্রিকা পৌঁছে যায়। পত্রিকা বিক্রেতারা সকালে দৈনিক পাঞ্জেরী পত্রিকা বিতরণ করতে বের হয়। দুপুর নাগাত পত্রিকা বিলি করার পর জাফর আহমদের লোকজন পত্রিকা বিক্রেতাদের টেলিফোনে বিক্রি বন্ধ করতে বলে। বিক্রেতারা কর্ণপাত না করলে জাফর আহমেদ নিজেই মাঠে নামে হকারদের ঠেকাতে। তিনি পত্রিকার এজেন্টকে হুমকি দেয়। পত্রিকা হকারদের কেন দেয়া হয়েছে জানতে চায়। এ অবস্থায় জাফরের লোকজন মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে মোটর সাইকেল নিয়ে পত্রিকা বিক্রেতাদের কাছে যায়। এ সময় বেশ কয়েকজন হকারের কাছ থেকে অবিক্রিত পত্রিকা কেড়ে নেয়। পত্রিকা বিক্রেতা ও পত্রিকার এজেন্ট জানায়, গত কয়েক দিন আগে দৈনিক পাঞ্জেরী পত্রিকায় টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতির দুর্নীতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওইদিন পাঠকরা ব্যপক আগ্রহ নিয়ে পত্রিকা কিনেছে। পত্রিকা না পেয়ে অনেকে ফটোকপি করেছে। বুধবারের পত্রিকায় জাফর আহমেদকে নিয়ে আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রায় অর্ধেক কপি বিক্রির পর জাফরের লেলিয়ে দেয়া লোকজন পত্রিকা বিক্রি করতে নিষেধ করে। এক পর্যায়ে তারা বিভিন্ন হকারদের কাছ থেকে অবিক্রিত পত্রিকা কেড়ে নেয়। উল্লেখ্য, বুধবার দৈনিক পাঞ্জেরী পত্রিকায় “জুলাই ছাত্র-জনতার উপর গুলিবর্ষণের খলনায়ক, আওয়ামী দোসর জাফর শতকোটি টাকার মালিক” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে ১৭ বছরের ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সহযোগী টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদের অপকর্ম ও দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে উল্ল্যেখ করা হয়, ঢাকার যে সকল আওয়ামী দোসর সাংবাদিক কোটিপতি হয়েছেন তাদের অনেককেই গ্রেফতার করা হয়েছে। আর যাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে তারা অনেকেই গ্রেফতার এড়াতে গা-ঢাকা দিয়েছেন। আওয়ামী দোসর সাংবাদিকদের অবৈধ সম্পদের বিবরণ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। দেশের মানুষ রীতিমত হতভম্ব সাংবাদিকদের পাহাড় সমপরিমাণ সম্পদ এর খবর শুনে। এসব দালাল সাংবাদিকের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে ইতোমধ্যে । কিন্তু জেলা পর্যায়ের আওয়ামী দোসরদেরকে প্রশাসন কেন গ্রেফতার করছে না তা জানতে চায় ভুক্তভোগী মহল। হাসিনা পালানোর পর এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন তারা। তাদেরই একজন টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ। তিনি গত ১৭ বছরে আওয়ামী দোসর ছিলেন। পতিত সরকারের সুবিধা নিয়ে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। তার বিরুদ্ধে শতাধিক কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ জমা পড়েছে দুদকে। সাংবাদিকতার আড়ালে তিনি পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের সম্পদ রক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য দেখভাল, গোপন তথ্য আদান-প্রদান ও মামলা থেকে রক্ষাসহ সকল সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। ১৭ বছরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমদের শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সাংবাদিকতার আড়ালে যে ভয়ঙ্কর তথ্য পাওয়া গেছে তা শুনে গাঁ শিউরে উঠে। জাফর সম্পর্কে সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায় চাঞ্চল্যকর তথ্য। গত বছর জুলাই বিপ্লবে টাঙ্গাইলে ছাত্র-জনতার উপর গুলিবর্ষণ ও হামলার ঘটনায় লোমহর্ষক তথ্য পাওয়া গেছে। হাসিনা পালানোর আগের দিন ৪ আগষ্ট দুপুরে শহরে ছাত্র-জনতা বিশাল মিছিল বের করে। মিছিলটি নিরালা মোড় হয়ে বিবেকানন্দ স্কুল এন্ড কলেজের সামনে আসলে স্কুলের ভেতর থেকে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা মিছিলের উপর গুলিবর্ষণ করে। সন্ত্রাসীদের হামলা ও গুলিতে অর্ধশত ছাত্র-জনতা গুরুতর আহত হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম এ সময় অধ্যক্ষের কক্ষে বসে গুলি ও হামলার নির্দেশ দেন। আধাঘন্টা পরে ছাত্র-জনতা একত্রিত হয়ে স্কুলের ভেতর ঢুকে পড়ে। সেখানে জোয়াহের ইসলামের প্রাইভেটকার ভেঙ্গে ফেলে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন। তারা দুইজন মিলে জোয়াহেরুল ইসলামকে উদ্ধার করে নিরাপদে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে নিয়ে যায়। জাফর আহমদের একাধিক ঘনিষ্টজন, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের দেয়া তথ্যে জানা গেছে, শুধুমাত্র সাংবাদিকতা পেশাকে পুঁজি করে গত ১৭ বছরে একশ’ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছেন টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ। তিনি দৈনিক যুগান্তর ও বৈশাখী টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধিও। নব্বই দশকে শহরে পরিচয় দেয়ার মত তেমন কিছু ছিল না জাফরের। কোন রকমে একটি প্যান্ট কিনতে পারলেও বেল্ট কেনার পয়সা ছিলনা তার। অগত্যা পাটের রশিই ছিল বেল্টের বিকল্প। ওই সময়ে ময়মনসিংহ থেকে প্রকাশিত দৈনিক জাহান পত্রিকার বিজ্ঞাপন প্রতিনধি ছিলেন। পত্রিকাটি বিভিন্ন অফিস-আদালতে নিজেই বিলি করতেন। অথচ বর্তমানে তার পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় চলাফেরা করছেন ৭০ লাখ টাকার জীপ গাড়িতে। অভিজাত আবাসিক এলাকা উত্তরা ও হাতিরঝিল সংলগ্ন মহানগর প্রজেক্টে দু’টি ফ্ল্যাটসহ ঢাকায় রয়েছে তার একাধিক ফ্ল্যাট। এসব ফ্ল্যাটের মধ্যে পরিবারের থাকার ফ্ল্যাটটি আধুনিক ডেকোরেশন আর বিলাসী আসবাবপত্র দিয়ে সজ্জিত। আর এতে তিনি খরচ করেছেন দেড় থেকে দুই কোটি টাকা। টাঙ্গাইল পৌর এলাকার পশ্চিম আকুর টাকুর পাড়ায় তার আলিশান বাড়ি দেখলে মনে হবে আধুনিক কোন নব্য জমিদারের বাড়ি। ওই বাড়ির কাগজপত্রও জাল দলিল করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। টাঙ্গাইল শহরের হাউজিং প্রজক্টেও ৩টি প্লট রয়েছে তার। যার বর্তমান মুল্য ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা। শহরের অভিজাত মার্কেটগুলোতে নামে-বেনামে ৪০ থেকে ৪৫টি দোকান রয়েছে। এসব দোকানের বর্তমান মুল্য ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা। সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ১৬ শতাংশ জমির উপর প্রতিষ্ঠিত প্রেসক্লাব ভবন বর্তমানে ৪ তলায় উন্নিত হয়েছে। নীচতলায় মার্কেট, দ্বিতীয় তলায় শপিং মল, তৃতীয় তলায় প্রেসক্লাব এবং চতুর্থ তলায় প্রেসক্লাব কমিউনিটি সেন্টার। আশ্চর্যের বিষয় হলো বিশাল এই ভবনটি অবৈধ। অর্থাৎ পৌরসভার প্ল্যান পাশ ছাড়াই ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে যে কোন সময়ে ভবনটি ধ্বসে পড়ে ব্যাপক প্রাণহানী ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। এই ভবন নির্মাণের কোন হিসেব সংরক্ষণ করা নেই। ভবন নির্মানের শুরু থেকেই চলে আসছে চুরি আর লুটপাট। লুটপাট যাতে প্রকাশ না পায় সে জন্য প্রেসক্লাবের রেজুলেশন বইটি অনেক আগেই গায়েব করেন জাফর আহমেদ। এছাড়াও দোকান বরাদ্দে ব্যাপক দুর্নীতির আশ্রয় নেন তিনি। মার্কেটের মোট ২৪ টি দোকানের মধ্যে দুইটি দোকান বাদে সবগুলো দোকানের পরিমাপ ৭ ফুট × ৯ ফুট । দাম ধরা হয়েছে দেড় লাখ টাকা করে। তবে মার্কেটের প্রথম দোকানটি আয়তন ১৪ ফুট × ১৪ ফুট। এই দোকানের দামও ধরা হয়েছে দেড় লাখ টাকা। অর্থাৎ দিগুণ আয়তনের দোকান হলেও দাম একই। কারণ এই দোকান বরাদ্দ দেয়া হয়েছে প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদের আপন ভাইয়ের নামে। প্রথমে ভাইয়ের নামে বরাদ্দ দিয়ে পরে ভাইয়ের কাছে থেকে তা রেজিষ্ট্রি করে নেন জাফর। ক্লাবের দ্বিতীয় তলায় ৪০ ফুট বাই ২২ ফুট একটি রেষ্টুরেন্ট ছিল ক্লাবের সদস্যদের জন্য বরাদ্দ। সেই রেষ্টুরেন্টটিও সভাপতি গোপনে বিক্রি করেছেন ৩০ লাখ টাকায়। অতি সস্প্রতি প্রেসক্লাবে একটি লিফট সংযোজন হয়েছে। জেলা পরিষদের অর্থায়নে লিফটির দরপত্রে জাপানী ব্রান্ডের উল্লেখ থাকলেও জেলা পরিষদের সাথে যোগসাজশে অখ্যাত চায়না কোম্পানীর লিফট লাগিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক। এই টাকা ভাগবাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দের সৃষ্টি হলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। কিন্তু প্রেসক্লাবের সদস্যরা তাদের নোংরামির কাছে হেরে যান। মিথ্যা মামলা আর সম্মানের ভয়ে পেশাদার সাংবাদিকরা জাফরের মুখোমুখি না হওয়ায় টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব ঐতিহ্য হারাচ্ছে। সাংবাদিকতার মত মহান পেশাকেও মানুষ মূল্যায়ন করতে অনীহা প্রকাশ করছেন। স্থানীয়রা এ প্রতিবেদককে জানায়, জাফরের আয়ের অন্যতম উৎস হচ্ছে জমি কেনাবেচা। পৌর এলাকা কাগমারাসহ আশপাশে যে সকল ভূমিদস্যু রয়েছে, তাদের গডফাদার হলেন জাফর আহমেদ। সাংবাদিকতার প্রভাব খাটিয়ে নিরীহ মানুষের জায়গা ভয়ভীতি দেখিয়ে কম টাকায় কিনে তা চড়া মূল্যে বিক্রি করেন। যে দল ক্ষমতায় এসেছে, সেই দলের নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে এভাবেই জমির ব্যবসা পরিচালনা করছেন তিনি। সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে জাফরও দল পরিবর্তন করেন। অর্থাৎ সব সময় তিনি সরকারি দল করেন।সূত্র জানায়, পলাতক অন্তত হাফ ডজন আওয়ামী ভূমিদস্যুর সাথে যৌথ মালিকানায় কোটি কোটি টাকার জমি কিনে তা নিজের দখলে রেখেছেন। জাফর আহমদের সারা জেলায় রয়েছে নামধারী চাঁদাবাজ সাংবাদিকের নেটওয়ার্ক। এই নেটওার্কের সদস্যরা চাঁদাবাজির ভাগ নিয়মিত পৌঁছে দেয় জাফরের কাছে। জেলা রেজিষ্ট্রি অফিস, পাসপোর্ট অফিস, বিআরটিএ, জেনারেল হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে জাফরের শক্তিশালি দালাল নেটওয়ার্ক। এসব সরকারী দপ্তরের মাসিক চাঁদা আদায়ের জন্যও রয়েছে নিজস্ব বাহিনী। এদের সকলেই নামধারী ও কার্ডধারী সাংবাদিক। তারা দেশের জন্য এবং ভুক্তভোগীদের জন্য এক অক্ষর লিখেছেন এমন নজির নেই। সরকারী কোন অফিস তার কথামত কাজ না করলে ভুয়া সাংবাদিকদের লেলিয়ে দেয়া হয়। মিথ্যা ও ভুয়া সংবাদ প্রকাশ করে বেকায়দায় ফেলে ফায়দা নেয়া জাফরের আয়ের আরেকটা বড় উৎস। এভাবে জেলার সকল সরকারী দপ্তর কব্জায় রেখেছেন দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ সরকারি চাকরিজীবিগণ। কিন্তু বলার বা প্রতিবাদ করার জায়গা নেই তাদের। পতিত সরকার আমলে একজন ওসিকে জাফর একটি মামলার বিষয়ে তদবির করেছিলেন। ওই ওসি জাফরের মিথ্যা তদবির আমলে না নেয়ায় তাকে চরম হ্যস্ত ন্যস্ত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। জাফর আহমদের স্বজনদের দেয়া তথ্যমতে, টাঙ্গাইলে নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ব ও বেসরকারী ব্যাংক-বীমা ও অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে রয়েছে কয়েক কোটি টাকার হিসাব। বিষয়টি টাঙ্গাইলের সাংবাদিক সমাজ, নাগরিক সমাজ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, প্রশাসন, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাসহ সকলেরই জানা। তবে অনেকের কাছে বিষয়টি রুপকথার গল্পের মত। তার এই অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে অন্তত ১০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগে সম্পদের যে বিবরণী পাওয়া গেছে তার বেশির ভাগই দৃশ্যমান। দুদক সূত্র জানিয়েছে, বিষয় গুলো অনুসন্ধান চলছে। জাফর সাংবাদিক হওয়ায় নানামুখী তদবির আসছে বলে দুদকের একজন কর্মকর্তা জানান। ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগের গত ১৭ বছরে ভিন্ন মতের অন্তত ১০ জন সাংবাদিককে টাঙ্গাইল থেকে বিতারিত করেছেন জাফর। তাদের মধ্যে অনেকে সাংবাদিকতা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছেন। আওয়ামী লীগের গত ১৭ বছর টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব জেলা আওয়ামী লীগের বিকল্প কার্যালয়ে পরিনত হয়। আওয়ামী নেতাদের সকল অবৈধ আয়ের একটা অংশ পেতেন তিনি। গত ৫ আগষ্ট ফ্যাসিষ্ট হাসিনা সরকারের পতন হলে বিক্ষুদ্ধ সাংবাদিকরা প্রেসক্লাব থেকে জাফর আহমেদ ও তার সহযোগীদের বের করে দেয়। এসময় প্রেসক্লাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও তার অনুসারীদের প্রতিদিনের জুয়ার আড্ডাস্থল ভেঙ্গে দেয়া সাংবাদিকরা। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা জাফর আহমেদকে শেল্টার দিয়ে পুনর্বহাল করে। বিএনপির কয়েকজন নেতার সাথে কথা হলে তারা এ প্রতিবেদক কে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার আমলে জাফর আহমেদ বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। এখন সে নতুন করে শীর্ষ দুই নেতাকে হাত করে টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন প্রোগ্রামে অতিথি হচ্ছেন। টাঙ্গাইলে এই বিষয়টি নিয়ে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। এই ধরনের চরিত্রহীন একজন মানুষ অতি তাড়াতাড়ি বোল্ট পাল্টে বিএনপি নেতা সেজে যাওয়ায় টাঙ্গাইলে একাধিক গ্রুপিংয়ের জন্ম হয়েছে। টাঙ্গাইলে বিএনপিকে নস্যাৎ করতে জাফরের কূটবুদ্ধির কাছে অনেকেই হার মেনেছেন। অবিলম্বে জাফর আহমেদকে বিভিন্ন মিটিং-মিছিলে যোগদান বন্ধ করা হোক। অন্যথায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোটা টাঙ্গাইল এর প্রভাব পড়বে।