সামাজিক বরিশাল বন বিভাগের বিভাগীয় বন বিভাগ কর্মকর্তা কবীর হোসেন পাটোয়ারীর কাছে ৭ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। অভিযোগ উঠেছে ফরেস্টার আবু সুফিয়ান বরখাস্তকৃত বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কবীর হোসেন পাটোয়ারীর নিকট ৭ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করেন। কবীর হোসেনকে কাশীপুর রেস্ট হাউজে আটকিয়ে রেখে তার মালামাল আটক করা হয়। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয় এবং ডিএফওকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। কবীর হোসেনের পক্ষে বরিশালের একজন সচেতন নাগরিক আগারগাঁও বন বিভাগ কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন। লিখিত ওই অভিযোগে বলা হয়েছে, আমি বরিশাল জেলার কাশিপুর এলাকার বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিক। গত ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পরে আমি বাইরে বের হয়ে একটু সামনে গিয়ে দেখি বন বিভাগের রেস্ট হাউজের নীচে বিপুল সংখ্যক মানুষ লাটিছোটা নিয়ে হইহুল্লড় করছে। আমি কৌতুহলবশত রেষ্ট হাউজের নিকট গিয়ে জানতে ও দেখতে পাই যে, সামাজিক বন বিভাগের বিদায়ী ডিএফও কবির হোসেন পাটোয়ারী কে আবু সুফিয়ান নামক ফরেস্টার মব সৃষ্টি করে দলবল নিয়ে ডিএফও’কে আটক করেছেন। এসম ডিএফও’র নিকট তারা ৭ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করেন। ডিএফও’র নিজের ক্রয়কৃত একটি খাট নিতে বাঁধা দেন তারা। এছাড়াও ডিএফওকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরবর্তীতে ডিএফও কে এয়ারপোর্ট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। থানায় ওসির সামনে ফরেস্টার আবু সুফিয়ান মুসলেকা দেন যে, আমি ডিএফও স্যারের নিকট কোন টাকা পাইনা। কিন্তু ফরেস্টার আবু সুফিয়ান তার সংগৃহিত টিভি ও পত্রিকায় ডিএফও এর বিরদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করে। সুফিয়ানের এই হীন স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্য কি? তা গোটা বন বিভাগ এর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানতে চায়। একই সাথে সুফিয়ানকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মহল। অভিযোগ রয়েছে, ফরেস্টার আবু সুফিয়ান পূর্বের প্রত্যাহারকৃত দুর্নীতিবাজ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম. এ আউয়ালের সকল দুর্নীতি ও অপকর্মের প্রধান সহযোগি ছিলেন। কবির হোসেন পাটোয়ারী সামাজিক বন বিভাগ বরিশালে যোগদানের পর থেকে ডিভিশনের স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেন। ফরেস্টার আবু সুফিয়ান সুবিধা বঞ্চিত হওয়ায় বিভিন্নভাবে ডিএফওকে নাজেহাল করার চেষ্টা অব্যাহত রাখেন।দুর্নীতিবাজ ডিএফও এম এ আউয়ালের অন্যতম সহযোগি ঠিকাদার এম.এম কর্পোরেশন এবং কিছু সংখ্যক চাকুরিচ্যুত আউট সোর্সিং কর্মী ফরেস্টার আবু সুফিয়ানের সাথে যোগ দেয়। প্রশ্ন উঠেছে, একজন জেলা পর্যায়ের উচ্চ পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে ফরেস্টার সুফিয়ান মব সৃষ্টির মাধ্যমে কি ভাবে আটকিয়ে চাঁদা দাবী করেন। মালামাল নিতে বাধা প্রদান করা হয়। থানায় নিয়ে হ্যস্ত ন্যাস্ত করা হয়েছে। বিষয় টি বোধগম্য নয়। ফরেস্টার আবু সুফিয়ানের দুর্নীতির বিষয়ে বহুবার পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু প্রতিকার বা ব্যবস্থা নেয়নি বন কর্তৃপক্ষ। বরিশাল বন বিভাগে স্বচ্ছতা আনায় ক্ষুব্ধ চক্র, টার্গেটে ডিএফও কবির হোসেনঃ বরিশাল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. কবির হোসেন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে বহুবিবাহ ও প্রতারণার যে অভিযোগ সম্প্রতি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, তা সম্পূর্ণমিথ্যা, ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবী করেছেন তিনি। প্রকাশিত সংবাদে দাবি করা হয়েছে- কবির হোসেন পাটওয়ারী নাকি ১৭ জন নারীকে বিয়ে করেছেন। অথচ প্রতিবেদনে খাদিজা আক্তার ছাড়া ওই কথিত “স্ত্রীদের” কারও নাম, ঠিকানা বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। সংবাদটিকে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও তথ্য-প্রমাণবিহীন বলেই মনে করছেন স্থানীয় সচেতনমহল। অনুসন্ধানে জানা গেছে, অনিয়ম দুর্নীতির দায়ে বরিশাল বন বিভাগের সাবেক (ডিএফও) ড. মোঃ আব্দুল আউয়ালকে ২০২৪ সালের ১১ মার্চ ওএসডি করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের হেডকোয়াটার্সে সংযুক্ত করা হলে তার ঘনিষ্ট সহচর এম.এম কর্পোরেশনের সত্বাধিকারী মাহফুজুর রহমান মিলনের কজ্বায় এখনও রয়ে গেছে বরিশাল বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়। বর্তমানে তার ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করতে না পেরে (ডিএফও) কবির হোসেন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে এই অপপ্রচারের নেপথ্যে কলকাঠি নেড়ে চলেছেন বলে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর জানা যায়। বন বিভাগের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করায় ঠিকাদারী স্বার্থ ক্ষুন্ন হওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবংএকটি স্বার্থান্বেষী মহলের সঙ্গে মিলন হাত মিলিয়ে কবির হোসেন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়িয়ে যাচ্ছেন। শুধু সংবাদেই নয় এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে নামে-বেনামে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়ে ডিএফওকবির হোসেনকে হয়রানি করে আসছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী কর্মকর্তা আদালতের শরণাপন্ন হলে মহামান্য হাইকোর্ট তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সব অভিযোগের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেন। ১১ সেপ্টেম্বর তাকে হয়রানির উদ্দেশ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সাইদুর রহমান তদন্তের নামে কাশিপুর বন সংরক্ষক কার্যালয়ে এসে (ডিএফও) কবির হোসেন পাটওয়ারীকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা থেকে যুগ্ম সচিব সাইদুর রহমান কাশিপুর বন সংরক্ষক কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার সাথে সাথে সেখানে বিভিন্ন মিডিয়ার প্রায় ডজন খানেক রিপোর্টার উপস্থিত হন। একই সাথে কাশিপুরবন সংরক্ষক কার্যালয়ের মূল ফটকের সম্মুখে কয়েজন নারী ও যুবক ‘ভুক্তভোগী পরিবার ও সুশীলসমাজের’ ব্যানারে মানববন্ধন করেন। সূত্র জানায়, এ সকল কর্মকান্ডের পেছনে কলকাঠি নেড়েছেন বন বিভাগের ঠিকাদার মোঃ মিলন। বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে ঠিকাদার মাহফুজুর রহমান মিলন গত বছর কাশিপুর বন সংরক্ষক কার্যালয়ে আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে তারঘনিষ্ঠ ৬ ব্যক্তিকে নিয়োগ প্রদান করেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আউটসোর্সিং কর্মচারীদের চাকরীর নীতিমালা পরিবর্তনের কারণে আউটসোর্সিং-এ নিয়োগ পাওয়া ওই ৬ ব্যক্তি প্রতিবাদ করেন। একই সাথে উক্ত কোটায় কর্মচারী নিয়োগের জন্য (ডিএফও) মো. কবির হোসেন পাটওয়ারী টেন্ডার আহবান করেন। কিন্তু ঠিকাদার মিলন টেন্ডারে অংশ না নিয়ে তার পছন্দের ৬ ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে (ডিএফও) মো. কবির হোসেন পাটওয়ারীকে অব্যাহত চাপ প্রয়োগ করেন। অপর আরেকটি সূত্র নিশ্চিত করেছেন, সুফল প্রকল্পের আওতায় কাশিপুর বন সংরক্ষককম্পাউন্ডে সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ভবন নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়ম দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান (ডিএফও) কবির হোসেন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র অপপ্রচারে কোমর বেধে মাঠে নেমেছেন। এছাড়া কাশিপুর বন সংরক্ষক কার্যালয়ে দিন দুপুরে কয়েকজন স্টাফের সহযোগিতায় মাদকের আসর বসে আসছিল। সেই মাদকের আসর উচ্ছেদসহ বন বিভাগের কয়েজন স্টাফের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করায় (ডিএফও) কবির হোসেন পাটওয়ারীর উপর সংক্ষুব্ধ হয়ে তারাও পর্দার আড়াল থেকে অপপ্রচার চালান। এছাড়া বন বিভাগে (ডিএফও)পদ শূন্য রাখতে পারলে কতিপয় ফরেস্টার মিলেমিশে সরকারী বরাদ্দকৃত অর্থ পুরোটাই লুটপাট করতে পারেন। কিন্তু (ডিএফও) থাকলে সরকারী বরাদ্দকৃত অর্থ লুটপাট করতে পারে না ফরেস্টাররা। যে কারণে ডিএফওদের বিরুদ্ধে সব সময়ই দুর্নীতিবাজ ফরেস্টার চক্রটি ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারে ব্যস্ত থাকতেন। বরিশাল বন বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, ডিএফও কবির হোসেন পাটওয়ারী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বনজ সম্পদ রক্ষা, দখলদারদের উচ্ছেদ এবং দুর্নীতিবাজ চক্রেরবিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। এ কারণেই অসন্তুষ্ট মহল তাকে হেয় করতে বিভ্রান্তিকর প্রচারণার আশ্রয় নিয়েছে। ডিএফও কবির হোসেনের আইনজীবী এনায়েত হোসেন বাচ্চু বলেন, “আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর কোনো আইনি বা যৌক্তিক ভিত্তি নেই। এটি পরিকল্পিতভাবে তার সুনাম ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টা।” সচেতনমহল মনে করেন, অযাচাইকৃত ও প্রমাণহীন তথ্য পরিবেশন সাংবাদিকতার নীতিমালা বিরোধী। তাই ষড়যন্ত্রমূলক এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। ভুক্তভোগী ডিএফও মো. কবির হোসেন পাটওয়ারী বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো আনা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আমি দীর্ঘদিন সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি। বন বিভাগের উন্নয়নও স্বচ্ছতা রক্ষায় কাজ করার কারণে একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।” সংবাদে বলা হয়েছে আমি নাকি বহু বিয়ে করেছি। অথচ এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ, কোন তথ্য বা সংশ্লিষ্ট কারও নাম পরিচয়ই উপস্থাপন করা হয়নি। এটি শুধুই আমার সামাজিক মর্যাদাক্ষুন্ন করার অপচেষ্টা।” আমি দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই বনজ সম্পদ রক্ষা, অনিয়ম-দুর্নীতিপ্রতিরোধ এবং বন বিভাগের স্বার্থ রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে দুর্নীতিবাজ একটি মহল আমাকে হেয় করার জন্য বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে।” “আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা একাধিক অভিযোগ ইতোমধ্যে মহামান্য হাইকোর্ট স্থগিত করেছেন। তারপরও আমাকে হয়রানির জন্য বারবার মিথ্যা তদন্ত ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”

