ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা এবং নরসিংদীর বিভিন্ন স্থানে মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে অবৈধ গ্যাস ও জ্বালানি তেল সংযোগ এবং বিক্রয় কার্যক্রমের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ অভিযানে বিপুল পরিমাণ জরিমানা আদায় এবং অবৈধভাবে ব্যবহৃত গ্যাস সরঞ্জাম ও পাইপ অপসারণ করা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত অভিযানে মোট ৭০ টি অবৈধ আবাসিক গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এ সময় দুটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ‘মিস্টার কিচেন’ এবং ‘পিজ্জা বয়’ এর অবৈধ গ্যাস সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়। অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের দায়ে আট জন আবাসিক গ্রাহককে ৪০ হাজার টাকা এবং ২টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানকালে প্রায় ৬ শত ফুট এমএস পাইপসহ বিভিন্ন ধরনের বার্নার ও ওভেন জব্দ করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত অভিযানে চারটি চুনা কারখানা এবং ৩ টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সাতটি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। অভিযানে বিভিন্ন আকারের প্রায় ৮ শত ৭০ ফুট পাইপ এবং অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের দায়ে অভিযুক্তদের মোট পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একইভাবে ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানার বিভিন্ন স্থানে একটি ওয়াশিং কারখানা, একটি তারের কারখানা এবং একটি আবাসিক ভবনের অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এতে প্রতি মাসে আনুমানিক ৬ লাখ ৮০ হাজার ১৪৮ টাকা মূল্যের ২৩ হাজার ২৪৫ ঘনমিটার গ্যাস সাশ্রয় হবে। এ অভিযানে ২৯০ ফুট পাইপ, দুটি বল ভালভ এবং একটি কম্প্রেসর সেট জব্দ করা হয়। এছাড়া, নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায় অনুমোদনহীন এবং ভেজাল জ্বালানি তেল বিক্রির বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে একটি অবৈধ প্রতিষ্ঠান থেকে ৫ শত ৭০ লিটার ডিজেল এবং ২ শত ৭৫ লিটার পেট্রল জব্দ করা হয়। এ অভিযানগুলো অবৈধ জ্বালানি ব্যবহার এবং বিপণন বন্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন। অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং জরিমানা আদায়ের মাধ্যমে সরকার জ্বালানি খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর।

