নিউইয়র্কে জাতিসংঘ অধিবেশনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের সফরসঙ্গী চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম নায়ক এনসিপির সদস্য সচিব আক্তার হোসেনের ওপর ডিম হামলা হয়েছে। ডাঃ তাসনীম জারাকে অশালীন, অকথ্য ভাষায় গালি দিয়েছে। কারা দিয়েছে? পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের কতিপয় নিকৃষ্ট শ্রেণির দুর্বৃত্ত। এ সময় বিএনপি মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াতের নায়েবে আমীর ডা. আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরও ছিলেন। জামায়াত নেতাকে টেরোরিস্ট বলে স্লোগান দিয়েছে। ড. ইউনূসের নাগাল না পেয়ে আক্তার ও জারাকে মূল টার্গেটে পরিণত করেছে তারা। মির্জা ফখরুল ও আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের প্রোটেকশনে পর্যাপ্ত সংখ্যক নেতাকর্মী ছিলেন। আক্তার ও জারাকে রক্ষায় ৩/৪ জন চেষ্টা করেছেন। এক ধরনের অসহায় পরিস্থিতির মধ্যে তারা হোটেলে পৌঁছেছেন। এ ঘটনায় একটা বিষয় পরিষ্কার হয়েছে পতিত শক্তির প্রধান টার্গেট গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী ছাত্র নেতারা। সুযোগ পেলে প্রথম শায়েস্তার শিকার হবেন তারাই। শুনতে যতো তেতোই লাগুক, প্রমাণিত হলো গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্বের রেটিং করা হলে এক নম্বরে আক্তার-নাহিদরাই থাকবেন। ভিডিও দেখে মনে হয়েছে ওরা চাইলে ফখরুল-তাহেরদের পিঠেও এক দুটি ডিম ভেঙে দিতে পারতেন। তা করেনি। প্রধান শিকারেই জোর দিয়েছে আওয়ামী হায়েনারা। অনেকে বলছেন, ড. ইউনূস রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে আক্তার-জারাদের নিয়ে নিরাপত্তা কেন দিতে পারলো না? তারা জানেন না, ওইসব দেশে চাইলেই কারও জন্যে বিশেষ প্রটোকল বা নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা যায় না। সেখানে কারও গায়ে আঘাত না করা পর্যন্ত পুলিশ অপরাধ হিসেবে গণ্য করে না। বিক্ষোভ, প্রতিবাদ সেখানে স্বীকৃত গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু ডিম নিক্ষেপ বা অশালীন ভাষায় গালাগাল-এ কেবল নিকৃষ্ট শ্রেণির প্রাণী আওয়ামী লীগের অধিকার। একজন নারীকে যে ভাষায় গালি দিয়েছে তাতে বাংলাদেশের কোন সুশীল ও ভিউটিউব টকিস্টরা নারী অবমাননা দেখবেন না। কারণ, আওয়ামী নারী না হলে তারা নারীই না। বিএনপি ও জামায়াত নিজেদের নেতাদের নিরাপত্তায় নজর দেওয়ার পাশাপাশি গণঅভ্যুত্থানের ছাত্রনেতাদের ব্যাপারে উদাসীনতা দেখিয়েছে। তাদের জন্যে আলাদা করে ৫০ জন নেতাকর্মীকে দায়িত্ব দিতে পারতো। যদিও তেমনটা হলেও কোন এক সুযোগ কোন দুর্বৃত্ত একটা ডিম ছুঁড়ে দেওয়া অসম্ভব ছিলো না। রাস্তায় নেড়ি কুকুরদের থেকে সব সময় রক্ষা পাওয়া যায় না। আক্তারের পিঠের এই ডিম গৌরবের। গ্লানির নয়। তবে আগামী কয়েক দিনে আরও আওয়ামী নোংরামি দেখতে হতে পারে। মব হতে পারে। সেটাকে ঢাকার ছুতিয়া সুশীলরা মব হিসেবে দেখবে না। নিউইয়র্কের প্রতিক্রিয়া যদি ঢাকাসহ সারা দেশে আওয়ামীদের ওপর শুরু হয়, কোর্টে যদি নতুন করে ডিম ও লাথি থেরাপির সূত্রপাত হয়, তখন আশা করি সুশীলা আহা-উহু করবেন না। আক্তার-জারারা যখন আওয়ামীদের দ্বারা আক্রান্ত হবে, আমি তাকে ব্যক্তি বা দলের ওপর নয়, গণ-অভ্যুত্থানের ওপর আক্রমণ হিসেবে দেখবো। অভ্যুত্থানের সুফলভোগী প্রত্যেকটি মানুষ সেভাবে দেখা উচিত। পরে হোটেলের সামনে আওয়ামী ক্যাডারদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আক্তার হোসেন নিজে স্লোগান দিয়েছেন, মুজিববাদ মুর্দাবাদ, ইনকিলাব জিন্দাবাদ, বিচার চাই, বিচার চাই, শেখ হাসিনার বিচার চাই। গণহত্যার বিচার চাই, ইত্যাদি। সেখানে অবশ্য আক্তারের সঙ্গে অনেকেই যোগ দিয়েছেন। অন্তত ২০/৩০ জন তো হবেনই। নিউইয়র্ক পুলিশ এক আওয়ামী দুর্বৃত্তকে গ্রেফতার করেছে।

