ঢাকাTuesday , 23 September 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

টাঙ্গাইলে জুলাই ছাত্র-জনতার উপর গুলিবর্ষণের খলনায়ক
আওয়ামী দোসর জাফর শতকোটি টাকার মালিক

Link Copied!

ফ্যাসিষ্ট হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে গত বছরের ৫ আগস্ট। এরপর ঢাকার যে সকল আওয়ামী দোসর সাংবাদিক কোটিপতি হয়েছেন তাদের অনেককেই গ্রেফতার করা হয়েছে। আর যাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে তারা অনেকেই গ্রেফতার এড়াতে গা-ঢাকা দিয়েছেন। আওয়ামী দোসর সাংবাদিকদের অবৈধ সম্পদের বিবরণ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। দেশের মানুষ রীতিমত হতভম্ব সাংবাদিকদের পাহাড় সমপরিমাণ সম্পদের খবর শুনে। প্রশ্ন উঠেছে, সাংবাদিকরা নীতি নৈতিকতা বিক্রি করে দেশের স্বার্থে জনগণের পক্ষে না থেকে স্বৈরাচার হাসিনার পা-চাটা গোলাম হয়েছিলেন। এসব দালাল সাংবাদিকের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে ইতোমধ্যে । কিন্তু জেলা পর্যায়ের আওয়ামী দোসরদেরকে প্রশাসন কেন গ্রেফতার করছে না তা জানতে চায় ভুক্তভোগী মহল। হাসিনা পালানোর পর এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন তারা। তাদেরই একজন টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ। তিনি গত ১৭ বছরে আওয়ামী দোসর ছিলেন। পতিত সরকারের সুবিধা নিয়ে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। তার বিরুদ্ধে শতাধিক কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ জমা পড়েছে দুদকে।সাংবাদিকতার আড়ালে তিনি পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের সম্পদ রক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য দেখভাল, গোপন তথ্য আদান-প্রদান ও মামলা থেকে রক্ষাসহ সকল সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। গত ৫ আগষ্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর জেলা পর্যায় থেকে এমন অনেক অভিযোগ আসে দৈনিক পাঞ্জেরী পত্রিকা অফিসে। এরই প্রেক্ষিতে সম্প্রতি টাঙ্গাইলে সরেজমিনে যায় একটি টিম। গত ১৭ বছরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমদের শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সাংবাদিকতার আড়ালে যে ভয়ংকর তথ্য পাওয়া গেছে তা শুনে গাঁ শিউরে উঠে। টাঙ্গাইলের মানুষ এই নিকৃষ্ট মনের অধিকারী ব্যাক্তির দ্বারা কি পরিমাণ নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন তা জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে আগামী সংখ্যায়। জাফরকে গ্রেফতার করে তার অবৈধ উপার্জনে গড়া সম্পদ এবং কোটি কোটি টাকা জব্দ করার দাবি জানিয়েছেন টাঙ্গাইলবাসি। জাফর সম্পর্কে সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায় চাঞ্চল্যকর তথ্য। গত বছর জুলাই বিপ্লবে টাঙ্গাইলে ছাত্র-জনতার উপর গুলিবর্ষণ ও হামলার ঘটনায় লোমহর্ষক তথ্য পাওয়া গেছে। হাসিনা পালানোর আগের দিন ৪ আগষ্ট দুপুরে শহরে ছাত্র-জনতা বিশাল মিছিল বের করে। মিছিলটি নিরালা মোড় হয়ে বিবেকানন্দ স্কুল এন্ড কলেজের সামনে আসলে স্কুলের ভেতর থেকে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা মিছিলের উপর গুলিবর্ষণ করে। সন্ত্রাসীদের হামলা ও গুলিতে অর্ধশত ছাত্র-জনতা গুরুতর আহত হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম এ সময় অধ্যক্ষের কক্ষে বসে গুলি ও হামলার নির্দেশ দেন। আধাঘন্টা পরে ছাত্র-জনতা একত্রিত হয়ে স্কুলের ভেতর ঢুকে পড়ে। সেখানে জোয়াহের ইসলামের প্রাইভেটকার ভেঙ্গে ফেলে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন। দুইজন মিলে জোয়াহেরুল ইসলামকে উদ্ধার করে নিরাপদে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে নিয়ে যায়। সম্প্রতি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানতে টাঙ্গাইলের একটি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তার সাথে কথা হয় প্রতিবেদকের। তিনি জানান, ৫ আগষ্টের কয়েকদিন আগে থেকে আন্দোলন দমনে নানা পরিল্পনা করা হয়। জেলার কয়েকজন শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতার কললিষ্ট পরীক্ষা করে টাঙ্গাইলের এক শীর্ষ সাংবাদিক নেতার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। অডিও কল যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে এর সাথে জড়িত যেই হোক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি আরও জানান, টাকা এবং ক্ষমতা কোনটাই তাদেরকে রক্ষা করতে পারবে না। টাঙ্গাইলের এক ভূমি ব্যবসায়ী জানান, টাঙ্গাইল-২ আসনের (গোপালপুর-ভুয়াপুর) সাবেক সংসদ সদস্য তনভীর হাসান ছোট মনিরের সাথে মিলে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনাসেতু মহাসড়কে নাসির গ্লাস ফ্যাক্টরীর দেয়াল ঘেঁষে ৭২ শতাংশ জমি জবরদখল করে। ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে সাংবাদিক জাফর আহমেদ ও ছোট মনিরের পক্ষে একজন করে এই জমি পাওয়ার রেজিস্ট্রি করে নেয়। জানতে চাওয়া হলে জমির প্রকৃত মালিকরা জানান, সাংবাদিক জাফর আহমেদ আমাদের প্রেসক্লাবে ডেকে নিয়ে বলেন, এমপির সাথে শক্তিতে তোমরা পারবে না। তার চেয়ে কিছু টাকা নিয়ে বিষয়টি মিমাংসা করে ফেলো। আর তা না হলে দুই কোটি টাকা নিয়ে আসো আমি মীমাংসা করে দিব। টাঙ্গাইলের একটি রেস্টুরেন্টে কয়েকজন সাংবাদিকের সাথে বিভিন্ন আলাপচারিতায় জানতে চাওয়া হলে তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগষ্টের পর টাঙ্গাইলে ব্যাপক মামলা বাণিজ্য শুরু হয়। এই মামলার নেপথ্যে রয়েছেন শীর্ষ তিনজন বিএনপি নেতা। তাদের সাথে যুক্ত হন বৈষম্য বিরোধী এক ছাত্রনেতা। তবে এই চক্রের মুল নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন সাংবাদিক জাফর আহমেদ। তিনি প্রেসক্লাবে বসেই এই মামলা-বাণিজ্য করেন। মামলা বাণিজ্যের মাধ্যমে এ চক্রটি ইতিমধ্যে প্রায় দশ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। জাফর চক্রের এই মামলা-বাণিজ্য টাঙ্গাইলে ওপেন সিক্রেট। জাফর আহমদের একাধিক ঘনিষ্টজন, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের দেয়া তথ্যে জানা গেছে, শুধুমাত্র সাংবাদিকতা পেশাকে পুঁজি করে গত ১৭ বছরে একশ’ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছেন টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ। তিনি দৈনিক যুগান্তর পত্রিকা ও বৈশাখী টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধিও। নব্বই দশকে শহরে পরিচয় দেয়ার মত তেমন কিছু ছিল না জাফরের। কোন রকমে একটি প্যান্ট কিনতে পারলেও বেল্ট কেনার পয়সা ছিলনা তার। অগত্যা পাটের রশিই ছিল বেল্টের বিকল্প। ওই সময়ে ময়মনসিংহ থেকে প্রকাশিত দৈনিক জাহান পত্রিকার বিজ্ঞাপন প্রতিনিধি ছিলেন। পত্রিকাটি বিভিন্ন অফিস-আদালতে নিজেই বিলি করতেন। অথচ বর্তমানে তার পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় চলাফেরা করছেন ৭০ লাখ টাকার জীপ গাড়িতে। অভিজাত আবাসিক এলাকা উত্তরা ও হাতিরঝিল সংলগ্ন মহানগর প্রজেক্টে দু’টি ফ্ল্যাটসহ ঢাকায় রয়েছে তার একাধিক ফ্ল্যাট। এসব ফ্ল্যাটের মধ্যে পরিবারের থাকার ফ্ল্যাটটি আধুনিক ডেকোরেশন আর বিলাসী আসবাবপত্র দিয়ে সজ্জিত। আর এতে তিনি খরচ করেছেন দেড় থেকে দুই কোটি টাকা। টাঙ্গাইল পৌর এলাকার পশ্চিম আকুর টাকুর পাড়ায় তার আলিশান বাড়ি দেখলে মনে হবে আধুনিক কোন নব্য জমিদারের বাড়ি। ওই বাড়ির কাগজপত্রও জাল দলিল করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। টাঙ্গাইল শহরের হাউজিং প্রজক্টেও তিনটি প্লট রয়েছে তার। যার বর্তমান মূল্য ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা। শহরের অভিজাত মার্কেটগুলোতে নামে-বেনামে ৪০ থেকে ৪৫টি দোকান রয়েছে। এসব দোকানের বর্তমান মূল্য ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব শুধুমাত্র একটি প্রেসক্লাব নয়। এটি যেন সোনার হরিণ জাফরের কাছে। ১৯৯৯ সালে প্রেসক্লাবের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সে সময় জাফর ছিলেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক। নির্মাণ কাজ শুরুর পর ক্লাবে একক আধিপত্য বিস্তার করতে প্রেসক্লাবের সভাপতি কামরুল হাসান চৌধুরীকে ছেলে বলাৎকারের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে তাকে প্রেসক্লাব থেকে বের করে দেয়। ফলে জাফরের একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। জঘন্য এই অপবাদ নিয়ে সভাপতি কামরুল হাসান চৌধুরী টাঙ্গাইল ছেড়ে ঢাকায় বসবাস শুরু করেন। লজ্জা আর ঘৃনায় করুনভাবে মৃত্যবরণ করেন প্রেসক্লাবের অন্যতম ফাউন্ডার কামরুল হাসান চৌধুরী। তার পরিবারের সদস্যরা আজও বাবার মিথ্যা অপবাদের দায় ভুলতে পারেনি। একমাত্র আল্লাহর কাছেই এই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে এ শান্তনায় বেঁচে আছে পরিবারটি। সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ১৬ শতাংশ জমির উপর প্রতিষ্ঠিত প্রেসক্লাব ভবন বর্তমানে চার তলায় উন্নিত হয়েছে। নীচতলায় মার্কেট, দ্বিতীয় তলায় শপিং মল, তৃতীয় তলায় প্রেসক্লাব আর চতুর্থ তলায় প্রেসক্লাব কমিউনিটি সেন্টার। আশ্চর্যের বিষয় হলো বিশাল এই ভবনটি অবৈধ। অর্থাৎ পৌরসভার প্ল্যান পাশ ছাড়াই ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে যে কোন সময়ে ভবনটি ধ্বসে পড়ে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটার আশংকা রয়েছে। এই ভবন নির্মাণের কোন হিসেব সংরক্ষণ করা নেই। ভবন নির্মানের শুরু থেকেই চলে আসছে চুরি আর লুটপাট। লুটপাট যাতে প্রকাশ না পায় সেজন্য প্রেসক্লাবের রেজুলেশন বইটি অনেক আগেই গায়েব করেন জাফর আহমেদ। এছাড়াও দোকান বরাদ্দে ব্যাপক দুর্নীতির আশ্রয় নেন তিনি। মার্কেটের মোট ২৪ টি দোকানের মধ্যে দুইটি দোকান বাদে সবগুলো দোকানের পরিমাপ ৭ ফুট * ৯ ফুট। দাম ধরা হয়েছে দেড় লাখ টাকা করে। তবে মার্কেটের প্রথম দোকানটি আয়তন ১৪ ফুট * ১৪ ফুট। এই দোকানের দামও ধরা হয়েছে দেড় লাখ টাকা। অর্থাৎ দিগুণ আয়তনের দোকান হলেও দাম একই। কারণ এই দোকান বরাদ্দ দেয়া হয়েছে প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদের আপন ভাইয়ের নামে। প্রথমে ভাইয়ের নামে বরাদ্দ দিয়ে পরে ভাইয়ের কাছে থেকে তা রেজিষ্ট্রি করে নেন জাফর। ক্লাবের দ্বিতীয় তলায় ৪০ ফুট বাই ২২ ফুট একটি রেষ্টুরেন্ট ছিল ক্লাবের সদস্যদের জন্য বরাদ্দ। সেই রেষ্টুরেন্টটিও সভাপতি গোপনে বিক্রি করেছেন ৩০ লাখ টাকায়। অতি সস্প্রতি প্রেসক্লাবে একটি লিফট সংযোজন হয়েছে। জেলা পরিষদের অর্থায়নে লিফটির দরপত্রে জাপানী ব্রান্ডের উল্লেখ থাকলেও জেলা পরিষদের সাথে যোগসাজশে অখ্যাত চায়না কোম্পানীর লিফট লাগিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। এই টাকা ভাগবাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দের সৃষ্টি হলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। কিন্তু প্রেসক্লাবের সদস্যরা তাদের নোংরামির কাছে হেরে যান। মিথ্যা মামলা আর সম্মানের ভয়ে পেশাদার সাংবাদিকরা জাফরের মুখোমুখি না হওয়ায় টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব ঐতিহ্য হারাচ্ছে। সাংবাদিকতার মত মহান পেশাকেও মানুষ মূল্যায়ন করতে অনীহা প্রকাশ করছেন। অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, ওয়ান ইলেভেন সরকারের সময়ে জাফর আহমেদ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছিলেন। সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় তৎকালিন মেয়র জামিলুর রহমান মিরনকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে গ্রেফতার করিয়ে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের পদ দখল করেন জাফর। মেয়রের দায়িত্ব নিয়েই শহরের ক্যাপসুল মার্কেটের দুইটি টয়লেট ভেঙ্গে ফেলেন তিনি। পরে সেখানে দোকান নির্মাণ করে ২৫ লাখ টাকা বিক্রি করেন। দোকান দুটি ভেঙ্গে পুনরায় টয়লেট করার জন্য বারবার দাবি জানিয়ে আসছে নাগরিক কমিটি। বিভিন্ন সময়ে পৌর কর্তৃপক্ষ এ ব্যপারে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলেও তা এখনো কার্যকর করা হয়নি। এভাবে চতুর জাফর আহমেদ বর্তমানে শতকোটি টাকার মালিক হয়েছেন। অভিযোগ আছে, যে বাড়িতে তিনি বসবাস করছেন তা দখলকৃত। প্রায় ৩০ শতাংশ জমিতে এক নিকট আত্মীয় বসবাস করার জন্য দিয়েছিলেন। যা পরে সুযোগ বুঝে জাল দলিলের মাধ্যমে জায়গাটি দখল করে নেয়। ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোনা মিয়া ও জাফর আহমেদ গত বছর যৌথভাবে বাড়ির পাশে ছয় শতাংশ জমি ক্রয় করেন। কিন্তু দখলে রেখেছেন নয় শতাংশ। জমির মালিক প্রতিকার চেয়ে বিভিন্ন স্থানে বিচার প্রার্থী হলেও তার দখলকৃত তিন শতাংশ জমি আজও উদ্ধার করতে পারেনি। স্থানীয়রা এ প্রতিবেদককে জানান, জাফরের আয়ের অন্যতম উৎস হচ্ছে জমি কেনাবেচা। পৌর এলাকা কাগমারাসহ আশপাশে যে সকল ভূমিদস্যু রয়েছে, তাদের গডফাদার হলেন জাফর আহমেদ। সাংবাদিকতার প্রভাব খাটিয়ে নিরীহ মানুষের জায়গা ভয়ভীতি দেখিয়ে কম টাকায় কিনে তা চড়া মূল্যে বিক্রি করেন। যে দল ক্ষমতায় এসেছে, সেই দলের নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে এভাবেই জমির ব্যবসা পরিচালনা করছেন তিনি। সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে জাফরও দল পরিবর্তন করেন। অর্থাৎ সব সময় তিনি সরকারি দল করেন। সূত্র জানায়, পলাতক অন্তত হাফ ডজন আওয়ামী ভূমিদস্যুর সাথে যৌথ মালিকানায় কোটি কোটি টাকার জমি কিনে তা নিজের দখলে রেখেছেন। জাফর আহমদের সারা জেলায় রয়েছে নামধারী চাঁদাবাজ সাংবাদিকের নেটওয়ার্ক। এই নেটওার্কের সদস্যরা চাঁদাবাজির ভাগ নিয়মিত পৌঁছে দেয় জাফরের কাছে। জেলা রেজিষ্ট্রি অফিস, পাসপোর্ট অফিস, বিআরটিএ, জেনারেল হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে জাফরের শক্তিশালি দালাল নেটওয়ার্ক। এসব সরকারী দপ্তরের মাসিক চাঁদা আদায়ের জন্যও রয়েছে নিজস্ব বাহিনী। এদের সকলেই নামধারী ও কার্ডধারী সাংবাদিক। তারা দেশের জন্য এবং ভুক্তভোগীদের জন্য এক অক্ষর লিখেছেন এমন নজির নেই। সরকারী কোন অফিস তার কথামত কাজ না করলে ভুয়া সাংবাদিকদের লেলিয়ে দেয়া হয়। মিথ্যা ও ভুয়া সংবাদ প্রকাশ করে বেকায়দায় ফেলে ফায়দা নেয়া জাফরের আয়ের আরেকটা বড় উৎস। এভাবে জেলার সকল সরকারী দপ্তর কব্জায় রেখেছেন দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ সরকারি চাকরিজীবিগণ। কিন্তু বলার বা প্রতিবাদ করার জায়গা নেই তাদের। পতিত সরকার আমলে একজন ওসিকে জাফর একটি মামলার বিষয়ে তদবির করেছিলেন। ওই ওসি জাফরের মিথ্যা তদবির আমলে না নেয়ায় তাকে চরম হেস্তন্যাস্ত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।


জাফর আহমদের স্বজনদের দেয়া তথ্যমতে, টাঙ্গাইলে নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ব ও বেসরকারী ব্যাংক-বীমা ও অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে রয়েছে কয়েক কোটি টাকার হিসাব। বিষয়টি টাঙ্গাইলের সাংবাদিক সমাজ, নাগরিক সমাজ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, প্রশাসন, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাসহ সকলেরই জানা। তবে অনেকের কাছে বিষয়টি রূপকথার গল্পের মত। তার এই অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে অন্তত ১০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগে সম্পদের যে বিবরণী পাওয়া গেছে তার বেশির ভাগই দৃশ্যমান। দুদক সূত্র জানিয়েছে, বিষয়গুলো অনুসন্ধান চলছে। জাফর সাংবাদিক হওয়ায় নানামুখী তদবির আসছে বলে দুদকের একজন কর্মকর্তা জানান। সাংবাদিকতার প্রভাব খাটিয়ে জাফর জেলা রেড ক্রিসেন্টের সাধারণ সম্পাদক ও পরবর্তীতে সহ-সভাপতি, দেশের প্রথমসারির এনজিও সেতুর প্রেসিডেন্ট, সরকারী ডায়াবেটিক হাসপাতাল, জেলা স্কাউটস, জেলা বাস-কোচ-মিনিবাস মালিক সমিতি, জেলা ট্রাক মালিক সমিতি, জেনারেল হাসপাতাল রোগী কল্যাণ সমিতি, টাঙ্গাইল এসপি পার্ক , টাঙ্গাইল ডিসি লেক, টাঙ্গাইল জেলা ক্লিনিক ও ডায়াগনেষ্টিক মালিক সমিতিসহ অন্তত ৩০টি সামাজিক সংগঠনের শীর্ষপদ দখলে রেখেছেন। এসব পদে তিনি আসীন হন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা, এমপি ও মন্ত্রীদের আশির্বাদে। আওয়ামী সমর্থনে প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির পদও দখলে রাখেন তিনি। এসবের বিনিময়ে ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের দখলবাণিজ্য, মনোনয়ন বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, মামলা বাণিজ্য,নিয়োগ বাণিজ্য, জেলার সকল বালু মহাল নিয়ন্ত্রণ, খুন-হত্যাসহ সকল অপকর্ম ধামাচাপা দেয়ার দায়িত্ব ছিল সাংবাদিক জাফরের। কোন সাংবাদিক এসব সংবাদ প্রকাশের সাহস পায়নি। যারা সাহস করে দু-একটি সংবাদ প্রকাশ করেছেন তাদের প্রেসক্লাব থেকে বহিস্কার ও মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার ছিল অনিবার্য পরিণতি। এখনো অনেক সাংবাদিক আইসিটিসহ মানহানি মামলার জালে জড়িয়ে আছেন। ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগের গত ১৭ বছরে ভিন্ন মতের অন্তত ১০ জন সাংবাদিককে টাঙ্গাইল থেকে বিতারিত করেছেন জাফর। তাদের মধ্যে অনেকে সাংবাদিকতা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছেন।
টাঙ্গাইলের সাংবাদিকদের অনেকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ওয়ান ইলেভেনের পর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সমর্থনে জাফর আহমেদ টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের পদ দখল করেন। এই পদ ও আধিপত্য ধরে রাখতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান ফারুক এবং তার ছেলে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খান আহমেদ শুভ এমপিকে প্রেসক্লাবের সদস্যপদ দেন। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি জোয়াহেরুল ইসলাম, টাঙ্গাইল সদরের এমপি ও আওয়ামী লীগ নেতা ছানোয়ার হোসেন, জেলা যুবলীগের সহসভাপতি ও পরিবহন ব্যবসায়ী গোলাম কিবরিয়া বড় মনি, জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য সুজয় দেবসহ আওয়ামী লীগের অন্তত ১৫ নেতাকে প্রেসক্লাবের সদস্যপদ দেয়া হয়। এছাড়াও আওয়ামী সমর্থক অন্তত ২০ জনকে ডিগ্রি পাশের জাল সনদের মাধ্যমে সদস্যপদ প্রদান করেন তিনি। এভাবে বিশাল ভোট ব্যাংকের মাধ্যমে বছরের পর বছর ক্ষমতা আঁকড়ে রেখেছেন জাফর। আওয়ামী লীগের গত ১৭ বছর টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব জেলা আওয়ামী লীগের বিকল্প কার্যালয়ে পরিণত হয়। আওয়ামী নেতাদের সকল অবৈধ আয়ের একটা অংশ পেতেন তিনি। গত ৫ আগষ্ট ফ্যাসিষ্ট হাসিনা সরকারের পতন হলে বিক্ষুদ্ধ সাংবাদিকরা প্রেসক্লাব থেকে জাফর আহমেদ ও তার সহযোগীদের বের করে দেয়। এসময় প্রেসক্লাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও তার অনুসারীদের প্রতিদিনের জুয়ার আড্ডাস্থল ভেঙ্গে দেয়া সাংবাদিকরা। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা জাফর আহমেদকে শেল্টার দিয়ে পুনর্বহাল করে। মরহুম আব্দুল গনি সরকারের ছেলে জাফর আহমদে একসময় জাসদের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল। ২০০৬ সালে তিনি অর্থের বিনিময়ে বিএনপির জেলা কমিটির সদস্যপদ লাভ করেন। এরপর মোটা অংকের টাকা দিয়ে জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক পদ পান। ২০১১ সালে জাফর বিএনপির প্রার্থী হয়ে টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দিতা করেন। তবে নির্বাচনের আগের দিন আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সাথে আতাঁত করে কোটি টাকার বিনিময়ে নির্বাচন থেকে সরে যান। এরপর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে বোল পাল্টে আওয়ামী লীগার হয়ে যান তিনি। আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মসূচিগুলোতে জয় বাংলা স্লোগান স্লোগান দিয়ে নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষন করেন। মোবাইলে ধারন করা জাফরের জয়বাংলা স্লোগানের ভিডিও মানুষের হাতে হাতে রয়েছে। ২০২২ সালে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে ১৫ আগষ্ট উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় তিনি সারাবিশ্বে ১৫ আগষ্ট পালনের দাবিও জানান। তার এই দাবি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। বহুরূপী, ক্ষমতালোভী ও অর্থলোভী আওয়ামী দোসর জাফর সাংবাদিকদের গ্রেফতারের দাবি এখন গোটা টাঙ্গাইলবাসীর। বিএনপির কয়েকজন নেতার সাথে কথা হলে, নেতৃবৃন্দ এ প্রতিবেদককে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার আমলে জাফর আহমেদ বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। এখন তিনি নতুন করে শীর্ষ দুই নেতাকে হাত করে টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন প্রোগ্রামে অতিথি হচ্ছেন। টাঙ্গাইলে এই বিষয়টি নিয়ে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। এই ধরনের চরিত্রহীন একজন মানুষ অতি তাড়াতাড়ি বোল্ট পাল্টে বিএনপি নেতা সেজে যাওয়ায় টাঙ্গাইলে একাধিক গ্রুপিংয়ের জন্ম হয়েছে। টাঙ্গাইলে বিএনপিকে নস্যাৎ করতে জাফরের কূটবুদ্ধির কাছে অনেকেই হার মেনেছেন। অবিলম্বে জাফর আহমেদকে বিভিন্ন মিটিং-মিছিলে যোগদান বন্ধ করা হোক। অন্যথায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোটা টাঙ্গাইলের প্রভাব পড়বে।
বৈশাখী টিভি কর্তৃপক্ষের কাছে টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি জাফর আহমেদের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে, কর্তৃপক্ষ বলেন বিষয়টি খতিয়ে দেখে জাফরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এক প্রশ্নবানে কর্তৃপক্ষ বলেন, তার অনেক ডকুমেন্টস আমাদের হাতে এসেছে। যাচাই-বাছাই করে অবশ্য ই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই প্রতিনিধির কারণে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে বৈশাখী টিভির এক কর্মকর্তা বলেন প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি ও বদনাম হয় এই ধরনের লোককে কোনভাবেই রাখা যাবে না। সূত্র জানায়, আওয়ামী দোসর, সাবেক হেড অব নিউজ অশোক চৌধুরীর আশীর্বাদপুষ্ঠ জাফর আহমেদ টাঙ্গাইলের নিউজ কভারেজ এ সক্রিয় না থাকলেও তদবিরের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে সকলের কাছে পরিচিত মুখ। এ ব্যাপারে যুগান্তর কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা বলেন, জাফর আহমেদের অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা এ বিষয়ে জানান, ইতোমধ্যে আমাদের কাছে বিভিন্ন মাধ্যমে অভিযোগ এসেছে। তার কিছু ভিডিও এবং তথ্য উপাত্তও এসেছে। তদন্ত সাপেক্ষে তার কর্মস্থলে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ করা হবে।