স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) আদালতের স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও ২৫৭ প্রকৌশলীর পদোন্নতি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। পঞ্চম গ্রেডের নির্বাহী প্রকৌশলীর শূন্য পদে চলতি দায়িত্ব প্রদানের লক্ষ্যে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘শূন্য পদে চলতি দায়িত্ব প্রদান নীতিমালা, ২০২৩’-এর ৮(৮) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রকল্প থেকে আসা কোনো কর্মকর্তা রাজস্ব বাজেটে নিয়মিত না হলে তাঁকে চলতি দায়িত্ব দেওয়া যাবে না।
অনিয়মের অভিযোগ
এলজিইডিতে ২৫৭ প্রকৌশলীর চাকরির উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তর এবং নিয়মিতকরণে নানা অনিয়ম ধরা পড়েছে। তদন্তে দেখা গেছে:
সাতম গ্রেডে সিলেকশন গ্রেড দেওয়া ও ষষ্ঠ গ্রেডে পদোন্নতি আইনগতভাবে অনুমোদিত ছিল না। পদোন্নতির ক্ষেত্রে সব বিধি-বিধান উপেক্ষা করা হয়েছে।
রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের জন্য অর্থ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশও নেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালে ১৩১ জন, ২০১১ সালে ১০৯ জন এবং ২০১৩ সালে ১৭ জন প্রকৌশলী উন্নয়ন প্রকল্প থেকে এলজিইডির রাজস্ব খাতভুক্ত সহকারী প্রকৌশলী (পুর) পদে স্থানান্তরিত হয়েছেন।
আদালতের ব্যবস্থা ও তদন্ত
প্রথম আলোতে ২০২৩ সালের ২৮ জুন এবং ২০২৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর পর হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন আইনজীবী আরিফ চৌধুরী।
২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর আদালত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে তিন মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেন।
২০২৫ সালের ৩ জুলাই বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি ফয়েজ আহমেদের দ্বৈত বেঞ্চে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।
তদন্ত কমিটি অনিয়মগুলো নিশ্চিত করে: রাজস্ব খাতে স্থানান্তর, পদোন্নতি এবং সিলেকশন গ্রেড প্রদান সবই আইনবিরোধী।
নতুন পদোন্নতির উদ্যোগ
উচ্চ আদালতের মামলার কার্যক্রম চলাকালীন এলজিইডি ২৫৭ প্রকৌশলীর আরও পদোন্নতির প্রস্তুতি শুরু করে। ৬ আগস্ট শুনানিতে আদালত স্থগিতাদেশ জারি করেন।
চলতি (সেপ্টেম্বর) মাসের শুরুতে এলজিইডি পঞ্চম গ্রেডের নির্বাহী প্রকৌশলীর শূন্য পদে চলতি দায়িত্ব প্রদানের প্রস্তাব পাঠায়।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করেছে; কমিটির সভা ২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।
কমিটির সভাপতি, স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. শাহজাহান মিয়া জানিয়েছেন, আদালতের স্থগিতাদেশ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনসহ সব নথিপত্র পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়া
পিএসসির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রকৌশলীরা বলছেন, প্রকল্প থেকে আসা প্রকৌশলীদের কারণে তারা ২০০৮ সালের পর প্রাপ্য পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
তাদের মতে, আদালতের স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও চলতি দায়িত্ব প্রদানের কার্যক্রম আদালতের অবমাননার শামিল হতে পারে। এ নিয়ে এলজিইডিতে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

