ঢাকাTuesday , 2 September 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আগৈলঝাড়ায় নিপু- মঞ্জু সন্ত্রাসীদের টার্গেটে ড. জন নিহার বিশ্বাস মেমোরিয়াল ট্রাস্ট!

Link Copied!

বরিশালের আগৈলঝাড়ার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী মাজহারুল ইসলাম নিপু ওরফে নিপু হাওলাদারের (৪৮) বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে নানা অনৈতিক ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তার ও তার প্রধান সহযোগী মঞ্জু বালার বিরুদ্ধে আগৈলঝাড়ার বাগধা ইউনিয়নের আস্করে এলাকার গরীব, দুস্থ ও শিশুদের নানবিধ উন্নয়নমূলক কাজের জন্য স্থাপিত ড. জন নিহার বিশ্বাস মেমোরিয়াল ট্রাস্ট (সাবেক বাংলাদেশ মিশন সার্ভিস) নামের এক সেবামূলক প্রতিষ্ঠানকে চুরি, সন্ত্রাস, জালিয়াতিসহ নানা অপকৌশলে কুক্ষিগত করার জন্য অপচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে নিপু হাওলাদার ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তিনি ভোল পাল্টে কখনো বিএনপি কখনো এনসিপির নাম ভাঙ্গিয়ে নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। আগৈলঝাড়ার বাগধা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান চক্রিবাড়ি গ্রামের স্কুলশিক্ষক মৃত নিজামুল ইসলামের ছেলে মাজহারুল ইসলাম ওরফে নিপু হাওলাদার সম্পর্কে জানা যায়, ২০০৮ সালের ২৬ জুলাই উজিপুর উপজেলার জয়শ্রী গ্রামের জনৈক করিম মাস্টারের বাড়ির সামনে থেকে একটি সাদা প্রাইভেট কারে বস্তায় ভরা ৭৩৯ বোতল নিষিদ্ধ মাদক ভারতীয় ফেন্সিডিলসহ তৎকালীন ছাত্রলীগ নিপু হাওলাদারকে গ্রেফতার করা হয়। তার সঙ্গে রোজনুজ্জামান জনি নামের এক সহযোগী ছিল। র‌্যাব-৮-এর একটি দল তাদের আটক করে। পরে দুজনকে উজিরপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ নিয়ে র‌্যাব-৮ এর ১নং কোম্পানির ডিএডি কামাল আতাতুর্ক চৌধুরী বাদী হয়ে উজিরপুর থানায় একটি মামলা করেন। তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা নিপু হাওলাদারের নিষিদ্ধ মাদক ফেন্সিডিলের চালানসহ গ্রেফতার হওয়ার ঘটনা নিয়ে পত্র-পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তার মধ্যে ২০০৮ সালের ১০ আগস্টে ঢাকার জাতীয় দৈনিক সংবাদ-এ “আগৈলঝড়ায় হাতের নাগালেই মাদক : ধ্বংস হচ্ছে যুবসমাজ” শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বরিশালের আগৈলঝড়ার উপজেলায় প্রশাসনের নাকের ডগায় অবাধে মাদকদ্রব্য বিক্রি হচ্ছে। রিপোর্টে র‌্যাবের হাতে নিপু হাওলাদারের গ্রেফতার হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে বলা হয়, আগৈলঝাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গ্রেফতারকৃত ফেনসিডিল সম্রাট নিপুর মাধ্যমে মাদকদ্রব্য বেচাকেনা হতো। আগৈলঝাড়া প্রতিনিধির পাঠানো ওই রিপোর্টে বলা হয়, আগৈলঝাড়া উপজেলার পায়রারহাট, গৈলাবাজার, শিহিপাশা, সাহেবের হাট, চক্রিবাড়ী (বাঁশতলা), পাকুরিতা, রথবাড়ী, জোবারপাড়, কালুরপাড়, আস্কর, বারপাইকা, বাকাল, রাত্রিহার, বাশাইল, কাঠিরা, রামেরবাজার, নিমতলা, মিশ্রিপাড়া স্পটগুলোতে মাদক বিক্রি ছিল প্রায় ওপেন সিক্রেট। নিপু স্থানীয় এনজিও বাংলাদেশ মিশন সার্ভিসে চাকরির ছত্রচ্ছায়ায় কোটালীপাড়ার এক প্রভাবশালী বিএনপি নেতার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসায় জড়িত রয়েছে। আমবৌসা গ্রামের মিনি গডফাদার বাদল হচ্ছে তার শেল্টারদাতা। বিপুল পরিমাণের ফেন্সিডিলসহ গ্রেফতারের পর নিপু হাওলাদার জেলখানায় ছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর প্রভাবশালী মহলের চেষ্টা-তদবিরের মুখে জেলখানা থেকে বেরিয়ে আসেন। আগের মতোই মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধমুলক কাজে জড়িয়ে পড়েন। এর মধ্যে তার টার্গেটে পরিণত হয় আস্করে প্রতিষ্ঠিত সাবেক বাংলাদেশ মিশন সার্ভিস, যা বর্তমানে ড. জন নিহার বিশ্বাস মেমোরিয়াল ট্রাস্ট নামে পরিচিত। এই প্রতিষ্ঠানটিকে নিপু হাওলাদার এখন ছলেবলেকৌশলে কুক্ষিগত করার অপচেষ্টাই শুধু করছে না। তার উদ্দেশ্য এলাকার সুনামখ্যাত এই প্রতিষ্ঠানকে দখল করে এর আড়ালে মাদক ব্যবসাসহ নানা অসামাজিক ও অপরাধমূলক কর্মকা- চালিয়ে যাওয়া। মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী মাজহারুল ইসলাম ওরফে নিপু হাওলাদার ও তার সহযোগীদের কুনজর পড়েছে আগৈলঝড়ার যে প্রতিষ্ঠানটির ওপর সেই ড. জন নিহার বিশ্বাস মেমোরিয়াল ট্রাস্ট সম্পর্কে জানা যায়, ১৯৮৬ সালে আস্কর গ্রামে এলাকার অসহায় নারী, শিশু ও বয়স্কদের শিক্ষা, চিকিৎসা, দান-অনুদান ইত্যাদি সেবামূলক কাজের লক্ষ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. জন নিহার বিশ্বাস ও তাঁর স্ত্রী নওমী নিহার বিশ্বাস বাংলাদেশ মিশন সার্ভিস প্রতিষ্ঠা করেন। তাদের নিজস্ব অর্থ, জমি ও শ্রমে এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়। পরবর্তীতে এর নামে পরিবর্তন করা হয়। উল্লেখ্য যে এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার অনেক আগে থেকেই ড. জন নিহার বিশ্বাস সপরিবারে আমেরিকায় বসবাস করতেন। প্রয়োজনে তাদের বাংলাদেশে আসা-যাওয়া ছিল। এই অবস্থায় ২০২১ সালের ১১ মার্চ ড. জন নিহার বিশ্বাস আমেরিকায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর স্ত্রী নওমী নিহার বিশ্বাস প্রতষ্ঠিানটি পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অদ্যাবধি তাই করছেন। কিন্তু প্রতিষ্ষ্ঠান হতে বরখাস্তকৃত নিপু হাওলাদার ও তার সহযোগী মঞ্জু বালার মদতপুষ্ট কুচক্রী মহল প্রতিষ্ঠানটি দখলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। এজন্য তারা প্রয়াত ড. জন নিহার বিশ্বাসের মতো এক মানবদরদী ব্যক্তিত্বের চরিত্রে কালিমা লেপন থেকে শুরু করে স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ও সুনাম বিনষ্টের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য যে নিপু হাওলাদার একসময় প্রতিষ্ঠানের মিস্ত্রি পদে ও মঞ্জু বালা কেয়ারটেকার কাম ম্যানেজার পদে কর্মরত ছিলেন। অপরাধমূলক কর্মকান্ডের জন্য বরখাস্ত হওয়ার পর থেকে তারা প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছেন বলে জানা গেছে। এরা দুজন চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর থেকেই তাদের সহযোগীদের নিয়ে প্রতিষ্ঠানের ৭ লক্ষ টাকা চুরি করে ক্যাম্পাসে অবস্থিত স্কুল বন্ধ করে ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে আসতে বাধা প্রদান, প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদেরও অফিসে প্রবেশ করে কাজে বাধা দেওয়া এবং নানা ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি-ধামকি প্রদানসহ সিসিটিভি চুরির মতো অপরাধ করেই ক্ষান্ত থাকেনি, তারা জোর করে প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে প্রবেশ, বহিরাগতদের নিয়ে নানা অনৈতিক-অসামাজিক কাজও চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের অপকর্ম থেকে সেখানকার গীর্জার মতো ধর্মীয় স্থানও রেহাই পাচ্ছে না। এছাড়া ড. জন নিহার বিশ্বাস মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নিরীহ কর্মকর্তাদের নামে একাধিক ভুয়া মামলা দিয়েও হয়রানি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, নিপু হাওলাদার ও মঞ্জু বালা গং এর বিরুদ্ধে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ট্রাস্টের সম্পত্তি বেদখলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ ও রয়েছে। তারা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক নওমী নিহার বিশ্বাস এবং অন্যান্যদের স্বাক্ষর জাল জালিয়াতি করে বরিশালের জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে ড. জন নিহাররঞ্জন বিশ্বাস সেমিনারী অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম নামে নিবন্ধনের আবেদন করে। একই কায়দায় তারা ড. জন নিহার বিশ্বাসের ক্রয়কৃত জমিজমাসহ বিভিন্ন স্থাপনা ও সম্পত্তি হাতিয়ে নিতে ভুয়া বিবাহ সনদ পর্যন্ত তৈরি করেছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও তারা নানা কায়দায় প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি লুটপাট করে যাচ্ছে। এই অবস্থার সংঘবদ্ধ মাস্তানিসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের দুষ্টচক্রের সামনে আস্কর অবস্থিত ড. জন নিহার বিশ্বাস মেমোরিয়াল ট্রাস্টের অসহায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এক আতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে বলে জানা গেছে। এমনকী ড. জন নিহার বিশ্বাসের আত্মীয়-স্বজনেরাও নিরাপত্তাহীন অবস্থায় মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছে। এ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার প্রবীর বৈষ্ণব গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর আগৈলঝাড়া থানায় একটি জিডি (নং ৫০১) করেছিলেন বলে জানা যায়। তাতে অবস্থার হেরফের ঘটেনি বরং নিপু হাওলাদারের মতো চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী মঞ্জু বালা সহ তাদের সহযোগীদের দৌরাত্ম দিন দিন বেড়ে চলেছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে এলাকাবাসী, স্থানীয় জনসাধারণ, প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সুবিধাভোগী পরিবারগুলো একযোগে দাবি তুলেছেন নিপু-মঞ্জুবালা চক্রের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে যেন এই সামাজিক দাতব্য প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ব্যাহত না হয় বা বন্ধ হয়ে না যায়। এ ব্যাপারে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও সদয় দৃষ্টি প্রত্যাশা করেছেন তারা।