উত্তরা ১৪ নাম্বার সেক্টরে, গাউসুল আজম এভিনিউ এ ক্যাম্পফায়ার নামক একটি মদের বারে নারী সংগীত শিল্পীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটে গত ২৪ আগস্ট দিবাগত রাত অনুমানিক ৩:৩০ ঘটিকার দিকে। ভুক্তভোগী নারী সঙ্গীত শিল্পী নুসরাত ফেরদাউস জানান, খাবার ও সঙ্গীত পরিবেশনের শেষে রাত ৩.৩০ মিনিটে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। তখন আকাশ আলমগীর নামক এক ব্যক্তি নেশায় আসক্ত অবস্থায় আমাকে হেনস্তা করতে শুরু করে। এক পর্যায়ে আমার শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দিয়ে উত্যক্ত করতে থাকে। তখন আমার সঙ্গীত টিমের সদস্য সাখাওয়াৎ বাধা প্রদানের উদ্দেশ্যে গেলে তাকেও এলোপাতাড়িভাবে মারধর শুরু করে। সাখাওয়াৎ এ বিষয়ে বলেন, ঘটনার রাতে আনুমানিক ২.৩০ ঘটিকায় আমাদের টিমের ২ জন মেয়ে সঙ্গীত শিল্পীসহ বাদ্যযন্ত্র ও সহকারী নিয়ে মোট ৮ জন ক্যাম্পফায়ার বারে সংগীত পরিবেশন করতে যাই। সঙ্গীত পরিবেশনের শেষে খাবার খেয়ে বিশ্রাম নেয়ার সময় নারী সংগীত শিল্পী নুসরাতকে শারীরিক হেনস্তা করতে দেখে আমি বাধা প্রদান করতে গেলে আকাশ আলমগীর আমাকেও মারধর শুরু করে। আমাকে ও নুসরাতকে উদ্ধারে আমাদের সঙ্গীরা এগিয়ে আসলে ক্যাম্পফায়ারের বাউন্সাররাসহ অজ্ঞাত ৫/৬ জন তাদেরকেও আক্রমণ করে ও অত্যাধুনিক ছুরি দ্বারা যখম করে। এ সময় তারা আমাদের সাথে থাকা নগদ টাকা ও ৩টি স্বর্ণের চেইন জোর পূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ছিনতাই ও লুটে সহযোগিতা করেন বারের এ্যারেন্জার মোখলেস, বাউনচার, মালিক জনি, সোহেল ও মনিরও নাম না জানা আরো ৪ জন। বাউনচার ও তাদের গুন্ডা বাহিনী আমাদেরকে শারীরিক আঘাত করতে করতে ৫ম তলা থেকে সিঁড়ি দিয়ে নিচ তলায় নিয়ে আসে। পরে আমারা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেই। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ক্যাম্পফায়ার নামক রেষ্টুরেন্ট ও বারটির শুধু লোকাল পানীয় বিক্রির অনুমতি রয়েছে, কোন ধরনের সংগীত পরিবেশন কিংবা লেট নাইট ক্লোজিংয়ের অনুমতি নেই। কিন্তু তারা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা উত্তরের উপ-পরিচালক শামীমকে ম্যানেজ করে দেদারসে বিদেশীয় পানীয় এবং পারমিট ছাড়া অপ্রাপ্ত বয়স্কদের কাছে মদ বিক্রি অব্যাহত রয়েছে। তারা সংগীত পরিবেশনের অনুমতি ছাড়াই, সংগীত ও অশ্লীল নৃত্য পরিবেশন করে যাচ্ছে। যার ফলে ঐ এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ক্যাম্পফায়ার বারটির কারণে লোকজন মদ্যপ অবস্থায় বাহির হয়ে প্রত্যেকদিন রাত ৪ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত হাতাহাতি, মারামারি করতে থাকে। বারের সামনে রাস্তায় প্রায়ই মারপিটের ঘটনা ঘটে এবং মদ্যপদের চিৎকার চেঁচামেচিতে এলাকায় সাধারণ জনগণের বসবাস করা দ্বায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘটনার পরে সকালে সাখাওয়াৎকে মুঠোফোনে আকাশ আলমগীর ভাড়াটিয়া খুনি দ্বারা প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে জানিয়েছেন সাখাওয়াৎ। এ বিষয়ে সাখাওয়াৎ হোসেন উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ শামীম হোসেন বলেন, উক্ত বারের মালিকের সাথে আমার ব্যক্তিগত কোন সম্পর্ক নেই, অনুমোদন ছাড়া কোন কার্যক্রম চালালে বিষয়টি আমি সংশ্লিষ্ট ইন্সপেক্টরকে আমি খতিয়ে দেখতে বলবো। অভিযোগের বিষয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুর রহিম মোল্লা বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, এখন তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

