নিজস্ব প্রতিবেদক: নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার স্ত্রী মেহের নিগার জেলগেটে ডাক্তারের উপস্থিতিতে মান্নাকে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানিয়েছেন। এর পাশাপাশি তাকে জামিনে মুক্তি দেয়ারও আবেদন জানান তিনি ।
মান্নার স্ত্রী এ ব্যাপারে যুক্তি দেখিয়ে বলেন, ‘একজন অসুস্থ মানুষের প্রতি রিমান্ডের নামে কী ধরনের আচরণ করা হয়েছে তা গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি হওয়া থেকেই বোঝা যায়। কারান্তরালে মান্নার সুচিকিৎসা ও আইনানুগ সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত থাকলে তিনি সুস্থ হয়ে দেশসেবায় রাজনীতিতেতে সক্রিয় থাকতে পারবেন।’
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর তোপখানা রোডে নাগরিক ঐক্যের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তার মেয়ে নিলয় মান্নাও উপস্থিত ছিলেন।
মেহের নিগার বলেন, ‘মাহমুদুর রহমান মান্না রাজনীতি করেন। দীর্ঘদিন ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। চাকসুর জিএস ও দু-দু’বার ডাকসুর ভিপি ছিলেন। তিনি কখনও সন্ত্রাস-সহিংসতা, ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত বরদাশত কনেনি। ফোনালাপে তার কথা বিকৃত করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা আমাদের ব্যথিত করেছে।’
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়ায় সুষ্ঠুভাবে বিচার হলে মান্না নিরাপরাধী হিসেবে মুক্ত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন। সে সুযোগ থেকে যেন তাকে বঞ্চিত করা না হয়।’
মান্নাকে জামিনে মুক্তি দেয়ার আবেদন জানিয়ে তিনি জানান, আদালতে মান্নার অসুস্থতার কথা জানিয়ে ডাক্তার ও আইনজীবীর উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদনও করেছেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তার কোনো কথায় কর্ণপাত করেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মেহের নিগার বলেন, ‘মাহমুদুর রহমান মান্না আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং যেকোন প্রকার আইনানুগ বিচারের সম্মুখীন হতে তিনি রাজি আছেন। প্রয়োজনে তাকে জেলগেটে ডাক্তারের উপস্থিতিতেও জিজ্ঞাসাবাদ করা যেতে পারে।’
মেহের নিগার বলেন, ‘গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বনানীর এক আত্মীয়ের বাসা থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর মান্না ২১ ঘন্টা নিখোঁজ ছিলেন। এসময় আমাদের দুঃসহ অবস্থা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিশেষ করে যখন কর্তৃপক্ষ গ্রেপ্তারের কথা অস্বীকার করে। শেষ পর্যন্ত র্যাবের পক্ষ থেকে ধানমন্ডিতে ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে গ্রেপ্তার দেখিয়ে মান্নাকে গুলশান থানায় হাজির করা হয়। এর মধ্যেই পরপর দুটি মামলা দিয়ে তাকে ২০ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। ১০ দিনের প্রথম রিমান্ডের সময় আমাদের সঙ্গে তার সাক্ষাত ও ওষুধপত্র দেওয়ার কোন সুযোগও পাইনি ‘
তিনি জানান, তার স্বামীর বুকে তিনটার বেশি ব্লক ধরা পড়েছে আগে করা এনজিওগ্রামে। সম্প্রতি গ্রেপ্তার ও মানসিক নির্যাতনের কারণে তার হার্টের পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়ে গেছে। তিনি সরকারের কাছে মান্নার শরীরের যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সুচিকিৎসার আবেদন জানান।

