ঢাকার কোতয়ালী থানা এলাকা অপহৃত এবং পরে কমলাপুর থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার হয় ব্যবসায়ী শাহিনের লাশ। নিহতের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ শাহিনকে অপহরণ করে কৌশলে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের দায়িত্বহীনতা ও উদাসীনতার কারনেই মারা গেছেন ২ নং কুমারটুলী আকলিমা গোল্ড কমপ্লেক্সের অপহৃত এ ব্যবসায়ী।
এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ২ জনকে গ্রেফতার করা হলেও যার হাতে ধারালো অস্ত্র দেখা গেছে তাকে গ্রেফতার না করায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শাহীনের পরিবার এ মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) দিয়ে তদন্তের দাবি জানান। গত ১৮ জুলাই নিজ ব্যবসা প্রতিষ্টান থেকে শাহীন অপহৃত হলেও তাকে অর্ধমৃত অবস্থায় গত ৩ আগষ্ট কমলাপুরে ফেলে যায় অপহরণকারী চক্র। ওই সময়েও তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি প্রশাসন। তার মৃত্যুর পর রেলওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে মৃত সংবাদ জানানো হয় পরিবারকে। গত শনিবার দুপুরে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন শাহীনের বড় ভাই মো: মানিক। তিনি বলেন, কোতয়ালী এলাকায় বসবাস করতেন শাহীন। ৬ মাস পূর্বে শাহীন স্ত্রীসহ ওয়ারী থানাধীন ৯৯৯ লালমোহন শাহা স্ট্রিটের শ্বশুরের বাসায় বসবাস করা শুরু করে। একই সাথে স্বামী-স্ত্রী মিলে কোতয়ালী থানাধীন কুমারটুলির আকলিমা গোল্ড কমপ্লেক্সের নিচ তলায় বাহার ফটোস্ট্যাস্ট নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালাতেন।
ক্লোজ সার্কিট ক্যামের ফুটেজে দেখা গেছে, ঘটনার দিন গত ১৭ জুলাই দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে শাহীন দোকান বন্ধ করার সময় শাহীনের শ্বশুর নাসির উদ্দিন, শ্যালক আকাশ, আত্নীয় সাইদসহ কয়েকজন মিলে ছুরিহাতে শাহীনকে টানা হেঁচড়া করে। এরপর তারা শাহীনকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরদিন সকালে এ ব্যাপারে কোতয়ালী থানায় জিডি করা হয়। কিন্তু পুলিশ কোনো গুরুত্ব দেয়নি। গত ৩ আগস্ট সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় শাহীনকে ৬/৭ জন ব্যক্তির উপস্থিতিতে ২ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি নারায়নগঞ্জ থেকে আসা একটি ট্রেন থেকে কমলাপুর ১৪ নম্বর প্লাটফর্মে হাত পা ধরে নিচে নামিয়ে দেয়। শাহীন বাঁচার জন্য দু’হাত দিয়ে ইশারায় সকলের প্রতি আকুল আবেদন করলেও কেউ সাড়া দেয়নি। এরপর তিনি প্রায় ৩ ঘন্টা জীবিত ছিলেন। রাত দেড়টার রেলওয়ে পুলিশ পরিবারের সসদ্যদের খবর দেন। মানিক জানান, তার ভাই শাহীনকে অপহরণ করা থেকে শুরু করে ফেলে দেয়া পর্যন্ত দৃশ্যাবলি সিসি ফুটেজে মিলেছে। কিন্তু কোতয়ালী থানা পুলিশকে বার বার অপহরণের বিষয়টি বলা হলেও পুলিশ আসামিদের রহস্যজনক কারণে জিজ্ঞাসাবাদ করেনি। পুলিশ দায়িত্ব পালন করলে দীর্ঘ ১৫ দিনে তার ভাইকে উদ্ধার করা সম্ভব হতো। তিনি এ বিষয়ে পরবর্তীতে মামলা করেছেন। অভিযুক্তদের দ্রুত বিচার ও শাস্তি দাবি করেন।

