ঢাকাSaturday , 9 August 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সব দায় যেন সাব রেজিস্ট্রারদের!

Link Copied!

সারা দেশের সাব রেজিস্ট্রারদের জিম্মি করে কতিপয় দলিল লেখক আজ কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক বনে গেছেন। তারা সাব রেজিস্ট্রারদের নামে মোটা অঙ্কের অর্থ দাতাগ্রহীতার কাছ থেকে হাতিয়ে নেন। যা সংশ্লিষ্ট সাব রেজিস্ট্রারগণ জানেনও না। অথচ সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে তাদের। সারা দেশের সাব রেজিস্ট্রি অফিসগুলোর সঙ্গে পেশাগত কাজে দলিল লেখকগণ ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকেন। যে কারণে দাতাগ্রহীতারা দলিল লেখকদের গভীরভাবে বিশ্বাস করেন। অন্যদিকে সাব রেজিস্ট্রারগণও তাদের আস্থায় রাখেন। আর এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে তারা হাতিয়ে নেন মোটা অঙ্কের অর্থ। অনেকেই ঠাট্টা করে বলেন, ‘সাব রেজিস্ট্রারদের চেয়ার টেবিলও দলিল লেখকগণ বিক্রি করে ফেলেন’। বিশ্বস্ততার সুযোগ নিয়ে দলিল রেজিস্ট্রি সাপেক্ষে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন দুর্নীতিগ্রস্ত কতিপয় দলিল লেখক। অথচ তারা থাকেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। সূত্র জানায়, আইজিআর অফিস থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্তি সাপেক্ষে দলিল লেখকরা অনেক ক্ষেত্রেই সাব রেজিস্ট্রারদের উপর নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করে ত্রুটিপূর্ণ দলিলও সম্পাদন করতে বাধ্য করেন। আর এই সুযোগে দুর্নীতিগ্রস্ত দলিল লেখকরা মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে হাতিয়ে নেন দাতাগ্রহীতার কাছ থেকে। যে কারণে তারা অনেকেই বছরান্তে নতুন নতুন মডেলের গাড়ী পরিবর্তন করেন। প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিত্তের মালিক বনে যাওয়ায় একাধিক আলিসান ফ্ল্যাটের মালিকও হয়েছেন তারা। এ যেন আলাদীনের চেরাগের গল্পকেও হার মানায়। অভিযোগ রয়েছে, ঐসব দুর্নীতিগ্রস্ত দলিল লেখক সাব রেজিস্ট্রি অফিসের সেরেস্তার নাম ব্যবহার করে নামকাওয়াস্তে উৎকোচ দিয়ে সমুদয় অর্থ হাতিয়ে নেন। কিন্তু দাতাগ্রহীতার কাছে তারা সৎ মানুষের ভূমিকায় আবির্ভূত হন। এভাবে যুগের পর যুগ চলে আসলেও এ নিয়ে কারো যেন কোন মাথা ব্যথা নেই। বাংলাদেশের সকল সাব রেজিস্ট্রি অফিসকে একটি দুষ্টচক্র ঘুষের স্বর্গ রাজ্যে পরিণত করলেও সকল দায় বহন করতে হচ্ছে সাব রেজিস্ট্রারদের। সূত্র জানায়, সাব কবলা দলিলের মূল্যের উপর নির্ধারিত হারে কমিশন সাব রেজিস্ট্রি অফিসের নামে দাতাগ্রহীতার কাছ থেকে হাতিয়ে নিলেও নামকাওয়াস্তে অর্থ দিয়ে সমুদয় অর্থ হাতিয়ে নিলেও তা যাচাই করা সম্ভব না হওয়ায় সকল দায় বহন করতে হচ্ছে সাব রেজিস্ট্রারদের। অনেক সময় ত্রুটিপূর্ণ দলিলে মোটা অঙ্কের অর্থের লোভ দেখিয়ে দাতাগ্রহীতার কাছ থেকেও বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেন দুর্নীতিগ্রস্ত দলিল লেখকরা। ‘ঠাকুর ঘরে কে রে কলা আমি খাই না’-এমনভাব দুর্নীতিগ্রস্ত দলিল লেখকদের মধ্যে। অথচ তারা অনেকেই আজ কোটি কোটি টাকার মালিক। থাকেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। আধুনিক যুগেও ম্যানুয়াল পদ্ধতির কারণে দুর্নামের সকল দায় বহন করতে হচ্ছে সাব রেজিস্ট্রারদের। অথচ সাব রেজিস্ট্রারগণ বিভিন্ন পাবলিক বিশ্বব্যিালয় ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। তারা বিসিএস (নন ক্যাডার) কর্মকর্তা। শিক্ষা জীবনে অনেকেই মেধা তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করে। কিন্তু মধ্যস্বত্ত্বভোগীরে কারণে সাব রেজিস্ট্রারগণ ঘুষখোর কর্মকর্তা হিসেবে সমাজে পরিচিত। বিগত স্বৈরশাসকের আমলে রাজনৈতিকভাবে এই সেক্টর থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন কতিপয় দুর্নীতিগ্রস্ত দলিল লেখক। তারা অনেকেই নামে বেনামে অঢেল সম্পদের পাহাড়ও গড়ে তুলেছেন। যে কারণে অনেক দুর্নীতিগ্রস্ত দলিল লেখককে মদের আড্ডা কিংবা মনোরঞ্জনেও ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। অনেকের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারিরও অভিযোগ রয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, দুর্নীতিগ্রস্ত দলিল লেখকদের লাগাম কে টেনে ধরবে? রাস্ট্রীয় নীতিমালা কিংবা রেজিস্ট্রেশন ম্যানুয়াল উপেক্ষা করে কতিপয় দুর্নীতিগ্রস্ত দলিল লেখক সংশ্লিষ্ট সাব রেজিস্ট্রারদের নামে দাতাগ্রহীতাকে ছয়নয় বুঝিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। এই দুষ্টচক্রের বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে অকারণেই সাব রেজিস্ট্রারগণ পরিবার, সমাজ ও রাস্ট্রের কাছে এককভাবেই দায়ী থাকবে। রাজধানী ঢাকার তেজগাঁওস্থ রেজিস্ট্রশন কমপ্লেক্স থেকে শুরু করে সারা দেশের একই চিত্র। তবে সাব রেজিস্ট্রি অফিসের সামান্য বেতনভুক্ত কর্মচারিরাও এক্ষেত্রে কম দায়ী নয়। তারাও সাব রেজিস্ট্রারদের সুনাম ধ্বংসের অন্যতম কারণ। এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধে সংশ্লিষ্ট সকলের উপলব্ধি বোধ প্রসারিত না হলে এই দুষ্টচক্র থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব নয় বলে বিজ্ঞমহল মনে করেন। নিজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রমাণ করতে হলে এসব বিষয় কঠোর পক্ষেপ গ্রহণে সংশ্লিষ্ট সাব রেজিস্ট্রারকে আরও মনোযোগী হওয়া উচিত বলেও সচেতনমহল মনে করছেন।